TECH GURU, TECH-SCIENCE NEWS

"I celebrate myself, and sing myself,
and what I assume you shall assume,
for every atom belonging to me as good belongs to you."

Thursday, November 7, 2013

পেশা যখন যৌনতা: বিয়ে করলে সর্বনাশ, বিয়ে করা মানে গাধি হয়ে যাওয়া

পেশা যখন যৌনতা,‘বিয়ে করলে সর্বনাশ। বিয়ে করা মানে গাধি হয়ে যাওয়া।’পথের পাশে বেড়ে ওঠা মানুষের জীবন পথের মতোই বিচিত্র—কখনো বন্ধুর, কখনো মসৃণ। এসব মানুষের পরিচয়, জাতি, বর্ণ বা পেশার হদিসও ঠিক থাকে না। জীবন তাদের স্বপ্নহীন নয়, তবু হাতের কাছে পাওয়া পচা ফলটিই যেন বড় পাওয়া। এমন মানুষের যদি লোকলজ্জার বালাই না থাকে, যৌনতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে বাধা না থাকে, তবে হয়তো তাঁদের বেদিয়াই বলা চলে। ‘ইন্ডিয়া টুডে’র এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়েছে, এই বেদিয়াদের বাস ভারতের রাজস্থান রাজ্যের ভারতপুর জেলার মালাহা গ্রামে। তারা বাংলার বেদে সম্প্রদায়ের মতো নৌকায় নৌকায় ঘোরে না। সমতলে পথের পাশে বসত গাড়ে। যদি কোনো বেদিয়া নারী পথচারীকে ডেকে বলেন, ‘বসবেন নাকি?’, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় ভিন্ন কিছু। আসলে এই বেদিয়া নারীদের একটি বড় অংশ জীবনে যৌনতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। অবশ্য অনেক বেদিয়া নারী কিশোর বয়সে বিয়ে থা করে গ্রাম ছেড়ে দূরে গিয়ে বাস করেন, সংসার সাজান। এমন এক বেদিয়া নারী মঞ্জু ঠাকুর। বয়স ত্রিশের কোঠায়। তিনি জানান, তাঁদের সম্প্রদায়ের লোকদের বাস রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের মাঝামাঝি এলাকায়। তাঁদের সমাজে যৌনকর্মী হওয়ায় বাধা নেই। কেউ হতে চাইলে, সমাজ তাঁকে বাধা দেয় না। আসলে সমাজ যখন কারও দায় নিতে পারবে না, তখন তো তার জীবনযাপনে বাধা দিতে পারে না! মঞ্জু বলেন, ‘মাত্র ১০-১২ বছর বয়সে আমার বাবা আমাকে ধলপুরে এক ধনী ব্যবসায়ীর বাড়িতে যৌনকর্মী হিসেবে পাঠান।’ স্মৃতি হাতড়ে মঞ্জু বলেন, কুমারীত্ব হারানোর বদলে তিনি পেয়েছিলেন ১০ হাজার রুপি। তিনি বলতে থাকেন, ‘সে ২০ বছর আগের কথা। সে সময় একটা মেয়ের যা পাওয়া সম্ভব, তার সর্বোচ্চটা পেয়েছিলাম। এখনো জয়পুরের ধনী খদ্দেররা (যে পুরুষেরা যৌনকর্মীদের কাছে যান) আমার খোঁজে এখানে আসেন।’ কাস্টমারদের দৃষ্টি আকষর্ণে বেদিয়া নারীদের কড়া সাজ দরকার হয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডেএখন মালাহা গ্রামের শ খানেকের মতো নারী যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করেন। পেশার অংশ হিসেবে তাঁদের অদ্ভুত সাজগোজ করতে হয়। মুখে পুরু করে মেকআপ, ঠোঁটে উজ্জ্বল বর্ণের লিপস্টিক, আঁটোসাঁটো পোশাক পরে ধনী খদ্দেরদের জন্য প্রতিদিন অপেক্ষা করতে হয়। অনেকেই মনে করেন, বেদিয়াদের জোর করে এ পেশায় ঢোকানো হয়। অথচ এ কথা সত্য নয়। বিজেন্দর (৩৭) নামের এক পুরুষ বেদিয়া এসব অভিযোগের বিরোধিতা করেন। তাঁর ছয় বোন ও দুই খালা যৌন পেশার সঙ্গে জড়িত। বিজেন্দর বলেন, ‘তারা বিয়ে করবে, না কি যৌনতাকে পেশা হিসেবে নেবে, সে মতামত আগে নেওয়া হয়েছে।’যদিও মঞ্জু বলেন, ‘ধান্দা (ব্যবসা) ভালোই চলছে’ তবু তাঁকে অনেক বড় পরিবার চালানোর দায় বইতে হয়। বোন নিশা (২৫), রেশমা (২৪), খালা চাঁদনি, পাঁচ ভাই ও তাঁদের স্ত্রী-পুত্রসহ বিরাট এক পরিবার মঞ্জুর। তাঁর পঞ্চাশোর্ধ্ব মা সরোজ বলেন, ‘আমি ওদের বিয়ে দেওয়ার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওরা বিয়ে-সংসার করতেই চাইল না।’ নিশা বলেন, ‘বিয়ে করলে সর্বনাশ। বিয়ে করা মানে গাধি হয়ে যাওয়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিয়ের অর্থ হলো পুরুষদের জন্য রান্নাবান্না, কাপড় কাচা, বাসন ধোয়া, বাচ্চা পালা আর স্বামীর বোন-ঝিদের সেবা করা।’ মঞ্জু জানান, তাঁদের পেশায় খুব বেশি দক্ষতার প্রয়োজন নেই। খদ্দেররা এলে পথের পাশে একটা চাদর টানিয়ে আড়াল তৈরি করে ১০ মিনিটের জন্য শুয়ে পড়লেই হলো। যদি খদ্দেররা বেশি অত্যাচার করে, তবে চিত্কার করে ডাকলেই কাজ শেষ। পাড়ার পুরুষেরা এসে ওই খদ্দেরকে গণধোলাই দিয়ে দেবে।
বেদিয়া নারীরা কাস্টমারদের নিয়ে চাদর ঢাকা স্থানে সময় কাটায়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডেঅবশ্য বেদিয়াদের কম অত্যাচারের শিকার হতে হয় না। সরকার ও ক্ষমতাসীনেরা তাদের জমিজমা-সম্পত্তি দখল করে নেয়। ওদের উচ্ছেদের জন্য বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। তবে কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী চেষ্টা করছেন বেদিয়াদের সহায়তা করতে। বেদিয়াদের ছেলেমেয়েরা যাতে লেখাপড়া শিখতে পারে, সে জন্য স্কুল তৈরি করা হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী যৌনকর্মী রিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ের জীবন আমার মতো হবে না।’ তিনি নিয়মিতভাবে তাঁর ১১ বছর বয়সী মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যান। ‘আমাকে আমার ব্যবসা করতেই হবে, তবে আমি চাই আমার মেয়ে ভবিষ্যতে নিজে নিজের পেশা বেছে নিক।’ বেদিয়াদের কল্যাণে কাজ করছেন ভারতপুরের জেলা প্রশাসক নিরাজ কুমার পবন (৩৪)। স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ তাঁরই। তিনি বলেন, ‘১৮ বছরের কম বয়সী নারীরা এ পেশায় যান না।’ তিনি জানান, একসময় মঞ্জু যে বয়সে যে কাজের জন্য ১০ হাজার রুপি পেয়েছিলেন, এখন সে কাজের জন্য দেড় বা দুই লাখ রুপি দেওয়া হয়। পবন জানান, বেদিয়াদের জীবন দুঃসহ। বাড়িতে বিদ্যুত্ নেই, পানির সরবরাহ নেই। তাই ছেলে-পুলেদের লেখাপড়া করাতে চাইলে গ্রামের স্কুলের হোস্টেলে রাখতে হয়। ধনীরা বেদিয়াদের ভোটার হতে দেয় না, রেশনের কার্ড বরাদ্দ করে না। রবি কুমার (২৯) নামের এক দোকানদার জানান, ‘উঁচু জাতের লোকেরা আমাদের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বৈষম্য করে অথচ আমাদের মেয়েদের সঙ্গে শোবার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে। ওরা এজন্য ঠিকমতো টাকা-পয়সাও দিতে চায় না।’

