TECH GURU, TECH-SCIENCE NEWS

"I celebrate myself, and sing myself,
and what I assume you shall assume,
for every atom belonging to me as good belongs to you."

Thursday, August 30, 2012

কী আছে চীনের প্রথম সম্রাটের সমাধিতে?



1 2
তথ্য হারিয়ে যাওয়ার ভয় আর বর্তমানে প্রত্নতাত্ত্বিকদের হাতে যথেষ্ট প্রযুক্তি না থাকায় চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াংয়ের সমাধির খননকাজের জন্য আরও শতবর্ষ অপেক্ষা করতে হতে পারে। প্রত্নতত্ত্ববিদ ও গবেষকদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে লাইভ সায়েন্স।
কেউ-ই তাঁকে বিরক্ত করেনি এত দিন। আগামী শত বছরেও হয়তো কেউ করবে না। কারণ, তাঁকে বিরক্ত করলেই হারিয়ে যেতে পারে অনেক অজানা রহস্য। সৈন্যসামন্ত-ঘেরা মাটির নিচের রাজপ্রাসাদে আড়াই হাজার বছর ধরে ঘুমিয়ে আছেন চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং। জীবদ্দশাতেই সম্রাট কিন শি হুয়াং নিজের সমাধিটি মিসরীয়দের সমাধির চেয়ে উন্নততর আর জৌলুশমণ্ডিত করে তৈরি করে নিয়েছিলেন। গবেষকেরা জানান, চীনের সমাধিশহর মাউন্ট লিশানে রয়েছে পরাক্রমশালী চীনের প্রথম সম্রাটের মমি। তবে বর্তমানে গবেষকেরা তাঁর সমাধি খনন করার সাহস জোগাতে পারছেন না। কারণ, তাঁদের আশঙ্কা, বর্তমান প্রত্নতত্ত্ব খননপ্রযুক্তিতে এ সমাধি খনন করা হলে হারিয়ে যেতে পারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যেমনটি ঘটেছিল তুতেন খামেনের সমাধি খননের সময়। 
এক খবরে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির ডিসকভারি টাইমস স্কয়ারে ২৬ আগস্ট শুরু হয়েছে ‘টেরাকোটা ওয়ারিয়র এক্সিবিশন’ নামের টেরাকোটা সৈন্যের এক বিশেষ প্রদর্শনী। ‘কিন ডাইন্যাস্টি’ বা সম্রাট কিনের শাসনামলের বিভিন্ন অ্যার্টিফ্যাক্ট বা প্রত্নবস্তু এবং নয়টি লাইফসাইজ বা প্রমাণ আকারের টেরাকোটা বা মাটির তৈরি মূর্তিও প্রদর্শিত হচ্ছে। এখানকার কিউরেটর ও টেরাকোটাবিষয়ক প্রত্নতত্ত্ববিদ ক্রিস্টিন রমি জানিয়েছেন, সে সময়কার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমাধি খোঁড়ার পরও মিসরীয় সম্রাট তুতেন খামেনের সমাধির অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। তাই বর্তমানে যে প্রযুক্তি রয়েছে, তা ব্যবহার করে কিন সম্রাটের সমাধি খনন করলে ভবিষ্যতে হয়তো আফসোস করতে হতে পারে। 

সমাধিতে কী আছে
পাহাড়ের গভীরে বিষাক্ত পারদের পরিখাঘেরা এক সমাধি। এ সমাধি ঘিরে নানা মিথ আর রহস্যের অন্ত নেই। চীনের প্রথম সম্রাটের অনেক রহস্য গোপন করে রেখেছে এ সমাধি। প্রত্নতত্ত্ববিদ ক্রিস্টিন রমি জানান, কৌতূহলীরা ধারণা করেন, এ সমাধি খনন করলেই দুই হাজার বছরের পুরোনো চীনের অনেক ঐতিহাসিক রহস্যের জট উদ্ধার করা সম্ভব হবে, জানা যাবে এক অনন্য ইতিহাস। সম্রাট কিন শি হুয়াংয়ের মূল সমাধি ঘিরে হাজার হাজার টেরাকোটা সৈন্য এবং তাদের ঘোড়াগুলো যেন সমাধি আগলে সতর্ক পাহারা দিচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণী বা পদমর্যাদার এসব টেরাকোটা বা পোড়ামাটির সৈন্য যুদ্ধের সাজে সজ্জিত। 
নিউইয়র্কের টেরাকোটা ওয়ারিয়র এক্সিবিশন-এর কিউরেটর মার্কিন প্রত্নতত্ত্ববিদ রমি চীনের প্রথম সম্রাট প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘কিন শি হুয়াং’-এর উচ্চারণ ‘চীন শু হুয়াং’, যা থেকে আধুনিক ‘চীন’ নামটি এসেছে বলে ধারণা করা হয়। চীনের বিখ্যাত প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোক্তা, পরিমাপকের একক পদ্ধতি প্রচলনকারী, বিশাল চীনকে একক সাম্রাজ্যে রূপ দেয়ার উদ্যোক্তা-পুরুষ পরাক্রমশীল কিন শি হুয়াং খ্রিষ্টপূর্ব ২৫৯ অব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর জন্মের সময় চীন ছয়টি স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত ছিল। রাজ্যের রাজারা বংশপরম্পরায় ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ করে আসছিলেন। এর মধ্যে একটির রাজা ছিলেন কিন শি হুয়াংয়ের বাবা কিন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেছিলেন কিন শি হুয়াং। অল্প বয়সে সিংহাসনে বসলেও অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা আর সময় বুঝে শক্তিশালী এক সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন তিনি। প্রাচীন নথি অনুসারে, সুচতুর পরিকল্পনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিষয়গুলো কাজে লাগিয়ে মাত্র ২৫ বছরের মধ্যেই ছয়টি রাজ্য দখল করে নিয়েছিলেন কিন শি হুয়াং। নিজেকে চীনের প্রথম সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি। এত অল্প বয়সে তিনি কীভাবে এ রাজ্যগুলো জয় করেছেন বা কী পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন, তা নিয়ে এখনো নানা বিতর্ক আছে। ক্রিস্টিন রমি জানিয়েছেন, হয়তো সমাধি খনন করা গেলে সে রহস্যের সমাধান মিলবে। 

অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা
মৃত্যুর আগেই নিজেদের সমাধি তৈরি করার রীতি প্রচলন করেছিলেন প্রাচীন মিসরের সম্রাটেরা। চীনের সম্রাট কিন শি হুয়াং সম্ভবত মিসরীয়দের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। নিজের সমাধি তৈরির সময় এমন এক জটিল নকশা তিনি বেছে নেন, যা ছিল অবিশ্বাস্য। তাঁর সমাধি ঘিরে সাজানো হয়েছিল সৈন্যসামন্তের টেরাকোটা, যাকে অদ্ভুত এক জাদুঘরও বলা যেতে পারে। এ ধরনের সমাধি তৈরির পেছনে একটি বিশ্বাস কাজ করেছে। প্রাচীন চীনাদের বিশ্বাস ছিল, মৃত্যুর পর পৃথিবীর যাবতীয় বিষয়ই তার কাজে লাগতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় বা কাজে লাগতে পারে এমন অনেক কিছুই প্রতীকীভাবে সমাধিতে দেওয়া হতো। কিন শি হুয়াংও এটি বিশ্বাস করতেন। তাই তাঁর সমাধির পাশেই তিনি সৈন্যসামন্তের টেরাকোটা তৈরি করিয়ে রেখেছিলেন। 
১৯৭৪ সালে একদল কৃষক শিয়ান এলাকায় কূপ খোঁড়ার সময় প্রথম টেরাকোটা সৈন্যের সন্ধান পান। ‘টেরাকোটা আর্মি’ হিসেবে খ্যাত এ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের স্থানটি এর আগে পর্যন্ত লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। ১৯৭৪ সালে চীন সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এখানে অনুসন্ধান ও খননকাজ শুরু করে। পরে ১৯৭৯ সালে টেরাকোটা জাদুঘরটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর চার দশক পার হয়ে গেছে। চীনা নৃতাত্ত্বিকেরা এ প্রত্ননিদর্শনস্থল থেকে টেরাকোটা সৈন্যের বহর উদ্ধার করেছেন। তাঁদের অনুমান, এখানে আট হাজারের বেশি টেরাকোটা সৈন্য রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্রাট কিন মৃত্যুর পরের জীবনও রাজার হালে যাপনের জন্য সৈন্যদের চেহারা নকল করে তা টেরাকোটায় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। 
সম্রাট কিনের আমলে নির্মিত টেরাকোটা আর্মি জাদুঘর এক অসাধারণ পুরাকীর্তি। বিশ্বের অষ্টম বিস্ময় হিসেবে খ্যাত ‘টেরাকোটা জাদুঘর’কে ইউনেসকো ১৯৮৭ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে। টেরাকোটা নির্মিত যোদ্ধা, চ্যারিয়ট বা রথ ও ঘোড়ার প্রায় আট হাজার মূর্তিসহ মোট ২২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের জাদুঘরটি চারটি খননক্ষেত্র আর একটি প্রদর্শনী ভবন নিয়ে গঠিত।
টেরাকোটা যোদ্ধারা সাতটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কর্মকর্তা, অস্ত্রধারী ও নিরস্ত্র যোদ্ধা, চ্যারিয়ট বা রথে চড়া যোদ্ধা, অশ্বারোহী, হাঁটু গেড়ে বসা তিরন্দাজ ও দাঁড়িয়ে থাকা তিরন্দাজ।
মার্কিন প্রত্নতত্ত্ববিদ রমি আরও জানিয়েছেন, প্রাচীন নথি থেকে জানা যায়, সম্রাট কিন মাটির নিচে বিশাল এক প্রাসাদরাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর সেই প্রাসাদের ছাদ ছিল অসংখ্য রত্নখচিত, যেন তা রাতের আকাশের তারার মতো দেখায়। সম্রাট কিনের রাজপ্রাসাদে ছিল সুন্দরী নারীরাও। তিনি তাঁর সমাধিস্থলে তৈরি করেছিলেন অসংখ্য সুন্দরী নারীর টেরাকোটা মূর্তি। তবে, সুন্দরী নারীদের এ ধরনের টেরাকোটার সন্ধান এখনো পাননি গবেষকেরা। গবেষকেরা আশা করছেন, মূল প্রাসাদের কোথাও রয়েছে এ ধরনের টেরাকোটা নারী। 

