TECH GURU, TECH-SCIENCE NEWS

"I celebrate myself, and sing myself,
and what I assume you shall assume,
for every atom belonging to me as good belongs to you."

Tuesday, October 23, 2012

হাতের নাগালে থ্রিজি



টেলিটকের নতুন থ্রিজি সুবিধার সিম কিনেছেন শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান। থ্রিজিতে কী ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন? নাজমুল বলেন, `থ্রিজি প্রযুক্তির স্মার্টফোন ব্যবহার করে আমি দ্রুত ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারছি। অবিশ্বাস্য দ্রুত। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ওয়াইম্যাক্স সেবাকে পেছনে ফেলবে টেলিটকের থ্রিজি।'
আরেক থ্রিজি ব্যবহারকারী মারুফ হোসেন বললেন ভিন্ন কথা। তঁার অভিযোগ, থ্রিজিতে সংযোগ করতে গেলে অনেক সমস্যা পোহাতে হয়। সংযোগ পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।'
থ্রিজি চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর এক সপ্তাহ পার হয়েছে। কতগুলো নতুন থ্রিজি সুবিধার সিম বিক্রি হয়েছে? প্রশ্ন ছিল টেলিটকের বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা মো. সামসুজ্জোহার কাছে। টেলিটকের এ কর্মকর্তা জানান, টেলিটকের থ্রিজি সিম নিয়ে মানুষের আগ্রহ ব্যাপক। নতুন সিম বিক্রির পরিমাণ পঁাচ হাজার ছাড়িয়েছে। থ্রিজি সুবিধার নতুন সিম ছাড়াও টেলিটকের পুরোনো সিমে থ্রিজি ব্যবহার করা যাবে। টেলিটকের পক্ষ থেকে মেসেজ পাঠিয়ে গ্রাহককে টেলিটকের থ্রিজি সুবিধার আওতায় আনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। পাশাপাশি শিগগিরই থ্রিজি সুবিধার ডোঙ্গল বাজারে আনবে টেলিটক।
দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল, বিশ্বে যেখানে ৪জি আর ৫জি নিয়ে কাজ চলছে, সেখানে কবে আমাদের দেশে আসবে থ্রিজি বা তৃতীয় প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সুবিধা? 
....

হাতের নাগালে থ্রিজি - প্রথম আলো

Sunday, October 21, 2012

ফেসবুক চালু করলেই চড়!



কাজের সময় ফেসবুক ঘাঁটাঘাঁটির জন্য কাজের ক্ষতি হওয়া ঠেকাতে সম্প্রতি অভিনব এক উপায় বের করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মনীশ শেঠি। মনীশ তাঁর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য ঘণ্টাভিত্তিক চুক্তিতে একজনকে নিয়োগ করেছেন। এ কর্মচারীটির একমাত্র কাজ হচ্ছে, মনীশ ফেসবুকে লগ ইন করলেই তাঁকে কশে একটি চড় মারা! 
মনীশ তাঁর ব্লগপোস্টে লিখেছেন, তিনি যাকে নিয়োগ দিয়েছেন তাঁর একমাত্র কাজ হচ্ছে সব সময় তাঁকে নজরদারিতে রাখা; আর সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট চালু করলেই কশে একটা চড় বসিয়ে দেওয়া। মনীশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটের এ আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এই ‘চড় পদ্ধতি’ বেশ ভালোই কাজ দিচ্ছে। 
মনীশ জানিয়েছেন, এখন আর তাঁর সময় নষ্ট হচ্ছে না, অনলাইনের কাজ এখন আগের চেয়ে চারগুণ বেড়েছে।
মনীশ জানান, অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে তিনি দেখেছেন, প্রতি সপ্তাহে অনলাইনে কাজের চেয়ে ফেসবুক চ্যাটিংয়েই বেশি সময় যাচ্ছে তাঁর। তাই তিনি চড় মারায় দক্ষ ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন এমন একজনের খোঁজে বিজ্ঞাপন দেন। 
মনীশ অবশ্য আরও জানিয়েছেন, চড়ে দক্ষ একজন পাশে বসে আছে এই ভয়েই ফেসবুক আসক্তি ছেড়ে কাজে মনোযোগ এসেছে এটা ঠিক নয়, তবে মানসিক প্রভাব পড়েছে। কাজের ফাঁকে পরামর্শ ও কাজে মনোযোগ দেওয়ার কারণেই কাজের সময় নষ্ট হওয়া থেকে রেহাই মিলেছে। তিনি জানান, কেউ যখন চেঁচিয়ে কাজের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ভুল করে চালু করে ফেললে শাসাতে শুরু করে, তখন এমনিতেই কাজের প্রতি মনোযোগ বেড়ে যায়।



ফেসবুক চালু করলেই চড়! - প্রথম আলো

Wednesday, October 10, 2012

‘৫জি’র গবেষণা শুরু



যুক্তরাজ্যে চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ‘ফোরজি’ চালু হতে না হতেই পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ‘৫জি’ নিয়ে গবেষণা শুরু হচ্ছে। সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা বা যোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ শুরু করছেন। 
‘৫জি’ নিয়ে কাজ করার জন্য মোবাইল অপারেটর, অবকাঠামো নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাজ্যের গবেষণা উন্নয়ন তহবিল থেকে সাড়ে তিন কোটি পাউন্ড পাচ্ছেন গবেষকরা । এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘৫জি’ গবেষণার জন্য যে অর্থ পাওয়া যাবে তা দিয়ে ‘৫জি উদ্ভাবন কেন্দ্র’ গড়ে তোলা হবে। 
গবেষক রহিম তাফোজল্লি এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘৫জি’ তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ইন্টারনেটের ব্যবহারের মধ্যে যে বাধা ছিল তা ইতিমধ্যে দূর হয়েছে। পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় চলার পথে ইন্টারনেট ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা হবে।
তাফোজল্লি আরও বলেন, আমাদের কাছে ফোরজি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা পুরোনো হয়ে গেছে। কারণ, দশ বছর আগে আমরা ফোরজি নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। আগামী দশকে পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় সাশ্রয়ী অবকাঠামো তৈরিতে কাজ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
২০২০ সাল নাগাদ ‘৫জি’ প্রযুক্তি আসতে পারে বলেই আশা করছেন সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।



‘৫জি’র গবেষণা শুরু - প্রথম আলো

স্কাইপিতে ভাইরাস!


 
ইন্টারনেটে যোগাযোগের সফটওয়্যার ‘স্কাইপি’ ব্যবহার করে উইন্ডোজনির্ভর কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর ভাইরাস ছড়াচ্ছে হ্যাকাররা। হ্যাকাররা স্কাইপিতে ইনস্ট্যান্ট মেসেজ হিসেবে ‘লোল ইজ দিস ইয়োর নিউ প্রোফাইল পিক?’ বাক্যটি লিখে পাঠায়। বার্তাটিতে ক্লিক করলে ট্রোজান হর্স ম্যালওয়্যার কম্পিউটারে ডাউনলোড হয়ে যায়; যা কম্পিউটার থেকে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে নিতে পারে। খবর বিবিসির।
ইন্টারনেটভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সফোসের বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যাকারদের এ বার্তাগুলোকে বলে ‘এলওএল’ বার্তা। এ ধরনের বার্তায় ক্লিক করলে ট্রোজান ভাইরাস কম্পিউটারে ঢুকে পড়ে এবং কম্পিউটার অচল করে দিতে পারে। এ ভাইরাসটি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে ছড়ানো ‘ডর্কবট’ ভাইরাসের একটি বিশেষ ধরন। এ ভাইরাসে আক্রান্ত কম্পিউটার থেকে স্কাইপি ব্যবহার করা হলে ব্যবহারকারীর যোগাযোগ তালিকায় থাকা সবার কাছেই এলওএল বার্তাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যায়।
স্কাইপিতে এলওএল ভাইরাস প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীর কোনো বিষয়ে অসুবিধা হলে তা সমাধান করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে স্কাইপি। নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। নতুন এ ভাইরাসটি সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি এবং দ্রুত তা সমাধানের চেষ্টা করছি।
এলওএল ভাইরাস থেকে সাবধানতা হিসেবে স্কাইপির সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার ও কম্পিউটারে হালনাগাদ নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টারনেট নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।


স্কাইপিতে ভাইরাস! - প্রথম আলো

লেনোভোর ইয়োগা ল্যাপটপ-ট্যাব


ল্যাপটপ নাকি ট্যাবলেট? এ নিয়ে যারা দ্বিধায় ভোগেন তাদের কথা মাথায় রেখেই চীনের কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লেনোভো ইয়োগা’ নামের উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর ‘একটি পণ্য বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। 
লেনেভোর এ পণ্যটি একাধারে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট। এর কিবোর্ডকে স্ট্যান্ড হিসেবে পেছন দিকে ভাঁজ করে ডিভাইসটিকে টেবিল ক্যালেন্ডার আকারে দাঁড় করিয়ে রাখা যায়। আবার পুরোপুরি ঘুরিয়ে ট্যাবলেট হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এক খবরে প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট সিনেট জানিয়েছে, গতকাল ৯ অক্টোবর মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে ‘ইয়োগা’ নামের এ ট্যাবলেটের ঘোষণা দিয়েছে লেনেভো।
লেনোভো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিবোর্ড ছাড়াও টাচস্ক্রিন সুবিধার ‘ইয়োগা’কে ট্যাবলেট হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। ১৩ ইঞ্চি ও ১১ ইঞ্চি মাপের মোট দুটি সংস্করণের ‘ইয়োগা’ ল্যাপটপের ঘোষণা দিয়েছে লেনোভো। এ ছাড়াও নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উইন্ডোজের আরটি সংস্করণনির্ভর ‘আইডিয়া ট্যাব লিনাক্স ট্যাবলেট’ এবং ‘থিংকপ্যাড টুইস্ট’ নামে সহজেই ভাঁজ করা যায় এমন একটি ল্যাপটপ বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইয়োগা ১৩.৩ ইঞ্চি মাপের মডেলটিতে থাকবে ইনটেলের কোর আই৫ বা কোর আই ৭ প্রসেসর, ৮ গিগাবাইট র্যাম, ২৫৬ গিগাবাইট সলিড-স্টেট ড্রাইভ সুবিধা। ৩.৪ পাউন্ড ওজন ও ০.৬৭ ইঞ্চি পুরুত্বের এ পণ্যটির দাম হবে ১ হাজার ৯৯ ডলার।
এদিকে ১১.৬ ইঞ্চি মাপের ‘ইয়োগা’তে থাকবে এএমডির তৈরি প্রসেসর। ২.৩ পাউন্ড ওজনের ০.৬১ ইঞ্চি পুরুত্বের এ পণ্যটিতে ২ গিগাবাইট র্যাম সুবিধা থাকবে। দাম হবে ৭৯৯ ডলার।
চলতি বছরেই লেনোভোর নতুন মডেলের ট্যাবলেট ও ল্যাপটপের হাইব্রিডগুলো বাজারে পাওয়া যাবে।