Tuesday, October 22, 2013

মোবাইল ফোনের যত বদভ্যাস!


মুঠোফোন যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলেছে তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মানুষের মধ্যে নানান বদভ্যাসও গড়ে উঠছে। অনেকের কাছে জীবনের স্বাভাবিক সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে মুঠোফোন। নানা কাজে প্রতিদিন অসংখ্যবার চোখ রাখতে হয় মুঠোফোনের পর্দায় বা পরীক্ষা করে দেখতে হয় কেউ কল করেছে কি না। মানুষের সঙ্গে বারবার যন্ত্রের এই ক্ষণিকের সাক্ষাৎকে গবেষকেরা বলেন, ‘মাইক্রো-ইন্টারঅ্যাকশন’। অভ্যাসবশত গড়ে ওঠা মাইক্রো-ইন্টারঅ্যাকশন মানুষের জীবনে যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠতে পারে। মুঠোফোন-সৃষ্ট বদভ্যাসের মধ্যে একটি হচ্ছে টয়লেটে বসে মোবাইলে বার্তা পাঠানো, কথা বলার মতো ঘটনা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের চালানো এক জরিপে দেখা গেছে প্রতি চারজনের অন্তত তিনজন টয়লেটে গিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। মুঠোফোনের কারণে গড়ে ওঠা অভ্যাসের আরেকটি হচ্ছে সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল খুঁজে বেড়ানো। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে যেখানেই মোবাইল ফোন রাখা হোক না কেনো সকালে ঘুম থেকে উঠে সবার আগে মোবাইল ফোনটি নেড়েচেড়ে দেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন অনেকেই। শুধু ঘুম থেকে জেগে মোবাইল হাতড়ানোই নয়, ঘুমাতে যাওয়ার আগে সর্বশেষ যে কাজটি অনেকেই করছেন তা হচ্ছে মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করা। মোবাইলের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা এখন অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অ্যাপ্লিকেশন কেনা থেকে শুরু করে স্মার্টফোনটিকে ফ্যাশন পণ্য হিসেবে ব্যবহার করতে অনেকেই এর পেছনে অঢেল অর্থ খরচ করছেন এখন। মুঠোফোন হাতে থাকায় যেখানে সেখানে সবকিছুরই ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন ব্যবহারকারী। আর অযথা এই ছবি তোলার অভ্যাস পরিণত হচ্ছে বদভ্যাসে। মুঠোফোনে গেম খেলা বা অতিরিক্ত সময় ভিডিও দেখার মতো অভ্যাসও তৈরি হচ্ছে। মুঠোফোনের চার্জার দেখলেই অনেক ব্যবহারকারীকে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা যায় যা তাঁর অভ্যাসের কারণে হতে পারে। মুঠোফোন ব্যবহারের ফলে দেখা যায় অনেকের কানে সব সময় হেডফোন দেওয়া রয়েছে। কান থেকে হেডফোন না খোলার কারণে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কথা শুনতে পান না ব্যবহারকারী। কানে সব সময় হেডফোন দিয়ে রাখাটাও বদভ্যাসের পর্যায়েই পড়ে। অনেকেই আবার মুঠোফোনে চ্যাটিং আর বার্তা পাঠানোর কাজে সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকেন আর এই সব সময় ব্যস্ত থাকার বিষয়টি বদভ্যাস বলে বিবেচিত হয়। অনেকেই খাওয়ার সময় তার মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। খাবার সামনে রেখে মুঠোফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে সময় কাটানোটা তখন বদভ্যাসের পর্যায়ে পড়ে। কারও জন্য যখন অপেক্ষা করতে হয় তখন সময় কাটানো কাটানোর উদ্দেশ্যে অনেকেই উদ্দেশ্যহীন ভাবে অ্যাপ্লিকেশন চালাতে শুরু করেন বা গেম খেলতে শুরু করেন। অনেকেই পাশে বসে থাকা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে আলাপচারিতায় যান না। এতে সামাজিকতা নষ্ট হয়। অতিরিক্ত মুঠোফোনের ব্যবহারে মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি হতে পারে বলে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন। স্বাভাবিক সুন্দর জীবন-যাপনে মুঠোফোনের যন্ত্রণা থেকে দূরে থাকতে সাতটি উপায় মানুষের জন্য কাজে লাগতে পারে। ১. বার্তা নয়, প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন ২. মাঝে মাঝে মুঠোফোন ব্যবহার থেকে নিজেকে বিরতি দিতে পারেন ৩. একসঙ্গে একাধিক কাজ এড়িয়ে চলুন এবং নির্দিষ্ট কাজে মনোযোগ দিন ৪. খাবার সময় মুঠোফোনের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন ৫. ছবি তোলার আগে নিজে উপভোগ করুন ৬. ছবি আপলোড করার আগে যাচাই করুন ৭. রাতে প্রয়োজনবোধে মুঠোফোন বন্ধ করে ঘুমাতে যেতে পারেন। আরও পড়ুন: মুঠোফোননির্ভর জীবন থেকে মুক্তি যে ৭ পথে

হীরার আংটি, মেয়েদের মতো কেনো?