খনন-পদ্ধতি
চার দশক ধরে খননকাজ চালিয়েও এখন পর্যন্ত মূল সমাধি স্পর্শ করতে পারেননি নৃতাত্ত্বিকেরা। নথিপত্র অনুসারে, এ সমাধিতে এমন একটি প্রাসাদ আছে, যেখানে রয়েছে কিন শি হুয়াংয়ের মমি। ১০০ বছর যদি এ সমাধিতে পৌঁছাতে লেগে যায়, বলা যায় না তখন কী পাওয়া যাবে! তবে এ ক্ষেত্রে চীনা সরকার তাড়াহুড়া না করে যুক্তিযুক্ত কাজই করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। ১৯৩০ সালে যখন মিসরীয় সভ্যতার তুতেন খামেনের সমাধি খনন করা হয়েছিল, যথেষ্ট প্রযুক্তিজ্ঞানের অভাবে সে সময় অনেক তথ্য হারিয়ে গেছে। এখন যা জানা গেছে, সেখান থেকে তার চেয়ে আরও অনেক বেশি জানার ছিল। এখন যদি বর্তমানের খনন-পদ্ধতি ব্যবহার করে কিনের সমাধি খোঁড়া হয়, তবে শতবর্ষ পরে সবাই দায়ী করবে বর্তমান প্রত্নতত্ত্ববিদদের। তাঁরা মনে করেন, এ সমাধি কখন খোঁড়া হবে, এ সিদ্ধান্ত নেবে চীন সরকার, তবে সিদ্ধান্তটা প্রযুক্তির উন্নয়নের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে।
প্রত্নতাত্ত্বিকেরা জানিয়েছেন, প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রতিবছর প্রভূত উন্নতি হচ্ছে। যখন সত্তরের দশকে টেরাকোটা সৈন্যের খনন শুরু হয়েছিল, তখন সূর্যের আলো পড়ে এসব মূর্তির অনেক রং নষ্ট হয়ে যায়। এখন এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। যদি খননকাজে ব্যবহূত প্রযুক্তির উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হয় এবং সমাধিক্ষেত্রের ক্ষতি না হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে ১০০ বছরের আগেই হয়তো সমাধিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা যেতে পারে। অবশ্য সে ক্ষেত্রে রোবট পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির সাহায্য নিতে হতে পারে। আর তত দিন অপেক্ষায় থাকতে হবে।

পারদের পরিখা
ইতিহাসের অনেক রহস্য হয়তো লুকিয়ে আছে কিন শি হুয়াংয়ের এ সমাধিতে। কিন্তু বর্তমান সভ্যতার মানুষের কাছে এ রহস্য উন্মোচিত হবে কি? এই প্রশ্নের উত্তর বা সমাধিক্ষেত্র খননের সিদ্ধান্ত শুধু চীন সরকারের ওপরই নির্ভরশীল নয়; এ রহস্য উন্মোচনে প্রয়োজন বিজ্ঞানের আরও উন্নতি সাধন। 
গবেষকেরা ধারণা করছেন, কিন শি হুয়াংয়ের সমাধিতে রয়েছে তরল পারদের একটি ছোট নদী বা পরিখা, যাকে প্রাচীন চীনারা মনে করত অমরত্বের জলাধার। অমরত্বের আকাঙ্ক্ষায় মৃত্যু হয়েছিল চীনের প্রথম সম্রাটের। অমরত্বের আকাঙ্ক্ষায় মাত্র ৩৯ বছর বয়সে নিজ শরীরে পারদের এক ধরনের বড়ি সেবন করেন তিনি।
কিনের সমাধির কাছে পৌঁছাতে হলে এ পারদের জলাশয় বা পরিখা পার হতে হবে প্রত্নতত্ত্ববিদদের। কারণ, সমাধি এলাকার মাটির নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এখানে উচ্চমাত্রার পারদ রয়েছে। বর্তমান প্রযুক্তিতে এ পারদের দুর্গ পার হতে গেলে সমাধির গুরুতর ক্ষতি বা কোনো তথ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। অবশ্য প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বলে থাকেন, ধ্বংসমূলক বিজ্ঞানশিক্ষাই হচ্ছে প্রত্নবিদ্যা। নতুন কিছু জানতে হলে কোনো কিছু নষ্ট করে তবেই তা জানতে হয়। কিন্তু চীনের প্রথম সম্রাটের এ সমাধিরহস্য জানতে চীনারা কি এই অসাধারণ শিল্পকে ধ্বংস করবেন? মনে হয় না। তার চেয়ে বরং তারা আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকাই শ্রেয়জ্ঞান করবে।




কী আছে চীনের প্রথম সম্রাটের সমাধিতে? (ভিডিও) - প্রথম আলো

Wednesday, August 29, 2012

‘মিষ্টি’ঘেরা নক্ষত্র! (ভিডিও)



ডেনমার্কের গবেষকেরা মহাকাশে নবীন একটি নক্ষত্রের চারপাশে থাকা গ্যাসের মধ্যে চিনির অণুর সন্ধান পেয়েছেন। আতাকামা লার্জ মিলিমিটার অ্যারি (এএলএমএ) নামের শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো চিনির অণু দিয়ে ঘেরা নক্ষত্রের সন্ধান পেলেন গবেষকেরা। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল।
গবেষকেরা প্রথমবারের মতো সূর্যের সমান ভরবিশিষ্ট ‘আইআরএএস ১৬২৯৩-২৪২২’ নামের একটি নক্ষত্রের গ্যাসের মধ্যে চিনির অণুর সন্ধান পেয়েছেন। 
গবেষকেরা জানান, নবীন নক্ষত্রের পাশে গ্যাসের মধ্যে উপস্থিত চিনির সাধারণ এই রূপটির নাম ‘গ্লেকোলাডিহাইড’।
নাসার গবেষকেরা এর আগে মহাকাশে চিনির সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে সূর্যের মতো নক্ষত্রের পাশে এবারই প্রথম চিনির সন্ধান পেলেন ডেনমার্কের গবেষকেরা। গবেষকেরা জানিয়েছেন, নক্ষত্রের পাশে চিনির অস্তিত্বের খোঁজ পাওয়ায় গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের বিষয়টি সম্পর্কে জানার সুযোগ পেলেন তাঁরা। প্রথমবারের মতো এবারই মহাকাশে প্রাণ সৃষ্টির রাসায়নিক উপাদানটির ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা।
‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হবে।
নিলস বোর ইনস্টিটিউটের গবেষক জেন জরগেনসেন এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, নবীন নক্ষত্রটি ঘিরে থাকা ধুলি ও গ্যাসের আস্তরণে যে চিনি পাওয়া গেছে, তা চা বা কফিতে খাওয়া সাধারণ চিনির মতোই। এ উপাদানটি রাইবোনিউক্লিক এসিড (আরএনএ) তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা প্রাণের উদ্ভবের কারণ হিসেবে মনে করা হয়। চিনির এই অণু জীবনের প্রাথমিক উপাদান হিসেবে সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে উপস্থিত থাকে এবং গ্রহ সৃষ্টির উপাদান হিসেবে কাজ করে।
জেন জরগেনসেন জানিয়েছেন, এখন বড় প্রশ্ন হলো, এ উপাদানটি গ্রহ তৈরির সময় কতটা জটিল রূপ নেয়, সেটাই দেখা। আর এ থেকে অন্য কোনো গ্রহে প্রাণের উদ্ভব ঘটলে তা কেমন হবে তাও জানা সম্ভব হবে। এএলএমএর পর্যবেক্ষণ সে রহস্য সমাধান করতে পারবে।