লেনোভোর ইয়োগা ল্যাপটপ-ট্যাব - প্রথম আলো

রসায়নে নোবেল পেলেন দুই মার্কিন গবেষক



  • হরমোনের গেটওয়ে হিসেবে কাজ করে ‘জি প্রোটিন-কাপলড রিসেপ্টরস’
    হরমোনের গেটওয়ে হিসেবে কাজ করে ‘জি প্রোটিন-কাপলড রিসেপ্টরস’
  • ২০১২ সালে রসায়নে নোবেলজয়ী রবার্ট লেফকোইত্জ ও ব্রায়ান কোবিলকার
    ২০১২ সালে রসায়নে নোবেলজয়ী রবার্ট লেফকোইত্জ ও ব্রায়ান কোবিলকার
1 2
এ বছর রসায়নে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের দুজন গবেষক— রবার্ট লেফকোইত্জ ও ব্রায়ান কোবিলকার। মানবদেহের কোষের রসায়ন নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁরা এ বছর নোবেল পুরস্কার পেলেন। মানবদেহের কোটি কোটি কোষ যেভাবে তাদের পরিবেশ তৈরি করে নেয়, তা নিয়ে কাজ করেছেন তাঁরা। খবর বিবিসির।
আজ বুধবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস রসায়নে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের জন্য রবার্ট লেফকোইত্জ ও ব্রায়ান কোবিলকারের নাম ঘোষণা করেছে। তাঁরা যৌথভাবে পুরস্কার হিসেবে ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার পাবেন। 
এক কোষ থেকে আরেক কোষে যে জটিল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান চলে, তা নিয়ে কাজ করেছেন রবার্ট লেফকোইত্জ ও ব্রায়ান কোবিলকার। তাঁরা এ পদ্ধতির নাম দিয়েছেন ‘জি প্রোটিন-কাপল্ড রিসেপ্টরস’। এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে গবেষক লেফকোইত্জ জানিয়েছেন, এ রিসেপ্টরগুলো কোষের মধ্যে হরমোনের গেটওয়ে হিসেবে কাজ করে। 
সফল ও অনন্যসাধারণ গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯০১ সালে প্রবর্তিত হয় এ মহার্ঘ্য পুরস্কার। মোট ছয়টি বিষয়ে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়—পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিত্সাশাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য ও শান্তি। রসায়নে প্রথম নোবেল পেয়েছিলেন ডাচ বিজ্ঞানী ইয়াকোবুস হেনরিকুস ফান্ট হফ। রাসায়নিক গতিবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ নীতি এবং দ্রবণের অভিস্রবণ চাপ আবিষ্কারের জন্য তিনি রসায়নে প্রথম নোবেল পেয়েছিলেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত রসায়নে নোবেলজয়ীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৬৩।
গতকাল মঙ্গলবার নোবেল কমিটি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। কোয়ান্টাম অপটিকস গবেষণায় অবদানের জন্য চলতি বছর পদার্থবিদ্যায় যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের সার্জ হ্যারোশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড ওয়াইনল্যান্ড। স্টেমসেল নিয়ে গবেষণার জন্য এ বছর চিকিত্সায় নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের গবেষক স্যার জন গর্ডন ও জাপানের শিনইয়া ইয়ামানাকা। ৮ অক্টোবর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নাম ঘোষণা করে নোবেল কর্তৃপক্ষ। 
আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১২ সালের নোবেল বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। 
কাল বৃহস্পতিবার সাহিত্যে, শুক্রবার শান্তিতে ও ১৫ অক্টোবর সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।


রসায়নে নোবেল পেলেন দুই মার্কিন গবেষক - প্রথম আলো

Monday, October 8, 2012

আইকনিয়া একই অঙ্গে দুই রূপ!



উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর একটি হাইব্রিড কম্পিউটার বাজারে আনছে এসার। ‘আইকনিয়া ডব্লিউ ৭০০’ নামের এ কম্পিউটারটি একাধারে ডেস্কটপ ও ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে ‘টাইম ম্যাগাজিন’।
চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসবে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেম। এ অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর বেশ কিছু নতুন মডেলের ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, ল্যাপটপ-ট্যাবলেট হাইব্রিড পণ্য বাজারে পাওয়া যাবে। এ প্রসঙ্গে এসার জানিয়েছে, ডেস্কটপ ও ট্যাবলেটের হাইব্রিড নিয়ে উইন্ডোজনির্ভর পণ্যের বাজারে আসছে তারা।
‘আইকনিয়া ডব্লিউ ৭০০’ নামের ১১.৬ ইঞ্চি মাপের ডিসপ্লেযুক্ত এ হাইব্রিড কম্পিউটারটির সঙ্গে থাকবে একটি ডকিং স্টেশন, যার মাধ্যমে ট্যাবলেটটিকে বিভিন্ন কোণে ঘোরানো যাবে। এ স্টেশনের সঙ্গে তিনটি ও ট্যাবলেটের সঙ্গে একটি ইউএসবি ৩.০ পোর্ট থাকবে। ট্যাবলেটটির সঙ্গে থাকবে মাইক্রো-এইচডিএমআই স্লট, যার মাধ্যমে আলাদা মনিটর যুক্ত করা যাবে। এ ছাড়া ট্যাবলেটটি ব্লুটুথ কিবোর্ড সমর্থন করবে।
উল্লেখ্য, এসার ছাড়াও ডকিং পদ্ধতির ট্যাবলেট কম্পিউটার বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে ডেল ও এইচপি। ডেলের ‘ল্যাটিচুড ১০’ ও এইচপির ‘এলিটপ্যাড ৯০০’ ট্যাবলেটে ডকিং সিস্টেম থাকবে।
ইনটেল কোর আই৩ প্রসেসরযুক্ত ৬৪ গিগাবাইট তথ্য ধারণক্ষমতার এ হাইব্রিড ট্যাবলেটটির র্যাম হবে ৪ গিগাবাইট। পেছনে ও সামনে উভয় দিকেই থাকবে ক্যামেরার সুবিধা। পেছনের ক্যামেরাটি হবে ৫ মেগাপিক্সেলের।
এসার জানিয়েছে, তথ্য ধারণক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এই হাইব্রিড ট্যাবলেটের দাম নির্ধারিত হবে। ৬৪ গিগাবাইট তথ্য ধারণক্ষমতার ‘আইকনিয়া ডব্লিউ ৭০০’ মডেলের দাম হবে ৮০০ ডলার, ১২৮ গিগাবাইট মডেলটির দাম হবে ৯০০ ডলার এবং ইনটেলের কোরআই৫ প্রসেসরযুক্ত ৬৪ গিগাবাইট মডেলটির দাম হবে এক হাজার ডলার।

আইকনিয়া একই অঙ্গে দুই রূপ! - প্রথম আলো

সম্পর্কের সর্বনাশে মুঠোফোন!



মুঠোফোনটি ব্যবহার করা হোক বা না হোক ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাঙ্গার পেছনে মুঠোফোনের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ একটা কারণ হতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের গবেষকদের একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে, কেবল মুঠোফোনের উপস্থিতিই সম্পর্কের সর্বনাশ ঘটানোর কারণ হতে পারে।
সরাসরি আলোচনার সময় মুঠোফোন থাকলে কী ধরনের প্রভাব পড়ে এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন গবেষকরা। 
এক খবরে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানীরা একাধিক গবেষণায় দেখেছেন যে, মুঠোফোনের উপস্থিতির কারণে মুখোমুখি আলোচনার সময়ও চিন্তা-ভাবনা সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ঘিরেই চলতে থাকে। মুঠোফোনের উপস্থিতিতে আলোচনার সময় একে অন্যের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব কম থাকে। এ ছাড়াও ঘনিষ্ঠ কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে মুঠোফোনের উপস্থিতি এর সামাজিক গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। 
গবেষক অ্যান্ড্রু প্রেজবিলস্কি এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, গবেষণায় দেখা গেছে ঘনিষ্ঠতা, যোগাযোগ ও আলোচনার ক্ষেত্রবিশেষে মুঠোফোনের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।


সম্পর্কের সর্বনাশে মুঠোফোন! - প্রথম আলো

‘বিএনপি কি ক্ষমতায় এসেই গেছে?’