রবীন্দ্রনাথ তাঁর নৌকাডুবিতে এক চরিত্রের মুখ দিয়ে বলিয়েছিলেন, পুরুষ মানুষ হীরার আঙটি, কোনো ব্যাকা-ত্যাড়া নাই। কোনো কিছুতেই যেন পুরুষের দাম কমেনা । কিন্তু বিজ্ঞানীদের চোষে পুরুষ নয়, হীরার আঙটি নারীরাই। কারণ, নারীরাই সবচেয়ে কষ্টসহিষ্ণু। হীরার আঙটির প্রচলন যুগ যুগ ধরেই রয়েছে।বিয়ে জীবনের গুরুত্বপু্র্ণ এবং স্মরণীয় মুহুর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম৷ তাই বিয়েতে চাই সবার পছন্দের সেরা জিনিসগুলো৷ নিজের ও জীবনসঙ্গীর জন্যও চাই পছন্দনীয় কেনাকাটা৷ বিয়ের অন্যতম কাজ হচ্ছে বাগদান৷ আর বর্তমান সময়ে বাগদানে স্বর্ণেরও চেয়ে হীরার আংটির চাহিদা অনেক বেশী৷ কারণ এ সময়টাকে স্মৃতিময় করে রাখে বাগদান আংটি৷ তা যত দামই হোক না কেন, এখানে দামের চেয়েও বেশি গুরুত্বের সাথে দেখা হয় আংটিটা তার অনামিকায় কতটা মানিয়েছে৷ বাগদান আংটি সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়৷ একটি স্থায়ী সম্পর্কের জন্য এটি একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য নির্দেশ করে৷ বাগদানের আংটি পরার ইউরোপীয় এ আচার বর্তমানে সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রচলিত৷ কিছু কিছু সংস্কৃতির বৈবাহিক আচারে আংটি প্রদান একটি নির্দিষ্ট ধারার উপহার সামগ্রী হিসেবে গণ্য৷ এ ধারাটি শুরু হয় বাগদানের আংটি প্রদানের মাধ্যমে৷ বাগদানের আংটি প্রদানের রেওয়াজ প্রাচীন রোমেও প্রচলিত ছিল৷ ধারণা করা হয়, রীতির প্রচলনকাল এর থেকেও পুরোনো৷ বর্তমানে অন্যান্য বেশকিছু আচার তৈরি হয়েছে, যা মূলত গহনা ব্যবসায়ীদের সৃষ্টি৷ এর মধ্যে আছে বাগদানের পূর্বেই উপহার হিসেবে বিভিন্ন রকম আংটির ব্যবহার৷ এর মধ্যে আছে সত্যিকারের সম্পর্ক শুরু হওয়া উপলক্ষে আংটির ব্যবহার, চিরকাল সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাকে স্মরণ করে আংটি আদান প্রদান ইত্যাদি৷ এমন কী কিছু ক্ষেত্রে প্রথম সন্তান জন্মের পর তা স্মরণ করেও আংটি প্রদানের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে৷ এছাড়াও আছে সম্পর্কের অতীত, বর্তমান, ও ভবিষ্যতের স্মরণে প্রদেয় আংটি, যা সাধারণত গোল করে কাটা হীরা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়৷ ১৭৯৬ সালে জোসেফিনকে দেয়া ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের বাগদান আংটিটি সমপ্রতি নিলামে ৯ লাখ ৪৯ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে৷ জোসেফিনের ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্যারিসে আংটিটি নিলামে তোলে অসেনাট৷ ২০১০ সালে প্রিন্স উইলিয়াম তার স্ত্রী কেট মিডেলটনকে বাগদানের সময় প্রায় আট ক্যারেট হীরার আংটি দিয়েছিলেন৷ খোলাবাজারে এ ধরনের আংটির দাম হতে পারে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত৷ উইলিয়াম এ আংটিটি তার মা প্রিন্সেস ডায়ানার কাছ থেকে পেয়েছেন বলে এর দামের ক্ষেত্রে অনুমানই একমাত্র ভরসা৷ তবে ব্রিটিশ আধুনিক নারীরা প্রত্যাশা করেন সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী যেন নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ দিয়ে বাগদান আংটি কেনেন৷ এটা হতে পারে তার এক মাসের আয়ের পুরো অর্থ৷ তবে মজার ব্যাপার হলো, বেশিরভাগ পুরুষরা চান বাগদান আংটি কেনায় আরো বেশি অর্থ ব্যয় করতে৷ হীরার আঙটি নিয়ে একটি কুসংস্কার রয়েছে আর তা হচ্ছে বিয়েতে হীরার আঙটি অশুভ। কারন সবার হীরা সহ্র হয়না। একটিমাত্র বিয়ের জন্যে প্রচুর অর্থ ব্যয়ে একাধিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি পোশাক ও অলঙ্কার কেনাকাটা করতে গিয়ে হয় টাকার শ্রাদ্ধ। ঋণ করে হলেও বিয়ের এই ফুটানি করতে গিয়ে অনেক পরিবার দুর্দশায় নিপতিত হয়। বিয়েতে দেয়া হীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পারিবারিক অশান্তি বয়ে আনে। কারণ হিসেবে ধরা হয়, হীরা বেশিরভাগ মানুষের জন্যেই অশুভ। হীরা কিংবা সোনার সেরকম কোন ব্যবহারিক উপযোগিতা কেউ কখনোই খুঁজে পায়নি। অথচ তারপরেও হীরা বা সোনার গয়নার জন্য সুযোগ পেলেই হামলে পড়ে মেয়েরা। আর ছেলেরাও ভালবাসার প্রমাণ হিসেবে ১০৮ টি নীলপদ্মের মতো হাজির করতে চায় নারীর কাছে অমূল্য হীরা। কিন্তু কেন? ডারউইনের সেক্সুয়াল সিলেকশন তথা যৌনতার নির্বাচনের মধ্যেই এর উত্তর পাওয়া যেতে পারে। যৌনতার নির্বাচনের বহুল প্রচলিত ময়ূরের পেখমের উদাহরণটি এখানে বলা চলে। আমরা জানি, ময়ূরের দীর্ঘ পেখম টিকে আছে মূলতঃ নারী ময়ূর বা ময়ূরীর পছন্দ তথা যৌনতার নির্বাচনকে প্রাধান্য দিয়ে। কি ভাবে? ১৯৭৫ সালে ইসরাইলী জীববিজ্ঞানী আমোতজ জাহাভি জানান যে, ময়ূরীর এই দীর্ঘ পেখম ময়ূরের কাছে প্রতিভাত হয় এক ধরণের ‘ফিটনেস ইণ্ডিকেটর’ বা সুস্বাস্থ্যের মাপকাঠি হিসেবে। জাহাবির মতে, সততার সাথে সুস্বাস্থ্যের বিজ্ঞাপন দিতে গেলে এমন একটা কিছুর মাধ্যমে সেটা প্রকাশ করতে হবে যাতে খরচের প্রাচুর্যটা এমনকি সাদা চোখেও ধরা পড়ে। সোজা ভাষায় সেই বিজ্ঞপিত অঙ্গটিকে নিঃসন্দেহে হতে হবে ‘কস্টলি অর্নামেন্ট’, ব্যয়বহুল, অপব্যায়ী কিংবা জবরজং ধরণের জটিল কিছু।ময়ূরের পেখম কেবল ময়ূরীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সস্তা প্রচারণা নয়। ময়ূরের পেখম দীর্ঘ, ভারী আর ভয়ানক বিপদসঙ্কুল। দীর্ঘ পেখম এত অনায়াসে তৈরি করা যায় না, আর এমনকি এই বেয়াক্কেলে পেখমের কারণে তার শিকারীদের চোখে পড়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায় অনেক। বেচারা ময়ূরকে কেবল নিজের দেহটিকেই বয়ে বেড়াতে হয় না, টেনে হিচড়ে নিয়ে বেড়াতে হয় তার পশ্চাৎদেশের সাথে জুড়ে থাকা এই অবিশ্বাস্য বড় ধরণের বাড়তি একটা পেখমের ঝাঁপি । একে বলা হয় হ্যান্ডিক্যাপ প্রিন্সিপাল। এজন্য ময়ূরকে হতে হয় স্বাস্থ্যবান এবং নিরোগ। কখনো সখনো কোন স্বাস্থ্যহীন ময়ূরের দীর্ঘ পেখম গজাতে পারে বটে, কিন্তু সেটা বয়ে নিয়ে বেড়িয়ে খাবার খোঁজা, কিংবা শিকারীরা তাড়া করলে দ্রুত দৌঁড়িয়ে পালিয়ে যাওয়া সেই স্বাস্থ্যহীন ময়ূরের পক্ষে দুঃসাধ্যই হবে। কেবল মাত্র প্রচণ্ড শক্তিশালী কিংবা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ময়ূরের পক্ষেই এই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ডিঙ্গিয়ে এ ধরণের পেখমের বিলাসিতা ধারণ করা সম্ভব হয় । শিক্ষা, বুদ্ধিবৃত্তি, জ্ঞান, সাহস, দৈহিক শক্তি, সঙ্গিত প্রতিভা, বাকচাতুর্য, সুদর্শন চেহারা, কৃষ্টি, নৃত্যপটুতা, প্রগতিশিলতা, অধিকার সচেতনতা, উদ্ভাবনী শক্তি, দৈহিক সৌন্দর্য, সততা, নৈতিকতা, দয়াপরবশতা, রসিকতা, হাস্যরসপ্রিয়তাসহ অনেক কিছু নিয়ামক হলেও কোনটিই বিয়ের সময় হীরার আংটির মতো গুরুত্বপূর্ণ ‘ভালবাসার উপঢৌকন’ হিসেবে উঠে আসে না। জাহাভির হ্যাণ্ডিক্যাপ প্রিন্সিপাল অনুযায়ী, বিয়ের প্রস্তাবের উপহার এমন হতে হবে যার কোন ব্যবহারিক উপযোগিতা নেই , কিন্তু বিপরীত লিঙ্গের চোখে তা হতে হবে অমূল্য। বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলে ‘কোর্টশিপ গিফট’ বা ‘নাপশাল গিফট’। বাড়ি-গাড়ি, আ্ইফোন বা যাকিছুরই ব্যবহারিক কিছু না কিছু উপযোগিতা আছে সেগুলো কখনোই ‘কোর্টশিপ গিফট’ হয়ে উঠার যোগ্য নয়। কোর্টশিপ গিফট গতে পারে কেবল হীরা কিংবা স্বর্ণালঙ্কারের মত বস্তু যা নারীর মানসপটে সেটি অমূল্য এক ‘ফিটনেস মার্কার’। পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন পদার্থ হীরা একইসঙ্গে সবচেয়ে বেশি চাপ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে। সে হিসেবে সম্ভবত কোনো প্রিয়জন নন, অলংকার কিংবা আভরণ হিসেবে নারীর সবচে কষ্টসহিষ্ণু সঙ্গী এই হীরাই। পৃথিবীর কেন্দ্রে মোট চাপের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৩ মিলিয়ন অ্যাটমোস্ফিয়ার। সেখানে ১ মিলিয়ন অ্যাটমোস্ফিয়ার চাপেরও বেশি সহ্য করতে পারে হীরা। আর মানুষের শরীরের ক্ষেত্রে ক্রমাগ্রত চাপ সহ্য করার ক্ষমতা ২৭ অ্যাটমোস্ফিয়ারের। এক্ষেত্রে অবশ্য মানসিক চাপ সহ্য করার বিষয়টি বাদই থেকে গেছে! লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি (এলএলএনএল) এর একদল গবেষক ১০০ ক্যারাটের একটি ছোট্ট হীরার ওপর লেজার রশ্মি ব্যবহার করে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। এতে দেখা যায় ২ ন্যানোসেকেন্ডেরও কম সময়ে হীরা ২০০ জুলেরও বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে। লেজার রশ্মি দিয়ে পরীক্ষার সময় বিজ্ঞানীরা দেখেন হীরা একটি শকওয়েভ তৈরি করে। সেই শকওয়েভ থেকেই হীরা ১ মিলিয়ন থেকে ১০ মিলিয়ন অ্যাটমোস্ফিয়ার পর্যন্ত চাপ সহ্য করতে পারে বলেই বিজ্ঞানীরা হিসেব বের করেছেন। পৃথিবীর ৮৭ থেকে ১২০ মাইল অভ্যন্তরে অত্যন্ত উচ্চ চাপে প্রাকৃতিক হীরা তৈরি হয়। আর এই হীরা গঠনে সময় লাগে ১০০ কোটি থেকে সাড়ে ৩শ’ কোটি বছর পর্যন্ত। যেখানে পৃথিবীর বয়স ধরা হয় সাড়ে ৪শ’ কোটি বছর। (তথ্যসূত্র: ব্লগ, অনলাইন সংবাদমাধ্যম)