‘মিষ্টি’ঘেরা নক্ষত্র! (ভিডিও) - প্রথম আলো

Sunday, August 26, 2012

চাঁদে পা রাখা প্রথম মানুষ (ভিডিও) - প্রথম আলো

ষাটের দশক। স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা মানুষকে তটস্থ করে রেখেছে। কিন্তু হঠাৎ এক সপ্তাহের জন্য এ আবহ যেন পুরো বদলে গেল। সবার দৃষ্টি তখন পৃথিবীর বাইরে, পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের দিকে। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই পৃথিবীর ইতিহাসের স্মরণীয় এক দিন। ১৬ জুলাই অ্যাপোলো ১১ নভোযানে চেপেছিলেন নিল আর্মস্ট্রং ও তাঁর দুই সহকর্মী এডুইন অলড্রিন ও মাইকেল কলিন্স। চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দিয়ে ২০ জুলাইয়ের যে ক্ষণটিতে চাঁদের বুকে পা রাখলেন নিল আর্মষ্ট্রং, পৃথিবীর ৫০ কোটি মানুষ টেলিভিশনের পর্দায় সে মুহূর্তের দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়ে পড়েছিল। চাঁদে পৌঁছানো পৃথিবীর প্রথম মানুষ আর্মস্ট্রংয়ের একটি ছোট পদক্ষেপই মানব জাতির অগ্রযাত্রাকে পৌঁছে দিয়েছিল চাঁদের উচ্চতায়। 
অবশেষে ৮২ বছর বয়সে ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট মারা গেলেন চাঁদের মাটিতে পা রাখা পৃথিবীর সেই প্রথম মানুষটি। এ প্রসঙ্গে আর্মস্ট্রংয়ের পরিবারের বরাতে জানা গেছে, হূিপণ্ডের চারটি ধমনিতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে ৭ আগস্ট তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর সৃষ্ট জটিলতায় ২৫ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহিওতে ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ করেন আর্মস্ট্রং। মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবার সঙ্গে তিনি বিমানে চড়েছিলেন। এরপর থেকে ওড়ার প্রতি প্রবল এক অনুরাগ তাঁকে পেয়ে বসে। পঞ্চাশের দশকে কোরিয়া যুদ্ধের সময় তিনি নেভির যুদ্ধবিমান চালাতেন। ১৯৬২ সালে তিনি মার্কিন মহাকাশ কর্মসূচিতে যোগ দেন। অ্যাপোলো ১১ ছিল আর্মস্ট্রংয়ের শেষ মহাকাশ অভিযান। ১৯৭১ সালে তিনি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) ছেড়ে যান। পরে তিনি এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং (বিমান ও নভোযান প্রকৌশল) বিষয়ে পড়াতেন।
নিলের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, একজন নভোচারী হিসেবে আর্মস্ট্রং সব সময়ই নিভৃতে থাকতে পছন্দ করতেন। তবে নিভৃত এ নভোচারীর ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন দারুন এক আশাবাদী মানুষ। তিনি মহাকাশ অভিযানের বিষয়ে সবসময়ই উৎসাহ দিয়েছেন এবং মহাকাশ মিশন সমর্থন করে গেছেন।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) প্রায় একযুগ আগে একবার বক্তৃতা করতে এসেছিলেন আর্মস্ট্রং। এক শিক্ষার্থী তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘মি. আর্মস্ট্রং, আপনার কী মনে হয়, মানুষ কী কখনও মঙ্গলে যেতে পারবে?’ আর্মস্ট্রং তার উত্তরে বলেছিলেন.‘আমি ঠিক বলতে পারব না; তবে, আমি যখন তোমাদের বয়সী ছিলাম, সেসময় কখনও ভাবিনি যে আমরা একদিন চাঁদে যেতে পারবো’।
‘দারুণ এক আশাবাদী মানুষ ছিলেন আর্মস্ট্রং’। এ মন্তব্য করেছেন ম্যাসাচুসেটসের অধ্যাপক ল্যারি ইয়াং।
নিল আর্মস্ট্রংয়ের জীবনীগ্রন্থের নাম- ‘ফার্স্ট ম্যান’। বইটির লেখক জেমস আর হ্যানসেন। এ বইটি লেখার সময় লেখক আর্মস্ট্রংয়ের সঙ্গে যে কথোপকথন চালিয়েছিলেন, তাতে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন নিল সাধারণের মধ্যে খুব অসাধারণ একজন মানুষ। তাঁর মধ্যে সাধারণ মানুষের মতই সব দোষ-গুণ রয়েছে। কিন্তু তিনি অর্থ-বিত্তের পেছনে ছুটতে নারাজ। কারণ তাঁর জীবনদর্শন ছিল খুবই সাধারণ। এ বইটিতে চন্দ্রাভিযানের বর্ণনা ও আর্মস্ট্রংয়ের জীবনদর্শন তুলে এনেছেন লেখক।
হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের গবেষক জোনাথান ম্যাকডাওয়েল আর্মস্ট্রং প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘চাঁদে পা রাখার পর নিলের বিখ্যাত উক্তি- ‘এটা একটা মানুষের জন্য ক্ষুদ্র পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য বিরাট এক পদক্ষেপ’ সেসময়কার তরুণ প্রজন্মের ওপর এ বিষয়টি বিরাট প্রভাব ফেলেছিল। এসময় পুরো বিশ্বের মানুষ এক হয়ে গিয়েছিল। স্নায়ূযুদ্ধের বাস্তবতা ভুলে সবাই তখন চাঁদের দিকেই দৃষ্টি ফিরিয়েছিল।’ 
নিল আর্মস্ট্রংকে স্মরণ করেছেন তাঁর কাছের বন্ধু ও সহকর্মী এডুইন অলড্রিন। তিনি আর্মস্ট্রংয়ের পরেই চাঁদে পা রেখেছিলেন। অলড্রিন শোক প্রকাশ করে আর্মস্ট্রং স্মরণে এক টুইটে লিখেছেন, ‘আমি জানি হাজারো মানুষের সঙ্গে নিলের চলে যাওয়ার দুঃখ আমাকে স্পর্শ করছে, কিন্তু তিনি আমেরিকার সত্যিকারের নায়ক ও আমার দেখা সেরা পাইলট।’
আর্মস্ট্রংয়ের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আর্মস্ট্রং কেবল তাঁর সময়েরই নন, বরং সর্বকালের মার্কিন নায়কদের মধ্যে মহানায়ক।’
সেদিনের অভিযানে আর্মস্ট্রংয়ের সহযাত্রী নভোচারী এডউইন অলড্রিন বিবিসির নিউজ আওয়ার অনুষ্ঠানে বলেন, আর্মস্ট্রং ছিলেন একজন হার না মানা বীর। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, চাঁদে অভিযানের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারলাম না।’ 
বিবিসি জানিয়েছে, শক্তিশালী দ্রুতগতির রকেটে চড়া মানুষের জন্য বেশ বিপদজনক একটি বিষয় ছিল। এটা সবাই করতে পারে না। নিল আর্মস্ট্রং ছিলেন বরফশীতল মস্তিস্কের একজন মানুষ। আর্মস্ট্রং যে নভোযানটি পরিচালনা করছিলেন সেটি চাঁদ থেকে পৃথিবীতে নেমে আসার সময় ধীরে ধীরে তার জ্বালানী শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কন্ট্রোল রুমের সবাই সেসময় চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন ঠিক জায়গায় এটি নামতে পারবে কিনা তা নিয়ে। কিন্তু আর্মস্ট্রং ছিলেন ঠান্ডা মাথার। তিনি অপেক্ষা করলেন এবং অত্যন্ত স্থিরতার সাথে ঠিক জায়গাতেই নভোযানটিকে নামালেন।
নিল আর্মস্ট্রং ২৬ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী জেনেট এলিজাবেথ শ্যারনকে। বিয়ের পর, নবদম্পতি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করতে শুরু করেন। সেখানেই আর্মস্ট্রং মার্কিন মহাকাশ মিশনের পাইলট হিসেবে যোগ দেন। বেল এক্স-১বি নামের রকেট প্লেনে তিনি শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে চালানোর রেকর্ড গড়েন। এসময়কার কথা স্মরণ করে তাঁর সহকর্মী মিল্ট থম্পসন বলেছেন, ‘এক্স-১৫ চালকদের মধ্যে নিলই ছিল কারিগরি দক্ষতার সবচেয়ে পটু’। নিলের সেসময়কার আরেক সহকর্মী বিল ডানা জানান, ‘নিলের মন ছিল স্পঞ্জের মত, যা কোনো বিষয় সহজেই শুষে নিত পারত আর তার মস্তিষ্ক ক্যামেরার মতই ছবি তুলে রাখতে পারত।’ নিলই সম্ভবত সবচেয়ে উদ্ভাবনী ও বিপদজনক নভোযানগুলোর চালক হিসেবে কাজ করেছেন। 
১৯৫৮ সালে আর্মস্ট্রংকে ‘এক্স-২০ ডায়না সোলার’ নামের মিলিটারি স্পেস প্লেন প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ করা হয় ও পরে চালক হিসেবে যুক্ত করা হয়। কিন্তু টগবগে তরুণ চালকের মন ততদিনে নাসার প্রকল্পের জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে জীবনীকার হ্যানসেনকে আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয়, আমার নভোচারী হওয়ার আকাঙ্খা, চাঁদে যাওয়ার আকাঙ্খা থেকে হয়নি; বরং নতুন নভোযান চালানোর আগ্রহ থেকেই এসেছিল।’

হ্যানসেন উল্লেখ করেছেন, ‘নিল চাইলে তাঁর খ্যাতি ব্যবহার করে অনেক অর্থ আয় করতে পারতেন। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সেটা করেননি এবং চন্দ্র অভিযানের কৃতিত্ত্ব নিজে একার বলে দাবি করেননি বলেই মানুষ তাঁকে স্মরণ করে। ’
প্রসঙ্গত, আর্মস্ট্রং-জেনেটের সংসারে এসেছিল দুই ছেলে এরিক ও মার্ক এবং এক মেয়ে ক্যারেন। ১৯৬২ সালে মস্তিষ্কের টিউমারজনিত অসুস্থতায় ক্যারেনের মৃত্যু ঘটলে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন নিল। যদিও আর্মস্ট্রং-শ্যারনের সংসার বেশ অনেকদিনই টিকেছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ১৯৯৪ সালে এসে তাঁরা আলাদা হয়ে যান। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৯ সালের দিকে ক্যারোল নাইট নামের এক বিধবাকে বিয়ে করেন আর্মস্ট্রং।
আর্মস্ট্রংয়ের মৃত্যুর পর স্ত্রী জেনেট তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, ‘নিল যা করেছেন তা শুধু বাইরের দৃষ্টিতে দেখলে হবে না, এর ভিতরটাও দেখা চাই। নিল অসাধারণ মজাদার এক জীবনযাপন করে গেছেন। কিন্তু মজার এ বিষয়টিকে তিনি হূদয়ের গভীরে অনুধাবন করেছিলেন।’

চাঁদে পা রাখা প্রথম মানুষ (ভিডিও) - প্রথম আলো

Monday, August 20, 2012

প্ল্যানেট অব ‘অ্যাপস’!