হবিগঞ্জের জনসভায় খালেদা জিয়া
হবিগঞ্জের জনসভায় খালেদা জিয়া
আমাদের দেশে যাঁরা ক্ষমতায় থাকেন, তাঁদের মাথা ঠিক থাকে না বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। কিন্তু বিরোধী দলে গিয়েও যদি কারও মাথা বেঠিক হয়ে যায়, তা মহা চিন্তার বিষয়। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের নেতাকে বিকল্প প্রধানমন্ত্রী ভাবা হয়। যদিও আমাদের দেশে কোনো বিরোধীদলীয় নেতাই দায়িত্বশীল আচরণ করেননি, এখনো করছেন না। কেননা, নির্বাচনের পরদিন থেকেই তাঁরা রাজনীতি শুরু করেন ‘মানি না মানব না’ স্লোগান দিয়ে। নির্বাচনে জয়ী হলে সবকিছু ঠিক আছে, নির্বাচন কমিশন ভালো, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভালো, পুলিশ ভালো, বিজিবি ভালো, নিরাপত্তা বাহিনী—সব ভালো। আর নির্বাচনে পরাজিত হলে সবাই মন্দ হয়ে যায়, দেশদ্রোহী বনে যায়। ভোট কারচুপি, ভোট জালিয়াতি ও সাজানো নির্বাচনের এন্তার অভিযোগ নিয়ে আসেন মাননীয়ারা। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে স্থূল কারচুপি হয়েছে, দাবি করলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২০০১ সালের ফল যেমন আওয়ামী লীগের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না, তেমনি ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলও বিএনপি অদ্যাবধি মানতে পারেনি।
এই যে নির্বাচনে পরাজিত হলেই ফল মেনে না নেওয়ার অপসংস্কৃতি, এটা আমাদের গণতন্ত্রের প্রধান সমস্যা। আমাদের নেতা-নেত্রীরা কখনোই হারতে চান না। তাঁরা জনগণের ওপর ভরসা করেন না, ভরসা করেন দলীয় ক্যাডার-কর্মী-সমর্থক এবং কালোটাকা ও পেশিশক্তির ওপর। সেই পেশিশক্তি ও কালোটাকার জোরেও যখন তাঁরা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারেন না, তখন সব দোষ প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত করতে থাকেন। আর আমাদের সরকারগুলো এতটাই নির্বোধ যে বিরোধী দলের হাতে একটার পর একটা ইস্যু তুলে দেয়। গত বছর পর্যন্ত বিরোধী দলের প্রধান অস্ত্র ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও শেয়ারবাজারে ধস। এ বছর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হলমার্ক কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতু প্রকল্প জটিলতা, ইলিয়াস আলীর গুম হওয়া, সাবেক রেলপথমন্ত্রীর এপিএসের গাড়ি থেকে ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধার ইত্যাদি। দিন যতই যাবে, বিরোধী দলের হাতে নতুন নতুন ইস্যু যুক্ত হবে। 
বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বাকসংযমী মানুষ বলে একটা সুনাম ছিল। তিনি কম কথা বলেন। যা বলেন তা হিসাব-নিকাশ করে বলেন। পারতপক্ষে কাউকে আঘাত করে, অসম্মান করে কথা বলেন, সেই বদনাম ছিল না। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক কথাবার্তা শুনে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের সেই বিখ্যাত কবিতার লাইনই মনে পড়ল। ‘দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি তাই যাহা আসে কই মুখে’। গত মাসে দিনাজপুরে ১৮ দলীয় জনসভায় তিনি সরকারকে ‘মহাচোর’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। গত শনিবার হবিগঞ্জের জনসভায় বললেন, বিশ্বচোর। তাঁর ভাষায় ‘দেশ এখন বিশ্বচোর ও বিশ্ববেহায়ার কবলে পড়েছে।’ 
বিরোধী দলের নেতা আরও বলেছেন, ‘সরকার নাকে খত দিয়ে কানে ধরে ওঠবস করে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন করতে ফের রাজি করিয়েছেন।’ দিনাজপুরের জনসভায় খালেদা জিয়া সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খরা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের একহাত নিয়েছেন। হবিগঞ্জের জনসভায় হুমকি দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক)। বলেছেন, ‘ঠিকমতো কাজ না করলে ভবিষ্যতে ধরা হবে।’ দুদক একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ভবিষ্যতে এ প্রতিষ্ঠানকে ধরার কথা বলে তিনি কি তাদের খামোশ করতে চাইছেন? 
দুই জনসভায়ই খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া নির্বাচন হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।’ দুই পক্ষের এ বিপরীত অবস্থানে জনগণের করণীয় কী? তারা কোথায় যাবে? এভাবে নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মল্লযুদ্ধ কত দিন চলবে?
বিরোধীদলীয় নেতা যখন বলেন আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন হবে না, তার একটা যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়। কেননা, আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে বিএনপিই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চালু করেছিল। কিন্তু তিনি যখন দলীয় নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগার আত্মীয়স্বজন সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে বলেন, তখন মনে হয় রাজনীতি রাজনীতির মাঠ ছেড়ে এখন শয়নকক্ষে ঢুকে পড়েছে। কে কার সঙ্গে আত্মীয়তা করবেন, আত্মীয়তা রাখবেন, সেসবও কি নেতা-নেত্রীরা ঠিক করে দেবেন? 
১৯৯৫-৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ জনতার মঞ্চ গড়েছিল, অসহযোগের ডাক দিয়েছিল। আমরা আশঙ্কা করি, বিএনপিও সেই পথ অনুসরণ করতে যাচ্ছে। খালেদা জিয়া বলেছেন, কোরবানির ঈদের পর তাঁরা কঠোর আন্দোলনে যাবেন, তাঁদের কর্মসূচিতে সরকার বাধা দিলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে। বাংলাদেশ অনেকবারই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে কেউ ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা বললে গলা শুকিয়ে যায়। ভয়াবহ পরিস্থিতি কাকে বলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর বৌদ্ধপল্লির বাসিন্দারা টের পেয়েছেন। বিরোধী দলের নেতা কি সারা দেশের মানুষকেই তা টের পাওয়াতে চান? বিরোধী দলের নেতা যখন বলেন, সরকার ও সরকারি দলের লোকেরা এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তখন তাঁর উচিত ছিল হবিগঞ্জে জনসভা না করে কক্সবাজারে যাওয়া। কেননা, সরকার ও সরকারি দলের মুখোশ উন্মোচন করাই বিরোধী দলের কর্তব্য। 
দুটি জনসভায় খালেদা জিয়ার এ চড়া মেজাজের ভাষণ শুনে মনে হচ্ছে, তিনি কোয়ার্টার ফাইনাল-সেমিফাইনাল শেষ করে এখন ফাইনাল রাউন্ডে এসে পড়েছেন। হয় জয় অথবা লয়। কিন্তু আমজনতার কী হবে? খালেদা জিয়া বর্তমান সরকারকে ‘বিশ্বচোর’ এবং সরকারের অন্যতম শরিক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে বলেছেন বিশ্ববেহায়া। ১৯৮৮ সালে শিল্পী কামরুল হাসানই এ নামেই তাঁর একটি কার্টুন এঁকেছিলেন। আমাদের বিস্মৃত হওয়ার কথা নয় এই বিশ্ববেহায়াকে নিয়েই খালেদা জিয়া ১৯৯৯ সালে চারদলীয় জোট করেছিলেন। ২০০৬-০৭ সালেও সেই ‘বিশ্ববেহায়া’কে জোটে টানতে নানা প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। এখনো বিএনপির অনেক নেতা তাঁকে মহাজোট ছেড়ে চলে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। বিএনপি বাইরে যতই এরশাদকে গালাগাল করুক না কেন, কাজী জাফর ও রওশনকে দিয়ে মহাজোট ভাঙার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বড় দুর্বলতা হলো সাবেক স্বৈরাচারকে নিয়ে দুই পক্ষই টানাটানি করছে।
দ্বিতীয় কথা হলো, খালেদা জিয়া এসব কথা বলেছেন কাদের পাশে রেখে? তাঁর মঞ্চে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন মুহসীন হলে সাত হত্যা মামলার দণ্ডিত আসামি, ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের আতঙ্ক নামে পরিচিত ব্যক্তিও। বিরোধী দলের নেতা গণতন্ত্র ও সুশাসন কায়েমের কথা বলেন। কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের নিয়ে কি তা সম্ভব? তিনি সরকারের সমালোচনা করতেই পারেন, কিন্তু শিষ্টতা ও শালীনতার সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। আমাদের দেশে অনেক নেতা-নেত্রীকে জিহ্বা সংবরণ না করার জন্য অনেক খেসারত দিতে হয়েছে, খালেদা জিয়াও কেন সেই দলে নাম লেখালেন? তিনি কি মনে করেন, আগামী নির্বাচনে বিজয়ের জন্য এসব অশিষ্ট ও কড়া ভাষাই উত্তম অস্ত্র? ১৯৯১, ২০০১ সালে কিন্তু তিনি এসব অশিষ্ট ভাষা ব্যবহার না করেই নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে মত ও পথের ভিন্নতা থাকবে, নীতি ও আদর্শের লড়াই চলবে। কিন্তু সেসব ছাপিয়ে এখন ব্যক্তিগত কুৎসা ও বিদ্বেষ প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠছে। 
নেতা-নেত্রীদের মনে রাখা উচিত, সারা দেশে তাঁদের বিশাল কর্মিবাহিনী আছে, ভক্ত-অনুসারী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীরা আছেন, কিন্তু তাঁরা যদি তাঁদের ভাষা-ভঙ্গি অনুসরণ করেন, তা হলে দেশে রক্তারক্তি ঘটে যেতে পারে। এই যে নতুন প্রজন্মের কাছে, ভবিষ্যৎ নাগরিকদের কাছে তাঁরা কী উদাহরণ রেখে যাচ্ছেন? অনেকে বলবেন, ‘অপর নেত্রী’ এর চেয়ে বেশি অশিষ্ট ভাষায় কথা বলেন। মানুষ ভালোকেই অনুসরণ করে, মন্দকে নয়। 
কয়েক দিন আগে বিএনপির একজন প্রভাবশালী সাংসদের কাছে বিষয়টি তুললে তিনি বলেছিলেন, ‘দিনাজপুরে ম্যাডাম যে ভাষায় কথা বলেছেন, তাতে আমরাও বিস্মিত হয়েছি। এটি ছিল এত দিনকার বক্তৃতা-বিবৃতির বিপরীত।’ কিন্তু সেই সঙ্গে তিনি এ-ও বললেন, কখন বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলছেন, যখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তাঁকে প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সংসদের ভেতরে-বাইরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া সম্পর্কে অশালীন বক্তব্য দেওয়া হয়।
এসব হয়তো সত্য। তার চেয়েও বেশি সত্য একই আচরণ বিএনপি তথা চারদলীয় জোটের নেতা-নেত্রীরা, সাংসদেরাও করেছেন। কয়েক মাস আগে সংসদ যে স্পিকারের ভাষায় মাছের বাজার হয়ে গিয়েছিল, তার শুরুটা করেছিলেন বিএনপির পেছনের সারির সদস্যরাই। 
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনায় নেতা-নেত্রীরা কি আরেকটু মার্জিত হতে পারেন না? এ দেশেরই জননন্দিত নেতা-নেত্রী তাঁরা, পালা করে একজন প্রধানমন্ত্রী, আরেকজন বিরোধীদলীয় নেতা হন, কিন্তু সম্পর্ককে পাঞ্জাবি বনাম বাঙালিদের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সমীচীন নয়। 
রোম যখন পুড়ছিল, তখন নাকি নিরো বাঁশি বাজিয়েছিলেন। আজ রামু, উখিয়া ও পটিয়ায় যখন বৌদ্ধপল্লিগুলো জ্বলছে, যখন সেখানে আমাদের বৌদ্ধ ভাইবোনেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তখন নেতা-নেত্রীরা একে অপরকে ‘বিশ্বচোর’ ও ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ বলে বাগ্যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের কেউই আক্রান্ত বৌদ্ধদের পাশে দাঁড়ান না, অভয় দেন না।
দিনাজপুর ও হবিগঞ্জের জনসভায় খালেদা জিয়ার দেওয়া ভাষণ শুনে আমাদের এক সহকর্মী প্রশ্ন করলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসেই গেল নাকি? না হলে তাঁদের নেতা দেড় বছর আগে থাকতেই এমন হুমকি-হুংকার ছাড়বেন কেন? আরেকজন বললেন, ক্ষমতায় এসে গেছে, তা সত্য নয়। বরং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নানা কসরত শুরু হয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কীভাবে? তিনি বললেন, কিছুদিন আগেও যে দলের নেতারা বলতেন—আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি, দিল্লি-ওয়াশিংটন অক্ষশক্তি তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, সেই দিল্লি-ওয়াশিংটনের কৃপা পেতে তারা উদ্গ্রীব, এমনকি দলের নেত্রী বৃহৎ প্রতিবেশী দেশটির বন্ধুত্ব কামনা করে বিদেশি পত্রিকায় নিবন্ধ লিখেছেন। 
কী বিচিত্র ক্ষমতার রাজনীতি। 