Thursday, October 10, 2013

মাছরাঙা

বালুচরে নদীটির জল ঝরে খেলে যায় সূর্যের ঝিলিক, মাছরাঙা ঝিক্‌মিক্‌ ক’রে উড়ে যায়; মৃত্যু আর করুণার দু’টো তলোয়ার আড়াআড়ি গ’ড়ে ভেঙে নিতে চায় এই সব সাঁকো ঘর বাড়ি; নিজেদের নিশিত আকাশ ঘিরে থাকে। এ-রকম হয়েছে অনেক দিন-রৌদ্রে বাতাসে, যারা সব দেখেছিলো- যারা ভালোবেসেছিলো এই সব- তারা সময়ের সুবিধার নিলেমে বিকিয়ে গেছে আজ। তারা নেই।

Wednesday, October 9, 2013

এইচটিসির স্বর্ণ ফোন!

অ্যাপল ও স্যামসাং যখন সোনালি রঙের ফোন বাজারে আনতে ব্যস্ত, তখনি তাইওয়ানের স্মার্টফোন নির্মাতা এইচটিসি ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ফোন বাজারে আনার কথা জানাল। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশেবলের এক খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিবিষয়ক ম্যাগাজিন টি৩-এর বর্ষসেরা স্মার্টফোনের খেতাব পাওয়া এইচটিসি ওয়ান স্মার্টফোনটির একটি সংস্করণ সোনার তৈরি হবে। এ সংস্করণে মাত্র পাঁচটি স্মার্টফোন বাজারে আনবে এইচটিসি। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এইচটিসি ওয়ানের মোট পাঁচটি স্মার্টফোনের কাঠামো তৈরিতে ১৮ ক্যারেট সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হবে। এ স্মার্টফোনগুলোর দাম হবে চার হাজার ৪১৬ মার্কিন ডলার।

Sunday, October 6, 2013

প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বিচিত্র যত শখ!