মানুষের জীবনে মুঠোফোন এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুঠোফোন এখন আর কেবল কথা বলার যন্ত্র হিসেবেই নয়, ইন্টারনেট আর স্মার্টফোনের এই যুগে মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপসের ব্যবহার। এখন মানুষের প্রয়োজনীয় সবকিছুর জন্যই তৈরি হচ্ছে অ্যাপ। জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য মানুষের হাতের মুঠোয় এখন অ্যাপসের ব্যবহার। অ্যাপসের ব্যবহার নিয়ে ‘ইন্ডিয়া টুডে’ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মানুষের ঘুমের ধরন বিশ্লেষণ করা থেকে শুরু করে তার জেগে ওঠা, দৈনন্দিন কাজ আর বিশ্রাম-বিনোদনের—সবকিছুতেই এখন অ্যাপসের ছড়াছড়ি।
সুখের নিদ্রা শেষে ঠিক সময়ে জাগতে হবে। এখন আর মোরগের ডাকে ঘুম ভাঙার জন্য অপেক্ষা নয়। ঘুমের ধরন বিশ্লেষণ করে ঠিক সময়ে ডেকে দিতে স্মার্টফোনের অ্যাপ্লিকেশনের ওপর নির্ভর করছেন অনেকেই। রাস্তায় ভিড়? কিন্তু বাইরে যেতেই হবে। কোন পথে ভিড় কম, সেটা জানতে মুঠোফোন বা ট্যাবলেট কম্পিউটারে অ্যাপ্লিকেশন চালু করলেই হলো। জ্যামে আটকে গেছে গাড়ি? বিনোদনের জন্য স্মার্টফোনের অ্যাপ্লিকেশন ছুঁয়ে দিলেই হলো। বীজগণিতের জটিল সূত্র মনে রাখতে শিক্ষার্থীদের এখন আর দেয়ালে সূত্রের কাগজ আটকে রাখতে হয় না। শরীরের খোঁজ-খবর থেকে শুরু করে সব পেশা ও মানুষের প্রয়োজনে সবকিছুতেই এখন অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপসের ব্যবহার বেড়ে গেছে।
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের যখনই কোনো প্রয়োজন পড়ছে, তখনই স্মার্টফোনের অ্যাপ চালু করছেন তাঁরা। শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ হয়ে পড়ছে অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার। অ্যাপস সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে তরুণদের মধ্যে।
পড়ালেখার কাজেও বাড়ছে অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার। স্কুলের বিভিন্ন কোর্স নিয়ে অ্যাপ্লিকেশন তৈরি হচ্ছে এতে। বীজগণিত বা জ্যামিতির মতো কঠিন বিষয়গুলো যেমন সহজে আয়ত্তে আসছে, তেমনি গেম অ্যাপগুলো মানসিক দক্ষতাও বাড়াচ্ছে। শব্দের উচ্চারণ শেখার জন্যও রয়েছে আইওএস অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর পণ্যের জন্য বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন। অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে শিক্ষকেরা সংগীত থেকে শুরু করে ব্যবসা পরিচিতি পর্যন্ত সব বিষয়েই পড়াতে পারছেন। সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর বা হিসাববিষয়ক বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন গণিত বা পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করছে। স্কুলে যাওয়ার বয়সে পৌঁছানোর আগে থেকেই শিশুদের পড়াশোনা করানোর জন্য এখন বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। উচ্চশিক্ষার কোর্সের ক্ষেত্রেও রয়েছে অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার। শিশুদের পরীক্ষার ভার এখন অ্যাপসের ওপরেই নিশ্চিন্তে ছেড়ে দিচ্ছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। অ্যাপ্লিকেশনে কাজের একটা ফিরিস্তি দিয়ে সন্তানকে তা পালনের নির্দেশ দিতে পারেন অভিভাবক। কাজ শেষে অ্যাপ্লিকেশন তার ফল জানিয়ে দিতে পারে।
ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগাতে, নতুন করে সম্পর্ক তৈরিতে বা দূরের কারও সঙ্গে যদি সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তার জন্যও রয়েছে অ্যাপ্লিকেশন। প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য রয়েছে ‘পেয়ার’ অ্যাপ্লিকেশনটির মতো অনেক অ্যাপ্লিকেশন। এ অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্যে নিজের স্মার্টফোনেই টাইম লাইন তৈরি করে নিজেদের আলাদা ভুবন তৈরি করছেন যুগলেরা। ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি বা স্কেচ, নোট শেয়ার করার জন্য রয়েছে অসংখ্য অ্যাপ। অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর বা গুগলের গুগল প্লে নামের অ্যাপ্লিকেশন স্টোরে আয়ুর্বেদিক বা চিকিত্সাবিষয়ক পরামর্শদাতা অ্যাপ্লিকেশনও রয়েছে। যাঁরা স্মার্টফোনে বিনোদন চান বা গিটারের শব্দ চান, গিটার টিউনারের মতো অ্যাপ্লিকেশন তাঁদের কাজে লাগতে পারে। ‘উই মেইল’ অ্যাপ গর্ভাবস্থায় মায়েদের শারীরিক বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য রাখতে ব্যবহূত হয়।
অ্যাপসের একজন ভক্ত বলিউড তারকা ইমরান খান (২৯)। অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবন সহজতর করে তুলেছে অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার।’ অভিনেতা ইমরান খান তাঁর স্মার্টফোনে তিনটি অ্যাপ্লিকেশন সব সময় ব্যবহার করেন। এর একটি হচ্ছে স্লিপ সাইকেলস, অন্য দুটি—ফ্লাইট ট্র্যাক প্রো ও ওয়েজ। তাঁর মতে, অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার হাতের মুঠোয় পৃথিবীকে এনে দিয়েছে।
ভারতের অ্যাপস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টুএরগো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজ সিং ভান্ডাল জানিয়েছেন, আমরা স্মার্ট বলতে হয়তো প্রযুক্তির সবকিছু জানা মানুষকে বুঝি। অ্যাপসের ব্যবহার মানুষকে হয়তো সে রকম স্মার্ট করে না। তবে অ্যাপসের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সেবার সঙ্গে মানুষের পরিচিতি ঘটে। স্মার্টফোনের ব্যবহারকে অনেকটাই সুইস নাইফের মতো ব্যবহার করতে শেখায় অ্যাপস। 
‘কোলাভেরি ডি’র গায়ক হিসেবে পরিচিত ভারতের অভিনেতা ধানুশ (২৮)। নিজে আইপ্যাড, ব্ল্যাকবেরি, গ্যালাক্সি এস-৩ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। এসব ডিভাইসে নিয়মিত অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেন তিনি। ধানুশ বলেন, ‘আমি ফুটবল ও ক্রিকেটের ভক্ত। স্কোর জানার জন্য স্কোর অ্যাপ ব্যবহার করি। আমার ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করি সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপ আর বন্ধুদের সঙ্গে থাকি হোয়াটসআপ নামের অ্যাপে। আমি স্মার্টফোনে গেম খেলি। অ্যাপ্লিকেশন এখন আমার ও আমার পরিবারের অংশ হয়ে গেছে।’
চলতি বছরের জুন মাসের হিসাব অনুসারে, অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। গুগল প্লেতে রয়েছে ছয় লাখেরও বেশি অ্যাপ্লিকেশন। ব্ল্যাকবেরি ও উইন্ডোজেরও নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। এ বছর অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড ৩০ বিলিয়নের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গুগল প্লেতে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন অ্যাপস ডাউনলোড সংখ্যা।
অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে ব্যবসাও বেড়েছে। এবিআই রিসার্চের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী ২০১১ সালে মোবাইল অ্যাপ থেকে আয় ছিল সাড়ে আট বিলিয়ন ডলার, ২০১৫ সাল নাগাদ তা ৪৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করার জন্য প্রযুক্তি বিষয়ে গভীর জানাশোনা থাকতে হবে, তা কিন্তু নয়। অ্যাপস জীবনকে সহজ করে তুলতে পারে, দক্ষ করতে পারে। বড় কোনো ফাইল সংরক্ষণে ড্রপবক্সের ব্যবহার, নোট তৈরিতে এভারনোট বা ডকুমেন্ট ব্যবস্থাপনায় জোহোর মতো অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার বেশ সহজ। গুগল প্লে স্টোর থেকে সহজেই অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ডাউনলোড করে নেওয়া যায় অ্যাপ্লিকেশন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, অ্যাপ্লিকেশন এখন মানুষের নিত্যসঙ্গী হিসেবে সর্বত্রই শিক্ষক, বন্ধু পথনির্দেশক ও ব্যক্তিগত সহকারীর ভূমিকা নিয়েছে।

বড়র ভয়...



তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমশ শীর্ষে উঠে আসায় যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ কয়েকটি দেশের তা সবিশেষ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশগুলোর এ চিন্তার কারণ, চীন হয়তো নিজের দেশের তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে গোপনে নজরদারি বাড়াচ্ছে। আর এ ভয়েরই শিকার হচ্ছে চীনের হুয়াউয়ে টেকনোলজিসহ টেলিকম প্রযুক্তির অন্য চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। হুয়াউয়ের ওপর নজরদারি বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে। হুয়াউয়েকে নিয়ে ভর করা এ ভয় নিয়ে সম্প্রতি ইকনমিস্টের সাময়িকীতে চলতি মাসে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ইকনমিস্টের প্রতিবেদনটি অনুসারে, চীনের হুয়াউয়ে টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড সুইডেনের এরিকসনকে পেছনে ফেলে টেলিকমপণ্যের বাজারের শীর্ষস্থানে চলে এসেছে। শুধু হুয়াউয়ে নয়, চীনের কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লেনোভো চলতি বছরের শেষ নাগাদ কম্পিউটার বিক্রির হিসাবে হিউলেট প্যাকার্ডকে (এইচপি) হটিয়ে বিশ্বের ১ নম্বর প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। লেনোভোর এই রেকর্ড ছুঁতে পারাটা চীনা কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠে আসার ঘটনা হবে।
এ বছরের জুলাই মাসে তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনার ও আইডিসির প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা জানিয়েছিলেন, লেনোভো ও হুয়াউয়ে চলতি বছরেই কম্পিউটার ও টেলিযোগাযোগ-পণ্যের ক্ষেত্রে বাজারে শীর্ষস্থান দখল করবে।
২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—এ তিন মাসে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কম্পিউটার বিক্রি করেছিল লেনোভো। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসে বাজারে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ দখল করেছিল প্রতিষ্ঠানটি, যা এইচপির চেয়ে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কম। এ বছরের শেষ নাগাদ এইচপিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে টেলিকম প্রযুক্তির শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হুয়াউয়েকে শীর্ষে উঠে আসতে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। ১৯৮৭ সালে চীনা সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়া প্রকৌশলী রেন জেনফেই হুয়াউয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রথম দিকে চীনের বাজারেও হুয়াউকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। ১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো বাইরের দেশে নেটওয়ার্ক বাড়ানোর সুযোগ পায় হুয়াউয়ে। বর্তমানে ১৪০টি দেশে এক লাখ ৪০ হাজার কর্মী নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউরোপের কয়েকটি দেশে চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরির জন্য চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হুয়াউয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, এই প্রতিষ্ঠান চীনা সরকার ও চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে বিভিন্ন দেশের ওপর গোপনে নজরদারির সুযোগ করে দিচ্ছে। আর এই অভিযোগ বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে হুয়াউয়ের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
হুয়াউয়ে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলা চালানো হচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগ। চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য পেতে হুয়াউয়েকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে নজরদারি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি সাইবার যুদ্ধ হলে চীনারা হুয়াউয়ে নেটওয়ার্ক তাদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে—এমন ধারণা করে বিভিন্ন দেশে হুয়াউয়ের ওপর কড়া নজরদারি করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও অস্ট্রেলিয়াতেও হুয়াউয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে এবং নেটওয়ার্ক বাড়ানোর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। হুয়াউয়ে বাধার মুখে পড়েছে ভারতেও। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নেটওয়ার্কে চীনা হ্যাকারদের সাইবার হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা হুয়াউয়ের সংশ্লিষ্টতা খুঁজছে। ইউরোপিয়ান কমিশন তদন্ত শুরু করেছে বিষয়টি নিয়ে।
পশ্চিমা দেশগুলোয় হুয়াউয়ের নেটওয়ার্ক বিস্তৃতিতে চীনা সরকারের স্পষ্ট মদদ বা হাত রয়েছে বলে প্রচলিত ধারণা থেকেই মূলত হুয়াউয়ে নিয়ে এ ভয়ের সৃষ্টি। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের ধারণা, হুয়াউয়ে নেটওয়ার্ক বাড়ালে চীন সরকার বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর গোপনে নজরদারি করতে পারবে। হুয়াউয়ের বিষয়ে ভীত হয়েই প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক টেলিকম অবকাঠামো ক্ষেত্রে নিলামে অংশ নিতে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
হুয়াউয়ের দাবি, টেলিকম প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ, কোনো দেশে একবার গোপনে নজরদারির এমন তথ্য ধরা পড়লে হুয়াউয়ের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। হুয়াউয়েকে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশটির অর্থনৈতিক বিকাশে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। হুয়াউয়ের সাশ্রয়ী কিন্তু কার্যকর প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হবে দেশটি। যেহেতু টেলিযোগাযোগের পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে চীন শীর্ষে, তাই টেলিযোগাযোগের যন্ত্রাংশের সরবরাহ নিশ্চিত হবে। চীনের নকশা ও উত্পাদন ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সারা বিশ্বের টেলিকম প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহ করছে। হুয়াউয়ে বা এর চীনা প্রতিদ্বন্দ্বী ‘জেটিই’ বাদ দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো পশ্চিমা প্রতিষ্ঠান বেছে নিলেও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হবে না। কারণ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই এখন চীনের টেলিকম যন্ত্রাংশের সরবরাহের ওপরই নির্ভর করতে হয়।
হুয়াউয়ের পরামর্শ হচ্ছে, নজরদারি করতে হলে শুধু হুয়াউয়ের ওপরেই নয়, টেলিকম প্রযুক্তির সব প্রতিষ্ঠানের ওপর সমানভাবে করা উচিত। সরকারের উচিত সে দেশের ব্যবসা পেতে হলে কী শর্ত মানতে হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কারভাবে আগে ভাগে একটি নীতিমালা তৈরি করে তা জানিয়ে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তেমন কোনো নীতিমালা নেই। তাই তাদের উচিত, কোন দেশ যন্ত্র তৈরি করছে, সেটা নিয়ে না ভেবে কোন যন্ত্রাংশ নিরাপদ হবে, সেটা নির্ধারণ করে দেওয়া।
হুয়াউয়ে কর্তৃপক্ষের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্লাই চেন পরীক্ষার কোনো কার্যকর পদ্ধতি নেই। যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ টেলিকমের জন্য জিসিএইচকিউ (ব্রিটেনের সিগন্যালস-ইনটেলিজেন্স এজেন্সি) সঙ্গে যুক্ত হয়ে হুয়াউয়ে একটি ইউনিট তৈরি করেছে, যা নিরাপত্তা পরীক্ষায় কাজ করে। এ ধরনের পদ্ধতি নিতে পারে ভীত দেশগুলো। 
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, হুয়াউকে নিয়ে সৃষ্ট ভীতি দূর করতে এর কর্তৃপক্ষের বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার বিষয়টি অস্বচ্ছ ও গোপন ব্যবসা নীতি অনেক দেশের সরকারের মনেই গোপনে নজরদারি ও সাইবার হামলার ভয় ধরিয়েছে। এ ভয় দূর করতে পুরো বিষয়টি খোলাসা করে প্রতিষ্ঠানটির তথ্য আরও উন্মুক্ত করা উচিত। ভবিষ্যতে হুয়াউয়েকে টিকে থাকতে হলে নিজে স্বচ্ছ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