‘বিএনপি কি ক্ষমতায় এসেই গেছে?’ - প্রথম আলো

নোটে চলে জীবাণুর লেনদেন



টাকা কত হাত ঘোরে। কত কিছু লেগে থাকে। নোটে নোটে হয় লাখ লাখ জীবাণু লেনদেন। সেসব জীবাণু থেকে ভয়ংকর সব রোগ-ব্যাধি মানুষের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, সম্প্রতি ভারতের তিন বিজ্ঞানী ই কে ইলুমালাই, আর্নেস্ট ডেভিড ও জে হেমচন্দ্রন টাকায় লেগে থাকা জীবাণুর ভয়াবহতা অনুসন্ধান করেছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে তামিলনাড়ুর ভেল্লোরে বাসের কয়েকজন কন্ডাক্টর, মাছ ও সবজি বিক্রেতার কাছ থেকে পাঁচ ও ১০ টাকার বেশ কিছু নোট সংগ্রহ করেন তাঁরা। সেগুলো বায়ুনিরোধক পরিষ্কার কৌটায় রাখা হয়। এরপর গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা যায়, বারবার হাতবদলের ফাঁকে নোটগুলোতে হরেক রকমের জীবাণু বাসা বেঁধেছে। তার মধ্যে ছিল সংক্রামক কয়েকটি রোগের ব্যাকটেরিয়া, যেগুলো থেকে ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে। নানা অসুখ ছড়াতে পারে শ্বাসযন্ত্র ও পাকযন্ত্রে। খাদ্যে বিষক্রিয়াও হতে পারে। এমনকি মেনিনজাইটিস, সেপটিসেমিয়ার মতো জটিল রোগও হতে পারে।
‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব অকুপেশনাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মেডিসিন’ পত্রিকার অক্টোবর মাসের সংস্করণে এই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হবে।
গবেষক দলটির অন্যতম সদস্য ভেল্লোরের থিরুভাল্লুভার বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আর্নেস্ট ডেভিড জানিয়েছেন, টাকায় যে বিভিন্ন রোগজীবাণু থাকে, সে ব্যাপারে সবাই সচেতন নন। নোট গোনার সময় অনেকেই জিভের লালায় আঙুল ভিজিয়ে নেন। রাস্তাঘাটে খাবার কিনে খাওয়ার ক্ষেত্রেও একই বিপদ। হাতে কোনো ক্ষত থাকলে তা দিয়েও নোটের জীবাণু শরীরে ঢুকে পড়তে পারে।
আর্নেস্ট ডেভিড বলেন, দোকান-বাজার থেকে পাঁচতারা হোটেল—সর্বত্রই টাকার অবাধ বিচরণ। সময়ে-সময়ে অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছায় সেগুলো। এতে সহজেই একজনের থেকে অন্য জনের শরীরে রোগজীবাণু ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে গবেষকেরা এটাও জানিয়েছেন, পরিচ্ছন্নতার সহজ কিছু নিয়ম মানলেই নোটে থাকা জীবাণুর আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে স্মার্ট কার্ডে লেনদেন করলেও এই বিপদ খানিকটা কমে আসে।
কলকাতার একটি হাসপাতালের এক ভাইরাস-বিশেষজ্ঞ বলেন, টাকা কিছুটা পুরোনো হলে ধুলো জমে সেগুলো কালচে হয়ে যেতে থাকে। প্রচুর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস নোটগুলোর ওপর লেগে থাকে। আর্দ্র আবহাওয়ায় টাকার নোটে কিছুটা জলীয়বাষ্প জমে থাকে। তা ওই জীবাণুগুলোকে নোটের ওপর টিকে থাকতে সাহায্য করে। অপরিচ্ছন্ন ঘিঞ্জি এলাকায় বাজারের নোটে ব্যাকটেরিয়া বেশি থাকে। সর্দি-কাশি থাকলে ওই ব্যক্তির কাছে থাকা নোটে তার রোগের জীবাণুর হদিস মিলতে পারে। ফলে নোটের মাধ্যমে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা অমূলক নয়।
গবেষক দলের সদস্য ডেভিড জানিয়েছেন, নমুনা হিসেবে যে নোটগুলো নেওয়া হয়েছিল, তার সব কটিতেই রোগজীবাণু মিলেছে। পুরোনোগুলো তো বটেই, নতুন নোটেও কমপক্ষে আট রকমের ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে: এসচেরিচিয়া কোলাই, প্রোটিয়াস মিরাবিলিস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস ও সালমোনেল্লা, ব্যাসিলাস, সিউডোমোনাস, ভিব্রিও প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া। 
চিকিত্সক অভিজিত্ জানিয়েছেন, বিশেষ ক্ষেত্রে ওই সব ব্যাকটেরিয়া মানবদেহে ত্বক, খাদ্যনালি, শ্বাসনালি, রেচননালির বিভিন্ন অংশে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম।
টাকা জীবাণুমুক্ত করার কয়েকটি উপায়ও বলেছেন গবেষকেরা। তাঁরা বলেছেন, ব্যাংকে নোট পৌঁছালে অতিবেগুনি রশ্মি দিয়ে বা কোনো রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সেগুলো জীবাণুমুক্ত করে নেওয়া সম্ভব। 
গবেষক আর্নেস্ট ডেভিড বলেন, কিছুটা সতর্ক হলেই ওই সংক্রমণ থেকে বাঁচা যায়। টাকা লেনদেন ও রাস্তাঘাটে খাওয়ার সময় এ কথা মনে রাখাটা খুব জরুরি।


নোটে চলে জীবাণুর লেনদেন - প্রথম আলো

ড্রাগনের মহাকাশ যাত্রা


শাটল যুগের সমাপ্তির পর প্রথমবারের মতো ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স নির্মিত ‘ড্রাগন’ কার্গো যানটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের পথে (আইএসএস) রওনা হয়েছে। রোববার রাত আটটা ৩৫ মিনিটে ফ্লোরিডা থেকে ফ্যালকন রকেটে করে এ কার্গো যানটিকে পাঠানো হয়েছে। ১০ অক্টোবর বুধবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাবে ড্রাগন আর ফিরবে চলতি মাসের শেষ নাগাদ। খবর বিবিসির।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ছয়জন নভোচারীর জন্য প্রয়োজনীয় খাবার, পোশাকসহ অন্যান্য সরঞ্জাম বয়ে নিয়ে যাবে স্পেসএক্স নির্মিত ড্রাগন। এ মহাকাশযানাটি ৪০০ কেজি পর্যন্ত মালামাল বহন করতে সক্ষম। 
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে চুক্তিতে স্পেসএক্স ড্রাগন নামের এ কার্গো যানটি তৈরি করেছে। এ জন্য নাসার পক্ষ থেকে স্পেসএক্সের সঙ্গে ১০৬ কোটি ডলারের চুক্তি করা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে পরীক্ষামূলকভাবে স্পেসএক্সের ‘ড্রাগন’ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। 
স্পেসএক্স ছাড়াও নাসার হয়ে অরবিটাল সায়েন্সেস করপোরেশন (ওসিএস) নামের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কার্গো যান তৈরির জন্য কাজ করছে। এ প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছর নাগাদ ‘অ্যান্টারেস’ রকেট ও রোবোটিক যান ‘সিগনাস’ পরীক্ষা চালাবে। পরীক্ষা সফল হলে নাসা ওসিএসের সঙ্গে ১৯০ কোটি ডলারের চুক্তি করবে।
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের তৈরি কার্গো যান ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার কাজ ছাড়াও মহাকাশ ভ্রমণসংক্রান্ত ব্যবসার বিষয়টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছে নাসা। এ সুযোগ নিয়ে স্পেসএক্স তাদের ড্রাগন কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছে। ড্রাগনে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও টিকে থাকার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করে কয়েক বছরের মধ্যে নিয়মিত মহাকাশ সার্ভিস হিসেবে ড্রাগনকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে মহাকাশযান নির্মাতা স্পেসএক্স।
নাসার প্রশাসনিক কর্মকর্তা চার্লস বোলডেন এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাতে যাতায়াত ব্যবস্থার ভার ছেড়ে দিলে নাসা সৌরজগতের বাইরে অনেক বিষয় নিয়ে ভাবার সুযোগ পাবে।