শখ করে মানুষ কতো কিছু করে। কেউ ঘুড়ি ওড়ান কিংবা পায়রা, কেউবা ছোটেন রোমাঞ্চের পেছনে। প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদেরও রয়েছে আজব সব শখ। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা যে কেবল প্রযুক্তি নিয়েই ব্যস্ত থাকেন তা নয়, তাঁদেরও রয়েছে বিচিত্র সব শখ। এমনই একজন বিচিত্র শখের মানুষ ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি অ্যালিসন। তাঁর শখ হচ্ছে বড় বড় নৌকা বা ইয়ট সংগ্রহ করা। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে একটি দ্বীপও কিনেছেন তিনি। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় বড় ইয়ট। ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের ‘সায়োনারা’ নামের একটি রেসিং ইয়ট নিয়ে তাঁকে অনেক সময় প্রতিযোগিতায় নামতেও দেখা গেছে। আমাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোসের শখ প্রাচীন ঘড়িতে। তিনি একটি প্রাচীন ঘড়ি পুনর্নিমাণ করছেন। ২০০ ফুট উচ্চতার এ ঘড়িতে সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টার পাশাপাশি দিন, মাস, বছর ও সহস্রাব্দের হিসেবও থাকবে। ঘড়িটি তৈরি করতে খরচ হবে প্রায় চার কোটি ২০ লাখ ডলার। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা জেফ বেজোস তাঁর এ শখের ঘড়িটিকে ১০ হাজার বছরেরও বেশি সময় টিকিয়ে রাখার পরিকল্পনা করেছেন। ঘড়িটির নামও হবে তাই ‘দ্য ১০,০০০ ইয়ার ক্লক’। পশ্চিম টেক্সাসের পাহাড়ি অঞ্চলে ঘড়িটি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন বেজোস। মারিসা মেয়ার শখ ব্যালে নাচএওএল ডটকমের প্রধান নির্বাহী টিম আর্মস্ট্রংয়ের শখ ফুটবল খেলা। ইউনাইটেড ফুটবল লিগের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। শিশুদের নিয়ে গড়া একটি ফুটবল টিমে শখের প্রশিক্ষক হিসেবেও দেখা যায় এই উদ্যোক্তাকে। গোড্যাডি নামের ডোমেইন নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী বব পারসান্সের একটি দুর্ধর্ষ শখ হাতি শিকার করা। তাঁর এ শখ নিয়ে অনেক সময়ই নানা খবর হতে হয় তাঁকে। সিসকো সিস্টেমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্যান্ডি লার্নারের শখ ঘোড়দৌড়ের। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ৮০০ একরের ফার্ম হাউজ তৈরি করেছেন তিনি। সাইকেল চালান টিম কুক অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ ওজনিয়াকের গাড়ির প্রতি বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। গাড়ির খুঁটি-নাটি খুঁত বের করা তার শখ। এ ছাড়াও তিনি নতুন নতুন স্মার্টফোন সংগ্রহ করতে ভালোবাসেন। নতুন কোনো স্মার্টফোন বাজারে এলে সর্বপ্রথম ক্রেতা হিসেবে নিজেকে দেখতে চান তিনি। অনেক ক্ষেত্রে স্মার্টফোন সংগ্রহের জন্য সবার আগে ক্রেতার সারিতে দাঁড়াতে দেখা গেছে তাঁকে। তাঁর এ শখটির কথা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো জানতে পেরেছে বলে আগেভাগেই প্রথম স্মার্টফোনটি হাতে পান তিনি। ‘জকডক’ নামের স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি সাইটের প্রতিষ্ঠাতা নিক গানজুর শখ হচ্ছে পার্কে বসে গিটার বাজানো। ক্লাউড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘বক্স’-এর প্রধান নির্বাহী অ্যারন লেভির শখ হচ্ছে জাদু দেখানো। ‘লট১৮’ নামের সাইটটির উদ্যোক্তা ফিলিপ জেমসের শখ হচ্ছে পর্বতারোহণ ও বাইকিং। গেমিং কোম্পানি আরকাডিয়ামের প্রধান নির্বাহী কেনি রোজেনব্ল্যাটের শখ বাগান করা। তিনি একটি বিশাল সবজি বাগান করেছেন। ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ শখের বশেই ফেসবুক তৈরি করেছিলেন। এখন তাঁর শখ সম্পর্কে ফেসবুকের পাতায় লিখে রেখেছেন মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিয়ে কাজ করা। যদিও জাকারবার্গ এখন নিরামিষভোজী আগে তিনি নিজের শিকার করা পশুর মাংস খেতেন । তিনি শখ করে মাঝে-মধ্যে কোট-টাই পরেন। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের শখ হচ্ছে কাইট বোর্ডিং করা। আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে দিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমুদ্রে ছুটে বেড়াতে ভালোবাসেন তিনি। অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক স্বাস্থ্যসচেতন একজন ব্যক্তি। তিনি নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন এবং সাইকেল চালাতে ভালোবাসেন। ‘হাইকিং’ তাঁর শখ। ইয়াহুর প্রধান নির্বাহী মারিসা মেয়ারের শখ ব্যালে নাচের। ধ্রুপদী ব্যালে নাচে পারদর্শী তিনি। এ ছাড়াও হাতঘড়ি ও ব্যাগ সংগ্রহেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে।

Monday, September 30, 2013

মোবাইল ফোন যেসব ক্ষতি করছে!