সালমান-ক্যাটরিনার সিক্যুয়েল নয়! (ভিডিও)



সালমান ও ক্যাটরিনা এখন বেশ কাছাকাছি এসেছেন। ক্যাটরিনার সিঁথিতে সিঁদুর দেখে অনেকেই নানা মন্তব্য করেছেন দুজনকে নিয়ে। দুই ভুবনের এ দুই বাসিন্দাকে অবশ্য কাছে এনেছে যশ রাজ ফিল্মসের রোমান্টিক থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্র ‘এক থা টাইগার’। সালমান-ক্যাটরিনার দুর্দান্ত অভিনয়ে চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে সুপারহিট। এবার কি দুজনকে নিয়ে ‘এক থা টাইগার’-এর সিক্যুয়েল হচ্ছে? সালমান-ক্যাটরিনার সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা আর ‘এক থা টাইগার’-এর সাফল্য—সব মিলিয়ে চলচ্চিত্রের সিক্যুয়েলকে হিট করানোর সব উপকরণও মজুদ। কিন্তু কী ভাবছেন পরিচালক কবির খান? তিনি ‘এক থা টাইগার’ চলচ্চিত্রের সিক্যুয়েল তৈরির সব গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন।
পিটিআই জানিয়েছে, গুজব ছড়িয়েছিল যে ‘এক থা টাইগার’ বক্স অফিসে সুপারহিট হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শিগগিরই এ চলচ্চিত্রের সিক্যুয়েলের কাজে হাত দেবেন কবির খান। এমনকি সিক্যুয়েলের নামও ঠিক হয়েছিল। তবে বিষয়টিকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে চলচ্চিত্রের পরিচালক বলেন, ‘সালমান অভিনীত ছবিটির সিক্যুয়েলের সুযোগ থাকলেও আমরা এটা নিয়ে কোনো কিছুই ভাবিনি। এর কোনো ধারণাও মাথায় নেই।’
পরিচালকের সুরেই সুর মিলিয়েছে চলচ্চিত্রটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যশ রাজ ফিল্মস। এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলচ্চিত্রটির সাফল্য অবশ্যই এর সিক্যুয়েল দাবি করে। তবে এ মুহূর্তে এর সিক্যুয়েল তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই যশ রাজ ফিল্মসের। 
১৫ আগস্ট মুক্তি পেয়েছে রোমান্টিক থ্রিলারধর্মী ‘এক থা টাইগার’। চলচ্চিত্রটি প্রথম দিনেই ৩৩ কোটি রুপি আয় করেছে। তবে এর কাহিনির কিছু অংশ পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের বিরুদ্ধে যাওয়া অভিযোগে চলচ্চিত্রটি পাকিস্তানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সূর্য না-ডোবা দেশে ইফতার



বিশ্বের এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের পক্ষে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। সেখানকার মানুষ ইফতারের সময় ঠিক করবে কীভাবে? স্থানীয় সময়, মক্কা-মদিনার সময়, নাকি পার্শ্ববর্তী কোনো মুসলমান দেশের সময় ধরে?
উত্তর ফিনল্যান্ডের রোভানেইমি এমনই এক শহর। রাজধানী হেলসিংকি থেকে ৮৩০ কিলোমিটার দূরে সুইডেন সীমান্তের কাছের এ শহরে বাস করছেন বেশ কিছু বাংলাদেশি মুসলমান। সেখানে রোজা রাখছেন তাঁরা। কিন্তু ইফতারের সময় নির্ধারণ করতে গিয়ে তাঁদের পড়তে হচ্ছে বেকায়দায়।
বিশ্বের অন্যান্য মুসলমানের মতো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে এক মাস রোজা রেখেছেন রোভানেইমির মুসলমানেরাও। এক মাসের রোজা পালনে সুবহেসাদেকের আগে সেহরি খেয়ে সূর্যাস্তের সময় ইফতারি করেন তাঁরা। কিন্তু এ সময় নির্ধারণ করতে গিয়ে রোজাদারদের দ্বিধায় পড়তে হয়। কারণ, এ শহরে গ্রীষ্মের সময় সারা দিনই সূর্যের আলো থাকে। রোভানেইমিতেই রোজা রাখছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহ জালাল মিয়া মাসুদ (২৮)। বাংলাদেশ থেকে পাঁচ বছর আগে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করতে সেখানে যান তিনি। দিনের হিসেবে প্রায় ২১ ঘণ্টা তিনি পানাহার থেকে বিরত থাকেন। ইফতার কখন? এ প্রশ্ন শুনে হাসেন মাসুদ। তাঁর উত্তর, ‘এখনো তো সূর্যাস্ত হয়নি। সব সময় একই রকম মনে হয়। দিগন্তে সব সময় সূর্য থাকায় ইফতারির সঠিক সময় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। সন্ধ্যা পেরিয়ে এখন রাত ১১টা বাজে। সূর্য এখন দিগন্তের আড়াল হয়ে আকাশ গাঢ় নীল হয়েছে, তাই এখন ইফতারের সময় হিসেবে ধরে নিচ্ছি।’ এভাবেই সন্ধ্যা হতে না-হতে আবার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই সূর্য উঠে যাবে। মাসুদ বলেন, ফিনল্যান্ডের সময় অনুসরণ করে রোজা রাখা কঠিন।
স্থানীয় ইমাম ও উত্তর ফিনল্যান্ডের ইসলাম সোসাইটির প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান জানান, রোভানেইমিতে রোজার সময় নির্ধারণ করতে দক্ষিণ ফিনল্যান্ডের সঙ্গে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় হিসাব কষে বের করা হয়। রোজার সময় নির্ধারণে দুটি পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। মিসরীয় পদ্ধতি অনুসারে, যদি দিন দীর্ঘ হয়, অর্থাত্ ১৮ ঘণ্টার বেশি হয়, তখন মক্কা বা মদিনার সময় বা পার্শ্ববর্তী মুসলিম দেশের সময় অনুসরণ করা যেতে পারে। আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে সৌদি আরবের। এ পদ্ধতি অনুসারে, দিন ছোট বা বড় যা-ই হোক না কেন, স্থানীয় সময় অনুসরণ করতে হবে।
আবদুল মান্নান জানান, উত্তর ফিনল্যান্ডের অধিকাংশ মুসলমান রোজা রাখতে মক্কার সময় অনুসরণ করেন। অনেকে পাশের মুসলিম দেশ হিসেবে তুরস্কের সময়ও অনুসরণ করেন।
ঢাকা থেকে ছয় বছর আগে উত্তর ফিনল্যান্ডের ল্যাপল্যান্ড যান নাফিসা ইয়াসমিন। সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছেন তিনি। ইয়াসমিন বলেন, রোজার জন্য সময় নির্ধারণ করা এখানে অনেক কষ্টের। সেখানে প্রথমবার রোজা রাখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি আরও বলেন, ‘ফিনল্যান্ডের স্থানীয় সময় মেনে ইফতার করতে গিয়ে ২০ ঘণ্টারও বেশি পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। পরে আমি মক্কার সময় অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিই।’
ইয়াসমিন বলেন, রোভানেইমিতে ইফতারের সময়ের সমস্যা ছাড়াও এখানে হালাল খাবারের দোকান নেই বললেই চলে। নিকটবর্তী শহর বলতে ‘অউলু’। তা-ও ৩০০ কিলোমিটার দূরে। বিকল্প হচ্ছে সুইডেনের সীমান্তের লালেয়া শহর। সেখানে গাড়িতে করে যেতে-আসতে ছয় ঘণ্টা লাগে। পুরো রোজার মাসের হালাল খাবার সংগ্রহের জন্য সেখানেই যেতে হয়।
ফিনল্যান্ডের উত্তরের শহরগুলোতে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয় দেশটি। সারা বিশ্ব থেকে অনেক মুসলমান ফিনল্যান্ডের এ অঞ্চলে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়, বিশেষ করে সোমালিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানের মানুষ। ২০০১ সাল থেকে প্রতিবছর ৭৫০ জন শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে ফিনল্যান্ডের সরকার। নতুন শরণার্থীদের রোভানেইমির মতো উত্তরের শহরগুলোয় পাঠানো হয়।

বাঘিনী জোলি, শিকারি পিট!


»