ড্রাগনের মহাকাশ যাত্রা - প্রথম আলো

চিকিৎসায় নোবেল পেলেন স্যার গর্ডন ও ইয়ামানাকা



জন গর্ডন ও সিনইয়া ইয়ামানাকা
জন গর্ডন ও সিনইয়া ইয়ামানাকা
স্টেম সেল গবেষণায় অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর চিকিৎসায় যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের গবেষক স্যার জন গর্ডন ও জাপানের গবেষক সিনইয়া ইয়ামানাকা। আজ সোমবার এক খবরে জানিয়েছে বিবিসি।
যুক্তরাজ্যের স্যার জন গর্ডন এবং জাপানের গবেষক সিনইয়া ইয়ামানাকা এমন একটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন যে পদ্ধতিতে পূর্ণবয়স্ক কোষ থেকে প্রাথমিক স্টেম সেল তৈরি করা সম্ভব হয়েছে এবং এই প্রাথমিক স্টেম সেল বা কোষ থেকে পরবর্তীতে যে কোনো ধরনের টিস্যু বা কলা তৈরি করা সম্ভব। 
১৯০১ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে সর্বপ্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এমিল ভন বোরহিং। বোরহিং মূলত ডিপথেরিয়া রোগের চিকিৎসায় সেরাম থেরাপি আবিষ্কারের জন্য এ পুরস্কারটি পেয়েছিলেন। 
১৯০১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ১০২ বারে মোট ১৯৯ জনকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ২০১১ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুস বাটলার, ফ্রান্সের জুলস হফম্যান ও কানাডার রালফ স্টেইনম্যান। 
প্রসঙ্গত, চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় স্টকহোমের ক্যারোলিনাস্কা ইনস্টিটিউট থেকে।


চিকিৎসায় নোবেল পেলেন স্যার গর্ডন ও ইয়ামানাকা - প্রথম আলো

Sunday, October 7, 2012

৬০ পেরোল বারকোড!




বারকোড পেটেন্টের ৬০তম জন্মদিন আজ ৭ অক্টোবর। কোনো ক্যান বা প্যাকেটজাত পণ্যের গায়ে একসঙ্গে কয়েকটি কালো সরলরেখার যে দাগ, মূলত এটিই বারকোড নামে পরিচিত। বারকোডের মাধ্যমে কোনো পণ্য-সম্পর্কিত তথ্য কোড আকারে জুড়ে দেওয়া হয়; যা লেজারযুক্ত যন্ত্র পড়তে পারে। খবর বিবিসির।
১৯৪৯ সালের ২০ অক্টোবর বারকোডের উদ্ভাবক উডম্যান ও সিলভার ‘ক্লাসিফায়িং অ্যাপারেটাস অ্যান্ড মেথড’ নামে একটি পেটেন্টের আবেদন করেছিলেন। এ কোডের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কোনো কোড পড়ার ব্যবস্থার কথা ছিল। ১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর এ পেটেন্ট অনুমোদন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট অফিস।
যুক্তরাজ্যের বারকোড নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান জিএস১ জানিয়েছে, সারা বিশ্বে বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন বারকোড ব্যবহূত হচ্ছে। ১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট অফিস এ কোডটির পেটেন্টের অনুমতি দিলেও ১৯৭৪ সালের আগ পর্যন্ত এ কোড ব্যবহার শুরু হয়নি। কারণ, এ কোড পড়তে যে লেজারের প্রয়োজন পড়ত, তা তখনো সহজলভ্য ছিল না।
যুক্তরাজ্যের বারকোড নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান জিএস১ ভাষ্য, বর্তমানে বারকোডের স্থান করে নিচ্ছে কিউআর কোড। কিউআর কোড হচ্ছে দ্বিমাত্রিক চিত্রের আদলের এক ধরনের বিশেষ কোড। এ কোডের মধ্যে টেক্সট, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা থেকে শুরু করে বিশেষ বা উল্লেখযোগ্য ঘটনার তারিখও দেওয়া থাকে। এ ধরনের কোড মুঠোফোনের সাহায্যে স্ক্যান করা হলে ওয়েবসাইট লিংক তৈরি করতে পারে এবং স্মার্টফোনের পর্দায় সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখাতে পারে। কিউ আর কোডের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বারকোডের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করবে না। কারণ কিউআর কোড বারকোডের চেয়ে বেশি তথ্য ধারণ করে এবং এর বহু ব্যবহার। আর বারকোডে সাধারণত কোনো টিন বা প্যাকেটজাত পণ্যের দাম ও পণ্যসংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য থাকে।
১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো চিউয়িংগামের প্যাকেটে বারকোড স্ক্যান করা হয়েছিল। তবে বারকোডের ব্যবহার ওই সময় ততটা জনপ্রিয়তা পায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে শরীরের উল্কি হিসেবে বারকোডের ব্যবহার শুরু হয়েছে।


৬০ পেরোল বারকোড! - প্রথম আলো

গুগল হাতঘড়ি!



গুগলের ‘প্রযুক্তি চশমা’ চমকের পর পরবর্তী চমক হতে পারে গুগলের হাতঘড়ি। ২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অফিসে আধুনিক প্রযুক্তির একটি হাতঘড়ির পেটেন্টের আবেদন করেছে গুগল। খবর প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের।
গুগলের পেটেন্ট আবেদন অনুসারে, গুগল হাতঘড়িটিতে থাকবে সময় দেখার সুবিধার পাশাপাশি আলাদা আরেকটি টাচস্ক্রিন পর্দা, যা ঘড়ির ঢাকনার পাশাপাশি আলাদা ডিসপ্লে হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এ ডিসপ্লের সাহায্যে দিক নির্ণয় করা, কোনো তথ্য অনুসন্ধান করা, ই-মেইল-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।
প্রযুক্তিবিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, কোনো প্রযুক্তির পেটেন্ট করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা পণ্য হিসেবে তৈরি করে না সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। তবে মানুষের পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্যের বিষয়ে গুগল ইতিমধ্যেই আগ্রহ দেখিয়েছে এবং প্রযুক্তি চশমার মতো পণ্য বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। 
এ বছরের ৪ এপ্রিল বুধবার গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ভিডিওর মাধ্যমে তাদের এ প্রযুক্তি চশমা বা গ্লাস আনার তথ্য দিয়েছে। গুগলের তৈরি এ চশমা খুবই পাতলা, যা কপালের ওপর লাগিয়ে রাখতে হয়। এর ডান কোনায় বসানো রয়েছে ছোট আরও একটি গ্লাস, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাছে তথ্য পৌঁছায়। ব্যবহারকারী তাঁর চোখের সামনে ফুটে ওঠা অ্যাপ্লিকেশন কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে ছবি তোলা, ভিডিও করা, আবহাওয়ার তথ্য জানার মতো কাজগুলো করতে পারেন। প্রযুক্তিবিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম যেভাবে ব্যবহূত হয়, গুগল হাতঘড়িতেও একই প্রযুক্তি ব্যবহূত হবে।
এদিকে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, অ্যাপল, নাইকি, সনির মতো প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানগুলোও স্মার্ট হাতঘড়ি তৈরির কাজে হাত দিয়েছে। বর্তমানে নতুন প্রযুক্তির নিজস্ব ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি বাজারে আনতে জি-শক, অ্যাপল, সনি, পেবল, নাইকির মতো এক ডজনেরও বেশি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।
প্রযুক্তিবিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, হাতঘড়ি তৈরির প্রতিযোগিতায় এবার নতুন প্রযুক্তি নিয়ে গুগল যোগ দিতে পারে।




গুগল হাতঘড়ি! 

ভাস্কর্যের নাম ‘থ্যাংকস, স্টিভ!’



স্টিভ জবসের ভাস্কর্য
স্টিভ জবসের ভাস্কর্য
প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রয়াত স্টিভ জবস-এর একটি ভাস্কর্য উন্মোচিত হয়েছে ইউক্রেনের ওডেশা শহরে। দুই মিটার উচ্চতার ‘হাত’সদৃশ স্টিভ জবসের ইস্পাতের মূর্তিটির মাঝামাঝি স্থানে একটি ফাঁকা স্থানে রয়েছে অ্যাপলের ট্রেডমার্ক লোগোটি। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্দো এশিয়ান নিউজ সার্ভিস।
ওডিশার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, স্টিভ জবসকে নিয়ে তৈরি বিশ্বের দ্বিতীয় ভাস্কর্য এটি। ২০০ কেজি ওজনের এ ভাস্কর্যটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘থ্যাংকস, স্টিভ!’। এ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করছেন ইউক্রেনের ভাস্কর কিরিল মাকসিমেঙ্কো।
ভাস্কর্য নির্মাণ প্রসঙ্গে মাকসিমেঙ্কো বলেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় স্টিভের বিশেষ একটি ভঙ্গি এ ভাস্কর্যে ফুটে উঠেছে। তাঁর হাতের তালুর একটি ভঙ্গি ফুটিয়ে তুলতে গাড়ির বাতিল যন্ত্রাংশ ও ধাতু ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এ ভাস্কর্যটিতে রাতের বেলা নিয়মিত নীল ও সাদা আলোকসজ্জা করা হবে।’
৫ অক্টোবর স্টিভ জবসের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে এ ভাস্কর্যটি উন্মোচিত হয়েছে। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর স্টিভ জবস মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে স্টিভ জবসের একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্রাজিলের জুন্দাই শহরে একটি রাস্তার নামকরণও করা হয়েছে প্রয়াত স্টিভ জবসের নামানুসারে।


ভাস্কর্যের নাম ‘থ্যাংকস, স্টিভ!’ - প্রথম আলো

রাজধানীতে ল্যাপটপ বিস্ফোরণে মৃত্যু!