নতুন মুঠোফোন কিনতে যাচ্ছেন? মুঠোফোন অতিরিক্ত ব্যবহার করলে কী ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে সে বিষয়গুলো আপনার অবশ্যই জেনে নেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত সময় ধরে মুঠোফোন ব্যবহার করার ফলে ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যের ওপর নানা প্রভাব পড়ে। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতি নিয়ে গবেষণাও হচ্ছে। একাধিক গবেষণার ফলের বরাতে হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুঠোফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যায় পড়ছেন ব্যবহারকারীরা। হারানোর ভয় মুঠোফোন সব সময় ঠিক জায়গায় আছে কিনা তা নিয়ে মন সব সময় সতর্ক থাকে। মোবাইল হারানো ভয় থেকে মনের মধ্যে জন্ম নেয় এক সমস্যা। গবেষকেরা মুঠোফোন ও সঙ্গে যোগাযোগ হারানোর এই ভয়জনিত অসুখের নাম দিয়েছেন ‘নোমোফোবিয়া’; যার পুরো নাম ‘নো মোবাইল-ফোন ফোবিয়া’। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ৫৩ শতাংশ এবং ২৯ শতাংশ ভারতীয় তরুণরা এ রোগের শিকার। ৫ বছর আগেও যে রোগের অস্তিত্ব কল্পিত ছিল না, আধুনিকতার সে রোগ নিয়ে দেশে-বিদেশে চিন্তিত মনোবিজ্ঞানী-মহল। অতিরিক্ত মুঠোফোন নির্ভরতা কমিয়ে ফেলতে পরামর্শ দেন গবেষকেরা। ঘুমের মধ্যে বার্তা পাঠানো মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অতিরিক্ত সময় বার্তা পাঠানো, চ্যাটিং করার ফলে ঘুমের মধ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। হতে পারে ‘স্লিপ টেক্সটিং’ সমস্যা। এ সমস্যা হলে রাতে ঘুমের মধ্যে কাকে কী বার্তা পাঠানো হয় তা আর পরে মনে থাকে না। বার্তা পাঠানোর বিষয়টি মাথায় থাকে বলে ঘুমের মধ্যেও হাতের কাছে থাকা মুঠোফোন থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত নম্বরে বার্তা চলে যায়। মনোবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ আর মুঠোফোন নিয়ে অনেকের দিন কাটে। এমন অবস্থায় স্লিপ টেক্সটিং ঘটতে পারে। রাতে বিছানার পাশে মুঠোফোন না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। কমতে পারে চোখের জ্যোতি যুক্তরাজ্যের চক্ষু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মুঠোফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে দৃষ্টি বৈকল্য সৃষ্টি হতে পারে। এতে করে মায়োপিয়া বা ক্ষীণ দৃষ্টির সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সাধারণত চোখ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রেখে তা ব্যবহার করেন। তবে, অনেকের ক্ষেত্রে এ দূরত্ব মাত্র ১৮ সেন্টিমিটার। সংবাদপত্র, বই বা কোনো কিছু পড়ার ক্ষেত্রে সাধারণত চোখ থেকে গড়ে ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব থাকে। চোখের খুব কাছে রেখে অতিরিক্ত সময় ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে জিনগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। ক্ষীণদৃষ্টি সৃষ্টির জন্য যা ভূমিকা রাখতে সক্ষম। গবেষকেরা একে ‘এপিজেনেটিকস’ সংক্রান্ত বিষয় বলেন। গবেষকেরা দীর্ঘক্ষণ ধরে স্মার্টফোনে চোখ না রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন। দৈনিক কিছু সময় মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তাঁরা। স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়স বিবেচনার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা। কানে কম শোনা মুঠোফোন ব্যবহারের ফলে কানের সমস্যা তৈরির বিষয়টি অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। হেডফোন ব্যবহার করে উচ্চশব্দে গান শুনলে অন্তকর্ণের কোষগুলোর ওপর প্রভাব পড়ে এবং মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক আচরণ করে। একসময় বধির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। শরীরের অস্থি-সন্ধিগুলোর ক্ষতি অতিরিক্ত সময় ধরে মেসেজ বা বার্তা টাইপ করা হলে আঙুলের জয়েন্টগুলোতে ব্যথা হতে পারে এবং অবস্থা বেশি খারাপ হলে আর্থরাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়াও অনেকে অনেকেই কাজের সময় মুঠোফোন ব্যবহার করতে গিয়ে কাঁধ ও কানের মাঝে ফোন রেখে কথা বলেন। অনেকেই অতিরিক্ত ঝুঁকে বসে দীর্ঘ সময় ধরে বার্তা পাঠাতে থাকেন। বসার ভঙ্গির কারণেও শরীরে নানা অসুবিধা দেখা দিতে পারে। চিকিত্সকের পরামর্শ হচ্ছে অতিরিক্ত সময় ধরে মুঠোফোনে বার্তা লিখবেন না, এতে করে শরীরের জয়েন্ট বা সন্ধির সমস্যা থেকে সুস্থ থাকতে পারবেন। কমে যেতে পারে শুক্রাণু গবেষকেরা জানান, মুঠোফোন থেকে হাই ফ্রিকোয়েন্সির ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয়। এই ক্ষতিকর তরঙ্গের সঙ্গে মস্তিষ্কে ক্যানসারের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোষকলা এই ক্ষতিকর তরঙ্গের প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে পুরুষের প্রজননতন্ত্রেরও। গবেষকেদের দাবি, মুঠোফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর তরঙ্গ শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলে এবং শুক্রাণুর ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে। যখন তখন রিং টোন! এ সমস্যা মূলত উদ্বিগ্নতা বা বিষণ্নতা থেকে ঘটতে পারে। এ ধরনের সমস্যা হলে ব্যবহারকারী ফোনের রিং না বাজলে কিংবা ভাইব্রেশন না হলেও হঠাত্্ করেই তা শুনতে পান বা অনুভব করেন। অতিরিক্ত মুঠোফোন ব্যবহারের কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যা ভুগতে শুরু করলে তা টেরও পান না অনেক ব্যবহারকারী। ঘুম নেই! স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, ডেস্কটপের অতিরিক্ত ব্যবহার ও অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখার ফলে সবচে বেশি দেখা দেয় ঘুমের সমস্যা বা নিদ্রাহীনতা। যারা ঘুমাতে যাওয়ার আগে এ ধরনের প্রযুক্তি-পণ্য অতিমাত্রায় ব্যবহার করেন তাদের শরীরে মেলাটোনিনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে; যার কারণ প্রযুক্তিপণ্য থেকে নির্গত উজ্জ্বল আলো। এক পর্যায়ে ঘুমের মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয় এবং স্লিপ ডিজঅর্ডারের ঝুঁকি তৈরি হয়। টয়লেট সিটের চেয়েও নোংরা মার্কিন গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, টয়লেট সিটের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে মুঠোফোনে। মুঠোফোন নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এটি জীবাণুর অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে। গবেষকেরা বলেন, মুঠোফোনে ব্যাকটেরিয়াগুলো ব্যবহারকারীর জন্য খুব বেশি ক্ষতিকারক না হলেও এটি থেকে সংক্রমণ বা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিয়মিত মুঠোফোন পরিষ্কার করলে এ সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়।