ব্র্যাড পিট আর অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। হলিউডের আলোচিত এ জুটিকে সবারই চেনার কথা। একসঙ্গে ঘর করছেন তাঁরা, পালন করছেন ছয়-ছয়টি সন্তানকেও। বিয়ের জন্য ইতিমধ্যেই আংটি বদল সেরে ফেলেছেন তাঁরা। কিন্তু কীভাবে অ্যাঞ্জেলিনাকে জয় করলেন ব্র্যাড পিট? বনের বাঘিনীকে যেভাবে শিকারির হাতে পড়তে হয়, সেভাবেই! অর্থাৎ জোলিকে পেতে অপেক্ষা করেছেন পিট, দীর্ঘ সে অপেক্ষা। সম্প্রতি পিট আর জোলির সম্পর্ক নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডেইলি এক্সপ্রেস।
পিটের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বরাতে ডেইলি এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সাত বছর ধরে একই ছাদের নিচে বাস করছেন পিট আর জোলি। কিন্তু তাঁরা বিয়ের মন্ত্র পড়েননি এত দিন! পিট অপেক্ষা করছিলেন, কবে জোলিকে বিয়ের জন্য ‘হ্যাঁ’ বলতে শুনবেন। সাত বছর পর তাঁর অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে। ব্র্যাড পিট যা করেছেন, তা হলিউডে আর কারোর পক্ষেই এভাবে করা সম্ভব নয়।
ব্র্যাড পিটের অসীম ধৈর্য নিয়ে তাঁর খুব কাছের বন্ধুটির মন্তব্য হচ্ছে, ব্র্যাড হলিউডের এমন একজনকে বেছে নিয়েছেন, যাঁকে বনের বাঘিনীর সঙ্গে তুলনা করা যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, তিনি হিংস্র সেই বাঘিনীকেও পোষ মানিয়েছেন। এই বাঘিনীর মধ্যে হিংস্রতার সব উপকরণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও পিট তাঁকে সামলানোর সব ধরনের মন্ত্রই রপ্ত করে নিয়েছেন।
জোলিকে হিংস্র বাঘিনীর সঙ্গে তুলনা করার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। কারণ জোলির অতীত। সেই ইতিহাস ঘাঁটলে অদম্য আর হিংস্র এক চরিত্রের ব্যাড গার্লের দেখা মিলবে, যে সহজে পোষ মানার নয়। দুই-দুইবার সংসার ভাঙা, ড্রাগ আর সম্পর্কের বিতর্ক যাঁকে ঘিরে থাকত, তাঁকে খাঁচায় আটকাতে দক্ষ শিকারিই হতে হয়।
অবশ্য ব্র্যাড খাঁচায় পুরেছেন জোলিকে—এটি না বলে হয়তো জেনিফার অ্যানিস্টনের কাছ থেকে ব্র্যাডকেই জোলি ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন বলাই ভালো। কিন্তু এই চুরির ফল হয়েছে ভিন্ন। শিকারই ফাঁসিয়েছে শিকারিকে। ব্র্যাডকে চুরি করে নেওয়ার পর থেকেই জোলি যেন কেমন বদলে গেছেন। এতটাই বদলেছেন যে হলিউডের অনেকের কাছেই তা ঈর্ষণীয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, জোলির হিংস্র জীবনকে ব্র্যাড কোন মন্ত্রে বশে এনে সাত বছর ধরে তাঁর মন জয় করার অবকাশ পেলেন?
পিটের অন্তরঙ্গ সূত্রটি জানিয়েছে, তাঁর বন্ধুটি বেশ চতুর। শিকারি যেমন শিকার করার সময় তার শিকারকে বুঝতে দেয় না, নিজের মতো করে খেলতে দেয়, ব্র্যাড পিটও সেই সূত্র মেনে চলেছেন। জোলির মতো করেই তাঁকে থাকতে দিয়েছেন, তারপর ধীরে ধীরে উপলব্ধি থেকেই এসেছে এই পরিবর্তন। জোলি যেমনটি নন, তাঁকে তেমন করার কোনো চেষ্টাই করেননি পিট। সূত্রটি জানিয়েছে, পিট যা করেছেন, অনেকেই এটি করতে পারেন না বা সঙ্গীর মধ্যে জোর করে পরিবর্তন আনতে গিয়ে সম্পর্কটা নষ্ট করে ফেলেন। অনেকে তাল মেলাতে গিয়ে নিজেও পথ ভুল করেন। পিট এ ভুল করেননি। জোলিকে তাঁর নিজের মতো করে ভাবতে সুযোগ করে দিয়েছেন, তারপরই স্থিরতা এসেছে তাঁর মধ্যে। পরে যোগ হয়েছে সন্তান আর জোলির ক্যারিয়ারের বিষয়টি। জোলিকে তাঁর নিজের চারপাশের পৃথিবীকে নিজেই গড়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন পিট।
পিটের ঘনিষ্ঠ সূত্রটির মতে, ব্র্যাডের নিজের উপলব্ধি আর জোলিকে বুঝতে পারার ক্ষমতাই বশে এনে দিয়েছে বুনো এই বাঘিনীকে। বিশ্বস্ততা আর শর্তহীন সম্পর্কই জয়ী করেছে পিটকে। জোলির সাবেক প্রেমিকদের কেউই এ বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারেননি। জোলির নিজের চাওয়াটাও ছিল এমনই। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি সব সময় ভালোবাসা চেয়েছি, যা হবে উদার আর হূদয় থেকে উত্সারিত। সে ভালোবাসায় বিশ্বস্ততা থাকতে হবে। কখনো যেন ভালোবাসার মধ্যে সামান্যতম ফাঁক না থাকে বা প্রতারণা না থাকে। আর তা হলেই আমাকে জয় করা যাবে।’
জোলির এ চাওয়া হয়তো অনেক বেশি কিছু আর স্বপ্নের রাজপুত্র চাওয়ার মতো বিষয় ছিল। কিন্তু ব্র্যাড পিট সব সময় পাশে থেকে জোলিকে তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য সমর্থন দিয়ে যেতে পেরেছেন। এই পাশে থাকাটাই জোলির বিশ্বাসকে জিতে নিয়েছে। ব্র্যাড পিটের কাছ থেকে দাতব্য কাজ আর আশ্রয়হীন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দীক্ষাও পেয়েছেন জোলি।
ধরাবাঁধা সম্পর্কে জড়ানোর মতো মানসিকতা কখনোই ছিল না জোলির। জোলি স্বীকার করেছেন, সম্পর্কের টানাপোড়েনে তাঁর যে সময় কেটেছে, এর পরিপূর্ণতা এসেছে পিটের হাত ধরেই। পিটই তাঁকে নিজেকে চিনতে শেখার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। জোলি বলেন, ‘এখন আমি যখন কোনো উৎপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াই, তখনই জীবনের একটা উদ্দেশ্য খুঁজে পাই। বিশ্বের একটা চিত্র আমার চোখের ওপর এসে পড়ে।’
নিজের বর্তমান অবস্থা, পিট আর নিজেকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে জোলি বলেন, ‘পিট আমাকে পুরোপুরি বুঝতে পারে। এই যে আমি, আমার সবকিছুই তাঁর জানার অধিকারে। আমি বলতে পারি, সে আমাকে ভালোবাসে। আমাকে আমার বাচ্চারাও খুব ভালোবাসে। তারা আমার দোষ-গুণ সম্পর্কে জেনে আমাকে আপন করে রেখেছে। আর এভাবেই আমি নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবি।’

জোনাকিদের গ্রহে ভয়েজার ১

আমি ডি৫, আমার মেমোরিতে শুধু এটুকু রয়েছে......................যেখানে ঘাস একটু বড়, সেখানে ঘাসের মধ্যে কি জেনো একটা জ্বলছে। জোনাকি...
http://kidz.bdnews24.com/vMag/kidz2012eid2/

Friday, August 10, 2012

কাঠের তৈরি কম্পিউটার!

http://prothom-alo.com/detail/news/280829
কম্পিউটার থেকে কার্বনের নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব কম্পিউটার তৈরি করছে আয়ারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মাইক্রোপ্রো। ‘আইএমইকো পিসি’ নামের পরিবেশবান্ধব এই টাচস্ক্রিন কম্পিউটার কাঠের তৈরি। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে ডেইলি মেইল।
নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান মাইক্রোপ্রোর দাবি, এই কম্পিউটারটির ৯৮ শতাংশ রিসাইকেল করা যায়। কম্পিউটারটিতে কাঠের তৈরি কাঠামোর সঙ্গে টাচস্ক্রিন যুক্ত করা হয়েছে। কম্পিউটারের ফ্যানের পরিবর্তে কপার পাইপের বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, এর ফলে এতে শব্দ হয় না। এটি সাধারণ কম্পিউটারের তুলনায় ৭০ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ করে।
জার্মান বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার স্লসারের নকশা করা এই কম্পিউটার ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইকোলেবেল ‘ফ্লাওয়ার’ পুরস্কার জিতেছে।
আলেকজান্ডার স্লসার পরিবেশবান্ধব এ কম্পিউটার প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, টাচস্ক্রিনের এই কম্পিউটারটি খুব কম শক্তিতে চলে। আইএমইকো পিসির পর কাঠের তৈরি ল্যাপটপ তৈরি করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলের ছবি পাঠাচ্ছে কিউরিওসিটি অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: ১০-০৮-২০১২


1 2
মঙ্গলের মাটিতে তৃতীয় দিন পার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার বিজ্ঞানীদের পাঠানো কিউরিওসিটি। প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে যন্ত্রপাতি পরীক্ষায় ব্যস্ত সময় কেটেছে কিউরিওসিটির। তৃতীয় দিনে ক্যামেরা চালু করে ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে কিউরিওসিটি। কিউরিওসিটির তোলা সে ছবিগুলো মঙ্গল থেকে পৃথিবীতে পাঠানো ‘রঙিন পোস্টকার্ডের’ মতো। রয়টার্সের খবরে এ কথা জানানো হয়। 
৬ আগস্ট সোমবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে মঙ্গলের মাটিতে অবতরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার বিজ্ঞানীদের পাঠানো কিউরিওসিটি মহাকাশযান। মঙ্গলে অবতরণের পর কিউরিওসিটির সব যন্ত্রাংশ ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখছেন নাসার গবেষকেরা। প্রথম দিন মঙ্গলের তেজস্ক্রিয়া মাপতে আর যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখেতে সময় কেটেছে কিউরিওসিটির। 
মঙ্গলের দ্বিতীয় দিনে এ পরীক্ষার অংশ হিসেবেই কিউরিওসিটি মাস্তুল খাড়া করেছে। এ মাস্তুলের সঙ্গে লাগানো ক্যামেরা ব্যবহার করে তৃতীয় দিনে মঙ্গলের নিসর্গের রঙিন ছবি তুলেছে কিউরিওসিটি। ৯ আগস্ট নাসার গবেষকেরা জানিয়েছেন, মঙ্গলে কিউরিওসিটিরি তৃতীয় দিনে নিজের ছবি ও কিউরিওসিটির বর্তমান অবস্থান গেইল কার্টারের রঙিন ছবি তুলে পাঠিয়েছে। এ ছবি তুলতে ৩৪ মিলিমিটার ক্যামেরা ব্যবহার করেছে কিউরিওসিটি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গেইল কার্টারের মাঝামাঝি অবস্থানে একটি উঁচু পাহাড় দেখা যাচ্ছে। মাউন্ট শার্প নামের এই পাহাড়টির চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করবে কিউরিওসিটি। আর চলার পথে পাথর ভেঙে আর মাটি বিশ্লেষণ করে অণুজীবের সন্ধান চালাবে। কিউরিওসিটির মাস্তুলে ৩৪ মিলিমিটার ক্যামেরাটির পাশে রয়েছে আরেকটি ১০০ মিলিমিটার টেলিফটো লেন্সের ক্যামেরা। দুটি ক্যামেরা মিলিয়ে উন্নত মানের ছবি তুলতে পারে।
নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির গবেষক ডন সামনার জানিয়েছেন, কিউরিওসিটির ভবিষ্যত্ নিয়ে নাসার একটি বড় দল বর্তমানে কাজ করছে। তাঁরা কিউরিওসিটিকে কোন পথে নিয়ে যাবেন তা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। তবে কিউরিওসিটি যেখানে মূল গবেষণা চালাবে, সেটি তার বর্তমান অবস্থান থেকে সাড়ে ছয় কিলোমিটার দূরে মাউন্ট শার্প বেসে। সেখানে পৌঁছাতে এক বছর লাগবে কিউরিওসিটির।
কিউরিওসিটির মিশনের ব্যবস্থাপক মাইলেক ওয়াটকিনস জানান, মঙ্গলে তিন দিন কাটানোর পরও কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি কিউরিসিটির মধ্যে। কোনো সমস্যা ছাড়াই পরিকল্পনামাফিক সব ধরনের কাজ করছে এ রোবটযানটি। কিউরিওসিটিতে রাসায়নিক পরীক্ষায় যেসব যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে, এখন সেগুলোর পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। কিউরিওসিটির তোলা ছবিতে দেখা গেছে, যে পথে যানটি এগোবে সে পথটির নুড়ি বা পাথর থেকে যানটির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। 
মঙ্গলে কিউরিওসিটির চতুর্থ দিন পার হবে সফটওয়্যার ও ধুলা বিশ্লেষক যন্ত্রগুলো ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষায়। এদিন কিউরিওসিটির মূল কম্পিউটারে সফটওয়্যার আপগ্রেড করা হবে। এ সফটওয়্যারটি মঙ্গলপৃষ্ঠে কী কাজ করতে হবে সে বিষয়ে কিউরিওসিটিকে নির্দেশনা দেবে। এই সফটওয়্যার আপগ্রেডের কারণে অন্য কাজ আপাতত বন্ধ রাখবে কিউরিওসিটি।