রাজধানীতে মিরপুরের কাজীপাড়ায় ল্যাপটপ বিস্ফোরণে আহমেদ শওকত মাসুদ (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টায় তাঁকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটি নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আগুনে মাসুদের সারা শরীর পুড়ে যায়।
আহমেদ শওকত মাসুদের প্রতিবেশী ও তাঁর মামাতো ভাই কাজী জিয়াউর রহমান প্রথম আলো ডটকমকে জানান, গতকাল রাতে ৮১১ পশ্চিম কাজীপড়ার বাসার দোতলায় নিজের শয়নকক্ষে ল্যাপটপ চার্জ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মাসুদ। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ল্যাপটপটি বিস্ফোরিত হলে ওই কক্ষে আগুন ধরে যায়। এ সময় মাসুদ ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনে তাঁর সারা শরীর ঝলসে যায়। 
কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে মাসুদকে বের করা হয়। এরপর স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিত্সা না পেয়ে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটি নেওয়া হয়। দুপুর পৌনে ১২টায় কর্তব্যরত চিকিত্সক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে উপস্থিত মিরপুর থানার উপপরিদর্শক মল্লিক ফারুকুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাসুদ বিবাহিত। ঘটনার সময় তিনি বাসায় একা ছিলেন। মাসুদের বাবার নাম বদরউদ্দিন আহমেদ। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

রাজধানীতে ল্যাপটপ বিস্ফোরণে মৃত্যু! - প্রথম আলো

Friday, October 5, 2012

কে হচ্ছেন পরবর্তী স্টিভ জবস?


« আগের সংবাদ
  • জেফ বেজোস, মার্ক জাকারবার্গ, মারিসা মেয়ার
    জেফ বেজোস, মার্ক জাকারবার্গ, মারিসা মেয়ার
  • টিম কুক
    টিম কুক
  • জোনাথন আইভ
    জোনাথন আইভ
  • এলন মাস্ক
    এলন মাস্ক
1 2 3 4
অনেক দিন ধরেই একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিশেষজ্ঞরা। কে হচ্ছেন পরবর্তী স্টিভ জবস? উত্তর বেছে নেওয়ার তালিকাটি খুব বেশি বড় নয়। কিন্তু প্রশ্নটির নির্ভরযোগ্য উত্তর নেই কারও কাছে ।
২০১১ সালের ৫ অক্টোবর অ্যাপল সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস মারা যাওয়ার পর থেকে এ প্রশ্নটি প্রযুক্তি বিশ্বে অনেক আলোচনা হয়েছে। কারও উত্তর জেফ বেজোস, কারও বা মার্ক জাকারবার্গ আবার কেউ প্রশ্নটির খুব সহজ ভেবে হেঁটেছেন বিশ্লেষণের পথে। আবার অনেকের মতে, প্রযুক্তি বিশ্বে এখনো স্টিভ জবসের মতো মেধাবী, ভবিষ্যত্দ্রষ্টা, ব্যবসায়ী ও রহস্যময় ব্যক্তিত্বের দেখা মেলেনি। 

১৯৭৬ সালে নিজেদের বাড়ির গ্যারেজে বন্ধু স্টিভ ওজনিয়াককে নিয়ে ‘অ্যাপল’ প্রতিষ্ঠা করেন স্টিভ জবস। এরপর মাত্র এক দশক না পেরোতেই অ্যাপলকে দাঁড় করিয়ে ফেলেন প্রযুক্তিপণ্যের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে। নিজে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবেন বলে ১৯৮৫ সালে স্টিভ অ্যাপলে নিয়ে এসেছিলেন পেশাদার একজন প্রধান নির্বাহীকে। কিন্তু বোর্ডরুমের রাজনীতির শিকার হয়ে নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে সেই প্রধান নির্বাহীর কাছেই চাকরিচ্যুত হন তিনি। এরপর মাত্র এক দশকের মাথায় বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি অ্যাপল লোকসান দিতে দিতে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়। ১৯৯৭ সালে আবার তাঁকে অ্যাপলে ফিরিয়ে আনা হয় এবং এরপর স্টিভ শূন্য থেকে আবার অ্যাপল গড়ে তুলতে শুরু করেন। এরই মাঝে তিনি তৈরি করেন পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিও এবং সফটওয়্যার কোম্পানি নেক্সট। ১৯৯৭ থেকে ২০১১—এই ১৪ বছরে স্টিভ জবস অ্যাপলকে শূন্য থেকে গড়ে তোলেন বিশ্বের ১ নম্বর প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হিসেবে। প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা হিসেবে স্টিভ অ্যাপলের দুটি প্রধান ধারা ঠিক করে নেন। একটি হলো পুরোনো কর্মক্ষেত্র অর্থাত্ কম্পিউটার, আর দ্বিতীয়টি হলো ইলেকট্রনিক ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা। ২০০১ সালে আইপডের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায় আসে অ্যাপল। এরপর এতে যোগ হয় আইটিউনসভিত্তিক গানের ব্যবসা এবং এরপর যোগ হয় অ্যাপল টিভি ও আইফোন। 

প্রযুক্তিবিষয়ক ব্লগ কাল্ট অব ম্যাকের সম্পাদক ও ‘‘ইনসাইড স্টিভ’স ব্রেইন’’ বইটির লেখক লিন্ডার কেনি স্টিভ জবস প্রসঙ্গে জানান, স্টিভ জবসের ক্যারিয়ার ছিল অদ্ভুত ধরনের। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে এতটা মেধাবী বলে স্মরণ করা হয়নি। তাঁর মতে, স্টিভ জবস অ্যাপলে ফিরে আইপড ও আইফোন বাজারে আনার আগ পর্যন্ত খুব বেশি প্রশংসা পাননি। কিন্তু এ দুটি পণ্য আনার পরই আধুনিক যুগের টমাস আলভা এডিসন হিসেবে প্রশংসিত হতে শুরু করেন তিনি।
স্টিভ জবসের মারা যাওয়ার এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। স্টিভ জবসের স্থান কেউ নিতে পারবে কি না, তা সময়ই একদিন বলে দেবে। তবে প্রযুক্তি বিশ্বে স্টিভ জবসের মতো কেউ হতে পারবেন, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কমতি নেই। যাঁরা হয়ে উঠতে পারেন পরবর্তী স্টিভ জবস, তাঁদের নিয়ে সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

জেফ বেজোস, অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী
স্টিভ জবসের সমতুল্য হতে পারেন এমন কাউকে যদি মনে করা হয়, তবে সবার প্রথমে আসে অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোসের নাম। স্টিভ জবস যেমন অ্যাপল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি অ্যামাজনের ক্ষেত্রেও একই ভূমিকায় রয়েছেন জেফ বেজোস। তাঁকে স্টিভ জবসের মত ভবিষ্যৎদ্রষ্টা মনে করা হয়। কারণ, স্টিভ জবসের মতোই উদ্ভাবনী পণ্যের দিকে বেজোসের ঝোঁক রয়েছে। সম্প্রতি কিন্ডল ট্যাবলেট বাজারে এনে তিনি তা প্রমাণ করেছেন। প্রযুক্তিবিষয়ক ব্লগ কাল্ট অব ম্যাকের সম্পাদক কেনি বলেন, ‘জেফকে আমি চিনি। তাঁর অসাধারণ হাসি আর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা একদিন স্টিভ জবসের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে বেজোসকে। কিন্তু তাঁর লক্ষ্যে এগোনোর দিক থেকে তিনি যান্ত্রিক। আর স্টিভ জবস হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বেজোসের সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, তাঁর প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিপণ্য তৈরির ক্ষেত্রে মূল ঘরানার নয়। অ্যামাজন হচ্ছে অনলাইনে পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে কতটা উদ্ভাবনী ক্ষমতার পরিচয় দেখাতে পারবে, তার ওপর নির্ভর করছে জেফ বেজোসের স্টিভ জবস হয়ে ওঠা।

মার্ক জাকারবার্গ, ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী
বাড়ির একটি গ্যারেজে স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াক মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অ্যাপল আর জাকারবার্গ ২০০৪ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ডরমিটরিতে তৈরি করেন ফেসবুক। প্রতিষ্ঠালগ্নের দিক থেকে মিল রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের। সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ১০০ কোটি মানুষকে একসঙ্গে বেঁধে ফেলার কৃতিত্ব জাকারবার্গের। এদিক থেকে জাকারবার্গই সম্ভবত স্টিভ জবসের সমতুল্য হতে পারেন। এ ছাড়াও স্টিভ জবসের সঙ্গে মার্ক জাকারবার্গের মিল রয়েছে পোশাক পরার ধরনের ক্ষেত্রেও। জাকারবার্গের ধূসর টি-শার্ট, হুডির সঙ্গে জাকারবার্গের টার্টলনেক ট্রেডমার্কের মিল খুঁজে পান অনেকেই। কেনি জানান, দৃষ্টিভঙ্গিতে স্টিভ জবসের সঙ্গে মার্ক জাকারবার্গের মিল রয়েছে। তাই পরবর্তী স্টিভ জবস হতে পারেন তিনি। তবে স্টিভ জবস হয়ে ওঠার পক্ষে জাকারবার্গের সীমাবদ্ধতা হচ্ছে তিনি স্টিভ জবসের মতো জাদুকরি কোনো পণ্য মানুষের কাছে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পৌঁছে দিতে পারবেন না। জাকারবার্গকে বরং পর্দার অন্তরালের একজন পরামর্শক হিসেবেই বিবেচনা করা যায়, যিনি পণ্য বিক্রি বা কোনো বিশেষ উপলক্ষে তাঁর তারকাখ্যাতি প্রকাশ করেন।