Thursday, September 26, 2013

সুখী ছিল আজ সুখী নেই..... একটি করুণ প্রেমের গল্প

‘আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। সবার কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ। আমাদের দেহগুলো দয়া করে কাটতে দেবেন না। পাশাপাশিই আমাদের কবর দেবেন। আর সবাই আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। আমরা একজন আরেকজনকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। তাই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলাম। বেঁচে থাকতে তো কেউ আমাদের এই সম্পর্ক মেনে নেবে না। বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে তাদের মনেও কষ্ট দিতে পারব না। তাই এই পথ বেঁচে নিতে বাধ্য হলাম দুজন। ইতি: রমজান + সুখী।’ পাঠক, এটি একটি সুইসাইড নোট। দুই তরুণ-তরুণীর আত্মহননের আগে এই চিরকুট লিখে গেছেন। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ার চৌধুরীহাটে ১৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর আগে অভিভাবকেরা তাঁদের সম্পর্ক মেনে না নিলেও পাশাপাশি হয়েছে শেষ আশ্রয়। বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে শুয়ে আছে এই জুটি। এখনো তাজা কবর। কবরে গুঁজে দেওয়া খেজুর গাছের ডাল দুটিও সতেজ। রমজান আলী (২০) ও সুখী আকতার (১৬)। চৌধুরীহাটের বারইপাড়া গ্রামে সামনাসামনি দুজনের বাড়ি। দূরত্ব বড়জোর ৫০ গজ। সম্পর্কে বেয়াই-বেয়াইনও (তালতো ভাই-তালতো বোন)। রমজান নোয়াপাড়া কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সুখী নোয়াপাড়া মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। পাশাপাশি থাকার সুবাদে কাছাকাছি আসে একে অপরের। একসময় দুটি তরুণ মন স্বপ্ন দেখে ঘর বাঁধার। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বও আরেকটি প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে। তিন বছর আগে রমজানের বড় ভাই আজগর আর সুখীর বড় বোন লাকী ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। এ সম্পর্ক এখনো মেনে নেয়নি দুই পরিবার। এই বিষয়টি বারবার ঘুরপাক খেতে থাকে দুজনের মাথায়। কী করবেন তাঁরা। পরিবার, না সম্পর্ক—এই টানাপোড়েনে মুষড়ে পড়েন রমজান ও সুখী। শেষ পর্যন্ত জীবনকে ছুটি দিয়ে দিলেন এই দুই তরুণ-তরুণী। মরণেও দুজন দুজনকে ছাড়া ভাবতে পারেননি কোনো কিছু। সেখানেও সহমরণ। সুখীদের বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ে একটি জামগাছের ডালে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন দুজন একসঙ্গে। একে অপরকে কোমরে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁদের মরদেহ। নিশ্চিত হওয়া গেছে, সুইসাইড নোটটি সুখীর হাতের লেখা। গত মঙ্গলবার চৌধুরীহাটে সুখীদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরের দাওয়ায় বসে আছেন মা জোবেদা খাতুন। মুখে কথা নেই। শুধু এদিক-ওদিক তাকাচ্ছেন। মেয়ের জন্য এখনো বিলাপ করে চলেছেন বাবা মোহাম্মদ ইদ্রিস। বাড়ির ভেতরে সুখীর কক্ষে পড়ার টেবিলে থরে থরে সাজানো পাঠ্যবই রসায়ন, বাংলা...। খাতাও পড়ে আছে টেবিলের ওপর। শুধু সুখী নেই। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট সুখী। ভাইদের বড় আদরের ছিল সে। বোনের মৃত্যুসংবাদ শুনে ওমানের মাসকাটে থাকা দুই ভাই ছুটে এসেছেন এক নজর শেষ দেখা দেখতে। ভাইদের জন্য মরদেহের গাড়িতে লাশ রেখে দেওয়া হয় দুদিন। তাঁরা আসার পর দাফন করা হয়। বাবা ইদ্রিস বলেন, ‘আমরা ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি ও (সুখী) এ কাজ করবে। শান্তশিষ্ট, পড়ালেখায়ও ছিল ভালো। ছেলেটিও (রমজান) ছিল শান্ত। আমাদের মাথায় ছিল না তারা দুজন এমন করবে।’ মাসকাট থেকে আসা সুখীর ভাই মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা ছিল তাঁকে ডাক্তারি পড়াব। এখন সব শেষ।’ রমজানের বাড়িতেও শোকের মাতম। ছয় ভাই একবোনের সবার ছোট রমজান। তিনি চলে গেলেন সবার আগে। বাবা সালেহ আহমেদ থাকেন সৌদি আরবে। ছেলের মৃত্যুসংবাদ শুনে তিনিও মুষড়ে পড়েছেন। এ ঘটনা মানতে পারছেন না সুখীর বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও। কথা বলার সময় শ্রেণী শিক্ষক ফণী ধর দাশের গলা ধরে আসছিল। বললেন, ‘সে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত প্রথম অথবা দ্বিতীয় হয়ে এসেছে। কিন্তু নবম শ্রেণীর শেষ দিকে এসে সে প্রায়ই বিষণ্ন থাকত। যার প্রভাব পড়ে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলে। রোল নম্বর হয় ১১। আমি নানাভাবে তার কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছি কি হয়েছে। কিন্তু কিছু বলেনি।’ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমরা প্রতিটি শ্রেণীতে কাউন্সেলিং করেছি। শিক্ষার্থীদের বলেছি, এ ধরনের ঘটনা হলে পারিবারে বলতে না পারলেও যেন শিক্ষককে জানায়। আর অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।’ রমজানের বন্ধুরা জানান, তিনি প্রায় সময় তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে হতাশ থাকত। বলত, ‘দেখিস, একদিন সব ছেড়ে চলে যাব।’ এ যাওয়া যে শেষ যাওয়া হবে, তা বোঝেননি বন্ধুরাও। মোহিত কামাল, মনোরোগ চিকিত্সকআত্মহত্যা কোনো সমাধান নয় মোহিত কামাল, মনোরোগ চিকিৎসক তরুণ-তরুণীদের এ ঘটনা নিয়ে আমরা কথা বলেছিলাম মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামালের সঙ্গে। তিনি তিনটি ভাগে ভাগ করে এ ঘটনাটি বিশ্লেষণ করেছেন। প্রথমত: তরুণ প্রজন্ম ও মানসিকভাবে বিষণ্ন নারী-পুরুষদের বলতে চাই, আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। আত্মহত্যা মানে নিজেকে খুন করা। ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক বিধিনিষেধ না মেনে আইন লঙ্ঘন করা। রমজান ও সুখী সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ, তাঁরা সমস্যা দেখে নিজেদের খুন করেছেন। তাঁরা খুনি। দ্বিতীয়ত: অভিভাবকেরা তাঁদের অবেগটা বুঝতে পারেননি। এটি তাঁদের বড় ব্যর্থতা। রমজান ও সুখীর আবেগের মধ্যে কোনো শঠতা ছিল না। তাঁদের ভালোবাসার টানটা ছিল তীব্র। তরুণ বয়সের প্রথম প্রেম এ রকম হয়। সবকিছু ছাপিয়ে সম্পর্কটা তাঁদের কাছে অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়। একে অপরকে না পেলে জীবন শেষ হয়ে যাবে, এমন ধারণা হয়। কিন্তু অভিভাবকেরা তাঁদের আবেগ না বুঝে পুরোনো বিরোধ জিইয়ে রেখেছেন। যার ফলে চলে গেল দুটি প্রাণ। তৃতীয়ত: অভিভাবকদের বলতে চাই, তরুণ-তরুণীদের এ ধরনের সম্পর্ক দেখলে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের আবেগকে মূল্য দিয়ে সুযোগ দিতে হবে বিষয়টি শেয়ার করার। সময় নিয়ে তাদের বোঝাতে হবে। বাড়াতে হবে মমত্বের হাত। তাহলে বাস্তবতা বুঝে তারা নিজেরাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। কিন্তু তা না করে আমাদের সমাজে প্রথমেই তাদের ওপর নেমে আসে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। তা কখনোই সমস্যার সমাধান নয়। বাধা পড়লেই তারা পালিয়ে যায়, আত্মহত্যা করে কিংবা জড়িয়ে যায় মাদকের জালে। সংকট উত্তরণে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তাদের মনোরোগের চিকিৎসা দেওয়া উচিত।