মঙ্গলগ্রহে মানবযাত্রার আয়োজন (ভিডিও)


1 2

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার বিজ্ঞানীদের পাঠানো কিউরিওসিটি মঙ্গলের লাল মাটিতে সফলভাবে অবতরণের পর আবারও আলোচনায় এসেছে মঙ্গলগ্রহের অভিযান। এ সফলতা নতুন একটি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—মঙ্গলে কবে পা রাখছে মানুষ? 
মঙ্গল অভিযান সফল করার লক্ষ্যে গবেষকেরা কঠোর পরিশ্রম শুরু করেছেন। মঙ্গলের পরিবেশে খাপ খাওয়াতে নভোচারীদের কী প্রয়োজন পড়বে, এ নিয়ে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের সবচেয়ে শীতল অঞ্চলটিতে গবেষণা শুরু করেছেন একদল গবেষক। এদের মধ্যে একজন হচ্ছেন ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির গবেষক আলেকজান্ডার কুমার (২৯)। 
মহাশূন্য অভিযানে মানুষের ওপর মানসিক ও শারীরিক কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে গবেষণা চলছে অ্যান্টার্কটিকার কনকর্ডিয়া গবেষণাকেন্দ্রে। পৃথিবীর শীতল ও দূরবর্তী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত অ্যান্টার্কটিকার প্রতিকূল পরিবেশ। মঙ্গলগ্রহের মতো প্রতিকূল পরিবেশে চরম নিঃসঙ্গ পরিবেশে মানুষের ওপর কেমন প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে বিবিসি ফিউচারকে এক সাক্ষাত্কার দিয়েছেন আলেকজান্ডার কুমার।
আলেকজান্ডার কুমার ফ্রেঞ্চ পোলার ইনস্টিটিউট ও ইতালিয়ান অ্যান্টার্কটিক প্রোগ্রামের কনকর্ডিয়া স্টেশনের চিকিত্সক। তিনি ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির গবেষক হিসেবেও এখানে কাজ করছেন। মঙ্গলগ্রহে বাস করতে হলে যে পরিস্থিতিতে নভোচারীদের পড়তে হতে পারে, তা নিয়ে অ্যান্টার্কটিকায় গবেষণা করছেন তিনি। বিশ্বের সবচেয়ে বৈরি আবহাওয়া দক্ষিণ মেরু বা অ্যান্টার্কটিকায়৷ রাশিয়ার ভস্তক স্টেশনের রেকর্ড অনুযায়ী, মহাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৮৯ ডিগ্রি নিচে৷ তাই মহাকাশবিষয়ক বা প্রতিকূল পরিবেশের অভিযানের আগে প্রশিক্ষণে দক্ষিণ মেরুর এ অঞ্চলটিকেই বেছে নেন বিজ্ঞানীরা। যেকোনো দুঃসাহসী অভিযানের আগে এ রকম মহড়া চালান বিজ্ঞানীরা। চাঁদে অভিযানের আগে যেমন মহড়া চালিয়েছিলেন প্রথম চন্দ্র বিজয়ীরা৷১৯৬৯ সালে চাঁদে পা রাখার আগে আইসল্যান্ডের শুষ্ক মাটিতেই প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন৷ কনকর্ডিয়ায় মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে এক বছরের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন গবেষকেরা। 
বর্তমানে ‘হোয়াইট মার্স’ বা শ্বেতমঙ্গল হিসেবে পরিচিত অ্যান্টার্কটিকার কেন্দ্রে বাস করছেন আলেকজান্ডার। শীতল, অন্ধকারাচ্ছন্ন ওই স্থানে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিকূল পরিবেশ রয়েছে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। আলেকজান্ডার জানান, কনকর্ডিয়ায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৮০ ডিগ্রি নিচে নেমে যায়, দিনের বেশির ভাগ সময় বরফে ঢেকে থাকে চারপাশ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর মাসের পুরো সময়জুড়েই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। এখানে সিলিন্ডার আকৃতির তিনতলা একটি টাওয়ার রয়েছে। 
আলেকজান্ডারের মতে, এটাকে ঠিক বসবাসের উপযোগী বাড়ি বলা যায় না। এটা অনেকটাই মহাকাশযানের মতো। এখানে জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণ হয়তো আছে, কিন্তু চারপাশে শত শত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুধু বরফ ছাড়া আর কিছু নেই। আলেকজান্ডার এখানে একমাত্র চিকিত্সক হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর দলের অন্য ১২ জন সদস্যের শারীরিক চিকিত্সার প্রয়োজনের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য দেখার দায়িত্বও তাঁর। তিনি অ্যান্টার্কটিকার এ পরিবেশে বসে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার হয়ে মহাকাশযাত্রায় মানুষের স্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণা করছেন। মহাকাশের চরম প্রতিকূল পরিবেশে মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লে তাঁর মানসিক অবস্থা কেমন হবে, তা নিয়েই কুমারের কাজ। তাঁর এ গবেষণা কবে নাগাদ মানুষ মঙ্গলে যেতে পারবে এবং পৃথিবীতে সুস্থভাবে ফিরে আসতে পারবে, তার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আলেকজান্ডার কুমার বলেন, মঙ্গল অভিযাত্রার জন্য প্রশিক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে অ্যান্টার্কটিকাকে বেছে নেওয়ার কারণ হচ্ছে, প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার কৌশল রপ্ত করা। অ্যান্টার্কটিকার পরিবেশ অনেক বেশি প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও মঙ্গলের সঙ্গে বিস্তর ফারাক রয়েছে। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে, মহাকর্ষ বল ও বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব। তবে মঙ্গলের সঙ্গে তাপমাত্রার খুব বেশি ফারাক নেই অ্যান্টার্কটিকার। এই স্টেশনে যাঁরা বাস করার অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, তাঁরা নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন। সভ্য মানুষের জগত্ থেকে বেরিয়ে তাঁদের এ জীবনযাত্রা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যে নভোচারীরা বাস করছেন, তাঁদের চেয়েও অনেক কঠিন বলে মনে হয়। নভেম্বর মাসের আগ পর্যন্ত কনকর্ডিয়া বেসে বাস করাটা এক ধরনের অসম্ভব বলেই মনে করছেন তিনি। গবেষণার পাশাপাশি এখানে টিকে থাকার জন্য সদস্যদের নিয়মিত সংগ্রাম করে যেতে হয়। এখানে স্বনির্ভর ও নিজে থেকে টিকে থাকার কৌশল অবলম্বন করতে হয় সদস্যদের। এখানে যে খাবার খেতে হয়, সেগুলো সবই শুকনো ও প্যাকেটজাত। অ্যান্টার্কটিকায় যখন শীতকাল শুরু হয়, তখন খাবারের সরবরাহ ঠিকমতো থাকে না। মঙ্গলে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাতে কেমন লাগবে, সে অভিজ্ঞতা লাভে সুযোগ রয়েছে সেখানে। 
আলেকজান্ডারের মতে, এ পরিবেশে টিকে থাকার জন্য অনেক মানসিক শক্তির প্রয়োজন। মানিয়ে নিতে হয় একাকিত্ব, জয় করতে হয় ইন্দ্রিয়কে। এখানে একটা বিষয় সদস্যদের প্রায় পেয়ে বসে আর তা হচ্ছে ‘একঘেয়েমি’। তবে একঘেয়েমি দূর করার জন্য দলের অন্য সদস্যের সঙ্গে সবকিছু ভাগাভাগি করে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। সাদা বরফের নিস্তব্ধ এ দুনিয়ায় নিজেকে উজ্জীবিত রাখতে হিমশীতল পরিবেশে নিজেকে একাকিত্বের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য উত্সাহ খুঁজতে হয়। অন্ধকার পরিবেশের পর দিনের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। আগে এখানে প্রযুক্তির সুবিধা অনেকটাই কম ছিল। কিন্তু এখন প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে গেছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ-ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন মানসিক নিঃসঙ্গতা থেকে কিছুটা মুক্তি মেলে। এখানে পার্থিব জীবনের অনেক বিষয় স্পর্শ না করায় যেন মনে হয়, নিজের মনের কাছে নিজেই বন্দী। অনেকেই এখানে নিজেকে মৃত বলেই ভেবে বসেন। এ ধরনের মানসিক নিঃসঙ্গতায় পেয়ে বসলেই তখন নিজের শখ ও ইচ্ছাগুলোকে জাগানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বই পড়া এবং গান শোনার মতো বিষয়গুলো তখন মানসিক প্রশান্তি সৃষ্টি করে। 
আলেকজান্ডার ধারণা করছেন, মঙ্গলের অভিযাত্রীদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের মানসিক অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। তবে পৃথিবীতে এ ধরনের অবস্থা সৃষ্টি করায় একটা বিষয়ের ঘাটতি থেকে যায় আর তা হচ্ছে ভরশূন্য পরিবেশ। ভরশূন্য পরিবেশে এ ধরনের পরিস্থিতির পাশাপাশি তাঁকে আরও অনেক শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। যেমন ফুসফুসের সমস্যা, হাড়ের মজ্জার সমস্যা এবং নিজের ভারসাম্য ঠিক রাখার মতো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সামর্থ্য অর্জন। মঙ্গলের মাটিতে মহাজাগতিক রশ্মি ও ধুলার ঝড়ে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে নভোচারীর অবস্থা। কিন্তু এ বিষয়গুলো কনকর্ডিয়ায় তেমন প্রভাব ফেলে না। কিন্তু ঘুমের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটে আর সূর্যরশ্মির ঘাটতিতে ভিটামিন ‘ডি’-র অভাব দেখা দেয়। এখানে জীবনযাপনের জন্য দেহঘড়ি ঠিক রাখতে সঠিক কাজগুলো করতে হয়।
‘মার্স ৫০০’ গবেষণার সঙ্গে জড়িত রোমেইন চার্লস নামের একজন গবেষকের উল্লেখ করে আলেকজান্ডার জানান, তিনি ৫২০ দিন নিঃসঙ্গ কাটিয়েছিলেন। তাঁর কাছে মনে হয়েছে, মঙ্গলে মানুষ যদি পাঠানো হয়, তবে তাকে ফেরত আনার নিশ্চয়তা দিতেই হবে। মঙ্গলে গেলে সেখান থেকে ফিরে আসার জন্য একসময় মন চাইবে। ফিরে আসার ক্ষীণ আশাও মঙ্গল অভিযাত্রীদের মানসিক অবস্থা ভালো রাখতে পারবে। কনকর্ডিয়ায় বাস করে আমরাও বহির্বিশ্বের খবর জানতে উত্সুখ থাকি। কারও সঙ্গে যোগাযোগের অপেক্ষায় থাকি। এ ক্ষেত্রে অ্যাপোলো অভিযানের অভিযাত্রীদের একটি তত্ত্ব ছিল, তাহলো কাজে ব্যস্ত থাকা, সময় আর দূরত্বের ব্যাপারটি নিয়ে মোটেও মাথা না ঘামানো। তাঁরা সেটাই করেছিলেন। কনকর্ডিয়ায়ও সেভাবেই সময় কাটে। গবেষণার কাজ, যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক রাখা, সবই সময় মেনে করা হয়।
মঙ্গল অভিযাত্রায় কতজন সদস্যকে বেছে নেওয়াটা যুক্তিযুক্ত হবে, সে বিষয়টি নিশ্চিত নন আলেকজান্ডার। তবে বিভিন্ন দেশ থেকে বাছাই করে দক্ষ, মানসিক শক্তি ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর সুস্থ নভোচারীকে মঙ্গল যাত্রার জন্য নির্বাচিত করতে হবে বলেই তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, এসব নভোচারীকে অবশ্যই মানসিকভাবে সুস্থ ও সবল হতে হবে, নিঃসঙ্গ পরিবেশে কর্মচঞ্চল, উদ্যমী ও উত্সাহী হতে হবে। এখানে নারী-পুরুষ দুই ধরনের নভোচারী থাকা অবশ্যই প্রয়োজন। কনকর্ডিয়ায় বর্তমানে ১৩ সদস্যের মধ্যে মাত্র একজন নারী আছেন। নারীর সংখ্যা কম হলে অনেক সময় ঈর্ষা বেড়ে যেতে পারে। তাই নারী ও পুরুষ মিলিয়ে নভোচারী দল তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে মঙ্গল অভিযানে অবশ্যই দুজন চিকিত্সক পাঠাতে হবে, যাতে চিকিত্সার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না হয়। 