টিম কুক, অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী
ভবিষ্যত্ স্টিভ জবস হয়ে ওঠার বড় সুযোগ পেয়েছেন স্টিভ জবসের স্থলাভিষিক্ত অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক। অ্যাপলের প্রতিটি নতুন পণ্যের উদ্ভাবন আর অনুমোদন তাঁরই হাতে। অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে সবচেয়ে বড় মঞ্চ আর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও তিনি, যা তাঁকে একজন স্টিভ জবস করে তুলতে পারে। ইতিমধ্যে আইফোন৫ বাজারে এনে টিম কুক সবার নজর কেড়েছেন। শিগগিরই আইপ্যাডের ছোট একটি সংস্করণ বাজারে আনতে পারে অ্যাপল। স্টিভ জবস ভবিষ্যত্দ্রষ্টা হিসেবে ছোট পর্দার পণ্যের পক্ষে ছিলেন না। কিন্তু স্টিভ জবসের সাহচর্য পাওয়া ও ব্যবসায়িক দায়িত্ব পালন করা কুক হয়তো স্টিভ জবসের উল্টো পথে হেঁটেই স্টিভ জবস হয়ে উঠতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে তাঁর সীমাবদ্ধতা হচ্ছে তিনি উদ্ভাবনী ক্ষেত্রের চেয়ে ব্যবসায়িক দিক থেকে বেশি দক্ষ। তিনি হয়তো অ্যাপলের ভবিষ্যত্ তরী ঠিক পথে বাইতে পারবেন, তবে স্টিভ জবসের প্রত্যাশার ভার কতটা সইতে পারবেন, তাঁর ওপরই নির্ভর করবে স্টিভ জবস হয়ে ওঠার বিষয়টি।

জোনাথন আইভ, অ্যাপলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট
অসুস্থতার দরুন যখন অ্যাপল থেকে স্টিভ জবস অবসরে গেলেন, তখন অ্যাপলের ভার নিতে পারেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম নামটি ছিল জোনাথন আইভের। অ্যাপল স্বপ্নদ্রষ্টা স্টিভ জবস ছাড়া অ্যাপল কি তাদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে? একটাই উত্তর, জবস নেই তাতে কী, অ্যাপলের প্রধান নকশা নির্বাহী জোনাথন আইভ তো আছেন। অ্যাপলের বর্তমান পণ্যগুলোর বৈপ্লবিক নকশা আইভের হাতেই করা। প্রচারমাধ্যমের আড়ালে থাকা জোনাথন আইভ ১৯৯৬ সাল থেকে তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৬৭ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া আইভ ২০১১ সালে ‘স্যার’ উপাধি পেয়েছেন। অ্যাপলে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যের ট্যানজারিন নকশা কোম্পানিতে কাজ করতেন। অ্যাপলে এসে পণ্যের নকশার বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন আইভ। আইভের নকশা করা প্রথম প্রজন্মের আইপড ‘মডার্ন আর্টস কালেকশন’ জাদুঘরে ঠাঁই পেয়েছে। আইভকে যাঁরা কাছ থেকে দেখেন, তাঁদের মতে, তিনি খুবই বুদ্ধিমান ও চুপচাপ। সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেন তিনি। উদ্ভাবনী চিন্তার দিক থেকে তিনি স্টিভের কাছাকাছি যেতে পেরেছেন এবং প্রযুক্তির প্রতি স্টিভ জবসের ভালোবাসার কথা উপলব্ধি করেছেন তিনি।
কিন্তু পরবর্তী স্টিভ জবস হয়ে ওঠার জন্য জোনাথন আইভের ক্ষেত্রে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে তিনি প্রধান নির্বাহী বা প্রতিষ্ঠাতা নন। ৪৫ বছর বয়সী আইভের পক্ষে স্টিভ জবসের মতো হয়ে ওঠা হয়তো সম্ভব, তবে এ জন্য নতুন করে তাঁকে আরও দ্রুত ছুটতে হবে।

মারিসা মেয়ার, ইয়াহুর প্রধান নির্বাহী
সিলিকন ভ্যালিতে একজন নারীর পক্ষে পরবর্তী স্টিভ জবস হয়ে ওঠা অসম্ভব কিছু নয়। আর তিনি হলেন গুগল ছেড়ে সম্প্রতি ইয়াহুর প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়া মারিসা মেয়ার। ২০০৮ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে বিশ্বের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ফরচুন’-এ প্রথমবারের মতো ৫০ জন প্রভাবশালী নারীর মধ্যে জায়গা করে নেন মারিসা মেয়ার। জানান দেন প্রযুক্তি দুনিয়ায় নিজের অবস্থান। এরপর ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালেও এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। ১৯৭৫ সালের ৩০ মে জন্ম নেওয়া মারিসা সিম্বলিক সিস্টেমের ওপর স্নাতক ও কম্পিউটারবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৯৯ সালে যোগ দেন তথ্য খোঁজার বিশ্বসেরা ওয়েবসাইট গুগলে। এই প্রতিষ্ঠানে তিনিই প্রথম নারী প্রকৌশলী। পরে কাজ করেন পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে। গুগলের সার্চ ইঞ্জিন (অনলাইনে তথ্য খোঁজার ওয়েবসাইট), মূল পাতা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তিনি কাজ করেছিলেন গুগলের মানচিত্রসেবায়ও। এর পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে কুপার-হিউইট, ন্যাশনাল ডিজাইন মিউজিয়াম, সানফ্রান্সিসকো মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট, ওয়ালমার্ট ইত্যাদি। ২০০৯ সালে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী জ্যাকারি ভোগকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি মা হয়েছেন তিনি। নিত্যনতুন উদ্ভাবন আর ব্যবসায়িক দিক থেকে অত্যন্ত সফল মেয়ার কাজ করতে পছন্দ করেন। নতুন চমক দিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে তিনি হয়তো পরবর্তী স্টিভ জবস হয়ে উঠতে পারেন। তবে মেয়ারের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইয়াহুকে বর্তমানে ফেসবুক ও গুগলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফেসবুকের প্রধান নির্বাহীর পদে এক বছরে চারজন বদল হয়েছেন। এমন একটি পরিস্থিতিতে ইয়াহু নিয়ে মেয়ার কতটা এগোতে পারবেন, তাঁর ওপর নির্ভর করছে মেয়ারের স্টিভ জবস হয়ে ওঠা।

এলন মাস্ক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা
স্টিভ জবসের সঙ্গে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মাস্কের মিল পাওয়া যায় আত্মবিশ্বাসে। আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এলন মাস্ক ১৭ বছর বয়সেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। মাত্র ১২ বছর বয়সেই তিনি অবশ্য ভিডিও গেম তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর বয়সের সঙ্গে এলন মাস্ক হয়ে ওঠেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। তাঁর নামের পাশে লেখা যায় পেপালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, টেসলা মোটর্স ও মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী হিসেবেও। তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানের তৈরি মহাকাশ যানে করে মঙ্গলগ্রহ জয় করার স্বপ্ন দেখেন। স্টিভের মতোই আকাশছোঁয়া সম্ভাবনার আকাঙ্ক্ষা তাঁর মনে। তিনি তাঁর কাজকে পছন্দ করেন এবং দলনেতা হিসেবেও সফল। তাঁর পক্ষে স্টিভ জবস হয়ে ওঠা সম্ভব। স্টিভ জবসের মতোই মানুষের পছন্দের কথা ভেবে পণ্য তৈরিতে এলন মাস্কের ভূমিকার কারণে তিনিই পরবর্তী স্টিভ জবস হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু এলন মাস্ককে এ জন্য স্টিভ জবসের মতোই সাধারণ মানুষের পণ্য তৈরির জন্য কাজ করতে হবে।

কে হচ্ছেন পরবর্তী স্টিভ জবস? - প্রথম আলো

কৃত্রিম স্বচ্ছ মাটি!


সম্প্রতি স্বচ্ছ জেলির মতো এক ধরনের কৃত্রিম মাটি তৈরিতে সফল হয়েছেন গবেষকেরা। উদ্ভিদের বৃদ্ধিসংক্রান্ত গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য এ কৃত্রিম মাটি তৈরি করেছেন স্কটল্যান্ডের গবেষকেরা। স্বচ্ছ এ মাটি উদ্ভিদের মূলের কাঠামো বৃদ্ধি এবং মাটির নিচের বাস্তুসংস্থান সম্পর্কে গবেষণার কাজে লাগানো যাবে।
স্কটল্যান্ডের জেমস হাটন ইনস্টিটিউট ও এবার্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা কৃত্রিম এ মাটি তৈরি করেছেন। জেমস হাটন ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বচ্ছ এই কৃত্রিম মাটি প্রসঙ্গে জেমস হাটন ইনস্টিটিউটের তাত্ত্বিক জীববিজ্ঞানী ও গবেষক লিওনেল দুপাই জানিয়েছেন, কৃত্রিম এই মাটি তৈরিতে দুই বছর ধরে গবেষণা করেছেন তঁারা। এই মাটির সঙ্গে প্রকৃতিতে থাকা মাটির সাদৃশ্য নেই। এ মাটি দেখতে অনেকটাই পঁিপড়ার খাবার ও পানি ধরে রাখার জন্য তৈরি এক ধরনের জেলির মতো। কৃত্রিমভাবে তৈরি স্বচ্ছ এ মাটিতে প্রাকৃতিক মাটির মতোই পুষ্টি, ব্যাকটেরিয়া ও গ্যাস ধরে রাখার মতো গুণাগুণ রয়েছে, যাতে উদ্ভিদ বেড়ে উঠতে পারে।
`পিএলওএস ওয়ান' সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এ মাটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে নাফিওন নামের এক ধরনের পদার্থ, যাকে বলা হয় সালফোনেটেড টেট্রাফ্লুরোইথিলিনভিত্তিক ফ্লুরোপলিমার-কোপলিমার। এ পদার্থ ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। নাফিওন মূলত স্বচ্ছ হলেও গবেষকেরা উদ্ভিদবিদ্যাসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করতে একে আরও স্বচ্ছ করেছেন। পলিমারের সঙ্গে আরও রাসায়নিক উপাদানযুক্ত করে এই কৃত্রিম মাটি তৈরিতে সফল হয়েছেন তঁারা।
গবেষকেরা জানান, কৃত্রিম মাটি উদ্ভিদের মূল গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যাবে, যা শস্য উত্পাদনের কাজে কম সারের প্রয়োজনীয়তা কমাতে সক্ষম হবে। এ ছাড়া উদ্ভিদ ও ব্যাকটেরিয়ার বিভিন্ন বাস্তুসংস্থান গবেষণা করা সম্ভব হবে। বর্তমানে গবেষকেরা এ মাটি তৈরির খরচ কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছেন।


কৃত্রিম স্বচ্ছ মাটি! - প্রথম আলো

‘টাকা তো সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বাড়িতে যাচ্ছিল,এর আগেও গেছে’-আজম খান