ভালবাসি বন, ভালবাসি সবুজ প্রকৃতিকে ভালো না বাসার কৌশল

টাইম-এর চোখে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকৃতিকে ভালো না বাসার কৌশল রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনের সবচেয়ে ভয়াল সুন্দর প্রাণী। বাংলাদেশকে যাঁরা জানেন, সবাই বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের এই নিরাপত্তাপ্রহরীকে চেনেন। যে সুন্দরবনকে এত দিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার পাহারা দিয়ে আসছে, সেই মানুষখেকোদের এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে যাচ্ছে। সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে পরিবেশবাদীরা। সংশয়ের কারণ, সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে রামপাল এলাকায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হতে যাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার যৌথ উদ্যোগে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিতে এবং দ্রুত বর্ধনশীল বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। আর তাতে সহযোগিতা করছে ভারত। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার। কিন্তু এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে একটি বিরোধীপক্ষ। এ পক্ষের দাবি, সুন্দরবনের এত কাছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলে তা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এতে সুন্দরবনের সংলগ্ন পানির ডলফিন থেকে শুরু করে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বন্য প্রাণীর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বন্যাঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশকে সুন্দরবন সব সময় রক্ষা করেছে। সুন্দরবনের ক্ষতি হলে জলবায়ু ভয়ংকর ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে সুন্দরবন রক্ষা কমিটির সদস্য কল্লোল মোস্তফা জানিয়েছেন, ‘কারও পক্ষে এ ধরনের প্রকল্পে মত দিতে রাজি হওয়ার কথা নয়।’ রামপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতার সঙ্গে ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নির্মিত একটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উদাহরণ টেনে আনছেন সমালোচকেরা। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, টেক্সাসের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সময় কর্তৃপক্ষ পরিবেশের ক্ষতি হবে না বলেছিল। কিন্তু ২০১০ সালে এসে গবেষকেরা জানান, ওই বিদুৎকেন্দ্র থেকে প্রতি বছর নির্গত ৩০ হাজার টন সালফার ডাই-অক্সাইড কৃষিক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি উঠছে। টেক্সাসের ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা করলে রামপালের প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতি বছর ৫২ হাজার টন সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তর। এ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে পরিবেশগত কোনো ক্ষতি হবে না বলে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও সমালোচকেরা বলছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং এ প্রকল্পটি নিয়ে মানুষের মনে নানা সন্দেহ রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এ প্রকল্পে লাভ হবে কার? বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ভারতের অতিমাত্রার আগ্রহ নিয়েও মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। ভারতের গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে দুটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে যেখানে আইনি বাধা ও প্রতিরোধের মুখে আটকে গেছে, সেখানে বাংলাদেশে সুন্দরবনের কাছে এ প্রকল্প নিয়ে ভারতের কাজ করতে যাওয়ার বিষয়টি সন্দেহ তৈরি করছে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, ‘এটা চক্রান্ত। নিজের দেশে বন্ধ করে দিয়ে অন্য দেশের আইন ভাঙছে তারা।’ রামপালের প্রকল্প পরিচালক আজিজুর রহমান অবশ্য আইন ভাঙার বিষয়টি নাকচ করেছেন। আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘তেল ও গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরিতে অনেক খরচ। তাই ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ ছাড়া বিকল্প নেই। এখানে ভারত তাদের নিয়মনীতি অনুযায়ী চলবে আর আমরা আমাদের। একদল বিশেষজ্ঞ এ প্রকল্পটি পর্যবেক্ষণ করে সুচিন্তিত মতামত দিয়েছেন। তার ভিত্তিতেই এ প্রকল্প চালু হচ্ছে। গবেষণায় কী পাওয়া গেছে এবং ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে কী শর্ত রয়েছে, তা যে কেউ ইচ্ছা করলেই দেখে নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশের নীতিমালা অনুযায়ী দূষণ ঠেকানোর সব ব্যবস্থা নেব।’ পরিবেশ বিপর্যয় রোধের সব ধরনের নিশ্চয়তা থাকলেও সংশয় থেকেই যাচ্ছে। গবেষকেরা বলছেন, গত এক দশকে মানুষসৃষ্ট নানা কারণে ৫০ হাজার হেক্টর সুন্দরবন নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়াও শিপইয়ার্ড নির্মাণসহ নানা কারণে সুন্দরবন ও দক্ষিণাঞ্চলের জনগণকে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সুন্দরবন রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে লংমার্চ শুরু করেছে সুন্দরবন রক্ষা কমিটি। লংমার্চ সমর্থনকারী আবদুল্লাহ আবু দিয়ান নামের একজন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। সারা দেশের মধ্যে সুন্দরবনটাই বাকি রয়ে গেছে যেটা সত্যিকারের বন বলে মনে হয়। এটাও যদি কোনো রকমে ধ্বংস হয়ে যায়, তবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আর পরিবেশের গুরুত্ব বুঝবে না। কারণ, আমরা যা কেবল স্পর্শ করতে পারি, অনুভব করতে পারি এবং যা ভালোবাসি তারই গুরুত্ব দিই।’

সে এক আজব কথা সমুদ্রের মাঝে কৃষ্ণগহ্বর!

ক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ঘূর্ণি-স্রোতসম্প্রতি সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক দাবি করেছেন তাঁরা পৃথিবীতে ব্ল্যাকহোলের বৈশিষ্ট্যযুক্ত একটি রহস্যময় জায়গার সন্ধান পেয়েছেন। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে তাঁদের খুঁজে পাওয়া এ রহস্যময় স্থানটি মহাশূন্যের ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণ গহ্বরের মতোই। ব্ল্যাকহোল দেখা অসম্ভব, তবুও জ্যোতির্বিদরা বিশ্বাস করেন যে এ মহাবিশ্বে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব রয়েছে। ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি বিষয়ক একটি বহুল প্রচলিত ধারণা। কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু যা এত ঘন সন্নিবিষ্ট বা অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর এত বেশি যে মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি আলো ও তড়িত্-চুম্বকীয় বিকিরণও ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর থেকে বের হতে পারে না। ব্ল্যাকহোলে পতিত কোনো বস্তুর বিকিরণ পর্যবেক্ষণ করে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেন গবেষকরা। গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন, ব্ল্যাকহোলের ক্ষেত্রে আলোর যে অবস্থা হয়, দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের রহস্যময় এ অঞ্চলটিতে পানির ক্ষেত্রেও ঠিক একই অবস্থা হয়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, মহাসাগরের মাঝে বিশাল এক ঘূর্ণি-স্রোত তার চারপাশের সব কিছুকে এমন বৃত্তাকারভাবে ঘোরাতে থাকে যে, কোনো কিছুই এ ঘূর্ণি-বৃত্ত থেকে বের হতে পারে না। গবেষকেরা বলছেন, এ ধরনের ঘূর্ণি-স্রোত উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রের বরফ গলে যাওয়ার ঘটনা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এ ধরনের ঘূর্ণি-স্রোতের প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন মার্কিন গবেষকেরা, যা ভবিষ্যতে সমুদ্রের অজানা রহস্যের সমাধানের পাশাপাশি পরিবেশ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজেও লাগবে।