খুশি মতো সরানো যাবে সেই হোটেল (ভিডিও)


1 2
পর্যটকদের থাকার জন্য নতুন একটি হোটেলের নকশা করেছেন অস্ট্রিয়ার নকশাবিদেরা। পর্যটন-ব্যবসার কথা মাথায় রেখে অস্ট্রিয়ায় তৈরি হচ্ছে মোবাইল হোটেল বা স্থানান্তরযোগ্য সুদৃশ্য হোটেল। অস্ট্রিয়ার প্রতিষ্ঠান স্টুডিও ডাব্লিউজি৩ ‘হাইপারকিউবাস’ নামের স্থানান্তরযোগ্য ক্ষুদ্র এই হোটেল তৈরি করেছে। অল্প পরিসরে, সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি এই হোটেল দুজনের থাকার উপযোগী। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে ডেইলি মেইল। 
স্টুডিও ডাব্লিউজি৩ জানিয়েছে, হাইপারকিউবাস হোটেলটি যেকোনো ফাঁকা স্থানেই বসানো যায়। এতে দুজনের উপযোগী বিছানা ও বাথরুমের ব্যবস্থা আছে। তবে রান্নার জন্য আলাদা কোনো স্থান এ হোটেলে নেই। অস্ট্রিয়ার স্টেইরিয়ায় অবস্থিত এ মোবাইল হোটেলটির ভেতরে রয়েছে আধুনিক সাজসজ্জা। 
স্টুডিও ডাব্লিউজি৩-এর নকশাবিদেরা জানিয়েছেন, এ ধরনের নকশার মোবাইল হোটেল পর্যটকদের বেশি আকর্ষণ করতে পারে। এ হোটেলটির ভেতরে তিনটি অংশ রয়েছে। বসার জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এর পাশে কাচ দিয়ে ঘেরা বাথরুম। আর ওপরে শয়ন করার ও প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য আলাদাভাবে একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
যেসব পর্যটক স্বল্প সময়ের জন্য হোটেলের খোঁজ করেন, তাঁদের জন্য মোবাইল হোটেল হতে পারে আদর্শ ব্যবস্থা। নির্মাতারা জানিয়েছেন, এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আয়োজিত অনুষ্ঠান উপলক্ষেও এ ধরনের মোবাইল হোটেল তৈরি করা যেতে পারে। 

এবার ‘গাউস’ ভাইরাসের আক্রমণ

মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি ব্যাংকের কম্পিউটারের লেনদেন-ব্যবস্থা ‘গাউস’ নামের ভয়ংকর ভাইরাসের হামলার শিকার হয়েছে। আজ এক খবরে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের শিল্পকারখানাগুলোতে ‘স্টাক্সনেট’ ও ‘ফ্লেইম’ ভাইরাসের পর এবার সেখানকার বিভিন্ন ব্যাংকের কম্পিউটারে হামলা করেছে ‘গাউস’ নামের একটি ভাইরাস। রাশিয়ার কম্পিউটার নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি ল্যাবের বিশেষজ্ঞরা জানান, স্টাক্সনেট ও গাউস ভাইরাস একই ‘প্রতিষ্ঠান’ থেকে তৈরি এবং কার্যপ্রণালিও অনেকটা একই ধরনের।
ক্যাসপারস্কির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গাউস ভাইরাসটি ব্যাংকে অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং লগইন পাসওয়ার্ড চুরি করে নিতে পারে। জটিল অবকাঠামোর কম্পিউটার-ব্যবস্থায়ও আক্রমণ চালাতে সক্ষম এ ভাইরাসটি । 
ক্যাসপারস্কির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গাউস ভাইরাসটি মধ্যপ্রাচ্যের লেবানন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন অঞ্চলের প্রায় আড়াই হাজার মানুষের ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ছড়িয়েছে। এ ভাইরাসটি লেবাননের বিভিন্ন ব্যাংক, এ অঞ্চলের সিটি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা ও ইবের পেপ্যালের তথ্যসংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।
এ ভাইরাস তৈরির পেছনে কারা বা কোন দেশ রয়েছে, এ বিষয়ে ক্যাসপারস্কির পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে গবেষকেরা ধারণা করেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে তৈরি স্টাক্সনেট তৈরির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের হাত থাকতে পারে। স্টাক্সনেটের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর থেকে একই ধরনের ফ্লেইম, ডকু ভাইরাসের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা। 
বিশেষজ্ঞরা জানান, স্টাক্সনেট বা গাউস গোত্রের ভাইরাস দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের ভাইরাস তথ্য সংগ্রহের একটা উপকরণ হতে পারে। 
ক্যাসপারস্কির গবেষকেদের মতে, গাউস ভাইরাসে ‘গোডেল’ নামে এক ধরনের মডিউল রয়েছে, যা স্টাক্সনেট ভাইরাসটির মতো সাইবার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কোনো শিল্পকারখানার কম্পিউটারপদ্ধতিতে আক্রমণ করা যায়।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় সাইবার হামলার পর গবেষকেরা স্টাক্সনেট আবিষ্কার করেন। গাউস প্রসঙ্গে গবেষকেরা জানিয়েছেন, ইউএসবির মাধ্যমে নির্দিষ্ট কম্পিউটারের সংস্পর্শে এলেই কেবল চালু হয় গাউস। গাউসের ‘গোডেল’ কোড নিয়ে আরও পরীক্ষা চালানোর কথা জানিয়েছে ক্যাসপারস্কি।



এবার ‘গাউস’ ভাইরাসের আক্রমণ - প্রথম আলো

Sunday, August 5, 2012

বুকের রক্তে লিখল`বাংলাদেশ’ অসীম সাহসী ‌সেই ৮ জন…




ক্যাটাগরী: 


আগস্ট মাস। ১৯৭১ সাল। দেশকে হানাদারদের কবল থেকে মুক্তির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে বীর বাঙালি। প্রতিরোধ আর লড়াই শুরু হয়েছে। তৈরি হয়েছে মুক্তিবাহিনী, হানাদারদের ত্রাস।
সেদিন ছিল ৫ আগস্ট। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী মুজিবনগর অঞ্চল। ৮ বীরযোদ্ধা হানাদারদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে। মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের মাঠে পাকি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের এই সম্মুখযুদ্ধ হয়। মারা যায় বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা। কিন্তু পাকিস্তানি সেনার সংখ্যা বেশি হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে ফেলায় পেছনে হটার কোনো সুযোগ পাননি তারা। তারা পেছনে ফিরতেও চাননি। অসীম সাহস নিয়ে শুধু দেশের ভালবাসার টানে একসঙ্গে শহীদ হন ৮ মুক্তিযোদ্ধা, বন্ধু। হাসতে হাসতে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন তারা, তারা দেশকে শত্রমুক্ত করার যে স্বপন দেখিয়েছিলেন যে দুর্বার প্রতিরোধ আর আক্রমণ করেছিলেন তাতে এ অঞ্চল থেকে দ্রুত শত্রুরা সরে যায়। তবে আমরা ১৯৭১ সালের এই দিনে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার ৮ মুক্তিযোদ্ধাকে হারায়।
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে রয়েছে এ ৮ শহীদের স্মৃতিসৌধ।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা হলেন- চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর গ্রামের সিদ্দিক আহমেদের ছেলে রবিউল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা শহরের মাঝেরপাড়ার বজলুর রহমানের ছেলে আবুল কাশেম, চুয়াডাঙ্গা শহরের শেখপাড়ার মহিউদ্দিন আহমেদের ছেলে আলাউল ইসলাম খোকন, আলমডাঙ্গার রোয়াকুলি গ্রামের মৃত রহিম মণ্ডলের ছেলে কিয়ামুদ্দিন, আলমডাঙ্গার গোকুলখালী গ্রামের ইয়াকুব হোসেনের ছেলে হাসান জামান, আলমডাঙ্গার বটিয়াপাড়া গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে রওশন আলম, মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে আফাজ উদ্দিন ও কুষ্টিয়া জেলার মীরপুর উপজেলার কাটদহ গ্রামের মহিউদ্দিন আহমেদের ছেলে খালেদ সাইফুদ্দিন আহমেদ তারিক।
৮ শহীদদের মধ্যে একমাত্র তারিককে দেওয়া হয় বীরবিক্রম খেতাব। এ ৮ শহীদের লাশ বর্বর পাকি হানাদার বাহিনী চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুর মাঠে এনে দুটি গর্তে মাটি চাপা দেয়।
অসীম সাহসী এ আট মুক্তিযোদ্ধার অবদান আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
http://blog.bdnews24.com/baadshahmintu/114821
http://prothom-aloblog.com/posts/67/170946