  • জিএম ইউসুফ আলী মৃধা
    জিএম ইউসুফ আলী মৃধা
  • কমান্ড্যান্ট এনামুল হক
    কমান্ড্যান্ট এনামুল হক
  • এপিএস ওমর ফারুক
    এপিএস ওমর ফারুক
1 2 3 4
‘টাকা তো সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বাড়িতে যাচ্ছিল। ওদিকে যাওয়ার পথেই আমি ঘটনা ঘটিয়ে ফেলি। এর আগেও কয়েকবার টাকা গেছে।’
রেলের বহুল আলোচিত অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাবেক রেলমন্ত্রী ও বর্তমানে দপ্তরবিহীনমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুকের গাড়ির চালক আজম খানের বক্তব্য এটি। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এসব কথা বলেন। 
গত ৯ এপ্রিল রাতে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঝিগাতলা গেট দিয়ে একটি গাড়ি ভেতরে ঢুকে পড়ে। ওই গাড়িটি ওমর ফারুকের আর সেটি চালাচ্ছিলেন আজম খান। গাড়ির যাত্রী ছিলেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ইউসুফ আলী মৃধা, তাঁর নিরাপত্তা কর্মকর্তা রেলওয়ের কমান্ড্যান্ট এনামুল হক ও রেলমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুক তালুকদার। তাঁরা কেউই এখন স্বপদে বহাল নেই।
আজম খান দাবি করেন, রেলের নিয়োগের ৭৪ লাখ টাকা মন্ত্রীর বাড়িতেই নেওয়া হচ্ছিল। টাকা বস্তায় ভরে চালক তা নিজেই গাড়িতে তোলেন। ওমর ফারুক রেলের নিয়োগ বাণিজ্য সিন্ডিকেটের মূল হোতা বলেও তিনি দাবি করেন।
সঙ্গে আর কেউ ছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আজম খান বলেন, ‘না না, আমার সঙ্গে অন্য কারও যোগসাজশ ছিল না। এমন না যে কাউকে চাকরি দিব বলে কারও কাছ থেকে টাকা এনেছি। এমন কিছু ছিল না। তবে এমন অনেক কিছুই রটেছে।’ 
আজমের ভাষ্য, বিপুল পরিমাণ টাকাসহ গাড়ি বিজিবিতে ঢুকিয়ে দেওয়ার সময় ওমর ফারুক তাঁর কাছে জানতে চান, গাড়ি নিয়ে তিনি কোথায় যাচ্ছেন? আজম দাবি করেন, ‘তখন আমি বললাম স্যার, এগুলো ঘুষের টাকা, দুর্নীতির টাকা, রেলের দুর্নীতির টাকা, এই টাকাসহ আমি আপনাদের ধরিয়ে দেব। এ জন্য আমি গাড়িটা ভেতরে ঢুকিয়েছি।’ 
আজম আরও দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি বিজিবির গেট খোলা পেয়েছেন এবং গাড়িটি থামানোর জন্য কোনো সংকেত দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষায়, ‘তারা আমাকে সিগন্যাল দেয়নি আর আমিও দাঁড়াইনি।’ এর পেছনে তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘গাড়িটা দিনে কয়েকবার এদিক দিয়ে আসা-যাওয়া করে। তারা হয়তো চিনছে, এ জন্য গুরুত্ব দেয়নি।’ 
বিজিবির ভেতরে গাড়ি ঢুকিয়ে দেওয়ার পর ওমর ফারুক প্রথমে ভয় দেখান এবং পরে অর্থের লোভ দেখান বলে আজম খান দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘ফারুক সাহেব তখন বললেন, “তুমি যে গাড়িটা ঢুকিয়েছ এটা ঠিক করনি।” পরে ওমর ফারুক তাঁকে বলেন, “এখান থেকে পাঁচ লাখ টাকা নাও। তুমি জিএম, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে নামিয়ে দাও। আর এখানের অর্ধেক তোমার, বাকি অর্ধেক আমার”।’ আজমের দাবি, তিনি রাজি না হলে ফারুক তাঁকে সব টাকা দিয়ে দেওয়ার লোভ দেখান। 
টাকাসহ গাড়ি ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার পর সকালে সেই টাকা গণনা করা হয়েছিল বলে চালক আজম খান দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে টাকা গোনা হয়। ৭৪ লাখ টাকা ছিল। বাইরের চালক এনে গাড়ি নিয়ে তারা চলে যায়।’
রেলের নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে মেজর মশিউর রহমান নামের একজন জড়িত ছিলেন বলে আজম খান দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে, তিন কোটি টাকা নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে তিনি জড়িত।’ ওমর ফারুকের মাধ্যমে তিনি কয়েক শ লোককে রেলে ঢোকাতে চেয়েছিলেন বলে আজম দাবি করেন।
আজম খানের দাবি, মন্ত্রীকে ১০ কোটি টাকা দিয়ে ৬০০ লোককে রেলে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে তিনি গাড়িতে আলোচনা শুনেছেন। তাঁর দাবি, ‘দোষটা করেছেন মন্ত্রী। এখন সরকারের ওপর সেটা চাপাতে চান।’ আজম এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্টদের তদন্ত কাজে সহায়তা করতে চান। কোনো দুর্নীতিবাজ যেন ছাড় না পায়—এমন দাবি জানিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের নিরাপত্তা চান। পালিয়ে বেড়ানো জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বজনদের কাছে ফিরতে চান।



টাকা সুরঞ্জিতের বাড়িতে যাচ্ছিল - প্রথম আলো

Wednesday, October 3, 2012

মাইক্রোসফটের ‘সারফেস’ স্মার্টফোন!


‘সারফেস’ নামে উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর ট্যাবলেটের ঘোষণার পর এবারে একই ব্রান্ডের স্মার্টফোন তৈরিতে কাজ করছে মাইক্রোসফট। ২০১৩ সালের প্রথমার্ধেই মাইক্রোসফটের নতুন স্মার্টফোন বাজারে আসতে পারে। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে চায়না টাইমস।
এদিকে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সারফেস ব্র্যান্ডের ট্যাবলেট কম্পিউটারের ঘোষণা দিয়ে যেভাবে চমক সৃষ্টি করেছে মাইক্রোসফট, একইভাবে স্মার্টফোন এনেও চমক দেখাতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। ইতিমধ্যে গোপনে স্মার্টফোন তৈরির কাজ শুরু করেছে মাইক্রোসফট। ট্যাবলেট কম্পিউটারের ঘোষণা দেওয়ার পর এবারে নিজস্ব ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন তৈরি করছে বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানটি। 
এ প্রসঙ্গে চায়না টাইমস জানিয়েছে, ইতিমধ্যে হার্ডওয়্যার নির্মাতার সঙ্গে মাইক্রোসফট আলোচনা সেরে ফেলেছে মাইক্রোসফট।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, উইন্ডোজ মোবাইল ফোন প্ল্যাটফর্মকে জনপ্রিয় করতে ফিনল্যান্ডের মোবাইল নির্মাতা নকিয়ার সঙ্গে কাজ করেছে মাইক্রোসফট। কিন্তু বাজার ধরতে নকিয়ার ব্যর্থতার পর এইচটিসির সঙ্গেও উইন্ডোজ মোবাইল ফোন নিয়ে কাজ শুরু করেছে মাইক্রোসফট। তবে মাইক্রোসফট কোন ব্র্যান্ড নাম নিয়ে স্মার্টফোন বাজারে আনবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। 
২০ জুন ‘উইন্ডোজ ফোন ৮’ নামে স্মার্টফোনের নতুন অপারেটিং সিস্টেমের ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট। ‘উইন্ডোজ ফোন ৮’ অপারেটিং সিস্টেমটি মাল্টি কোরের প্রসেসর ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সমর্থন করবে। চলতি বছরের অক্টোবর মাসেই অপারেটিং সিস্টেমটি উন্মুক্ত করা হবে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, এ সময় নিজস্ব ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিতে পারে মাইক্রোসফট।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ‘উইন্ডোজ ফোন ৮’ নির্ভর স্মার্টফোন তৈরি করবে নকিয়া, স্যামসাং, এইচটিসি ও হুয়াউয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর স্মার্টফোনের জন্য সফটওয়্যার নির্মাতা হিসেবে কাজ করবে মাইক্রোসফট। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, অন্য প্রতিষ্ঠানের জন্য সফটওয়্যার জোগানোর পাশাপাশি নিজস্ব ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন বাজারে আনতে পারে মাইক্রোসফট।

মাইক্রোসফটের ‘সারফেস’ স্মার্টফোন! - প্রথম আলো

শাহরুখ-প্রিয়াংকার লুকোচুরি!



শাহরুখ খান ও প্রিয়াংকা চোপড়া
শাহরুখ খান ও প্রিয়াংকা চোপড়া
খুব বেশি দিন হয়নি যখন শাহরুখ খান ও প্রিয়াংকা চোপড়ার ঘনিষ্ঠতার খবরে তোলপাড় উঠেছিল বলিউডপাড়ায়। অবশ্য শাহরুখপত্নী গৌরী খানের কঠোর অবস্থানের কারণে নিজেদের সম্পর্কে দেয়াল তুলতে বাধ্য হয়েছিলেন শাহরুখ-প্রিয়াংকা। কিন্তু সম্প্রতি এক খবরে জি-নিউজ দাবি করেছে, আবারও সেই দেয়াল ভেঙে কাছাকাছি এসেছেন তাঁরা। শুধু তা-ই নয়, বিষয়টি গোপন করারও সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলিউডের এই দুই তারকা। 
অনেক দিন থেকেই নিজের প্রথম অডিও অ্যালবামের কাজ করছেন প্রিয়াংকা। অ্যালবামটি মুক্তি পাবে এ বছরের ডিসেম্বরে। কিছুদিন আগে মুক্তি পেয়েছে সেই অ্যালবামের একটি গান ‘ইন মাই সিটি’। এই গানের মাধ্যমেই সংগীতশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন প্রিয়াংকা। এরই মধ্যে আইটিউনসের সেরা ১০০ গানের তালিকায় নাম লিখিয়েছে ‘ইন মাই সিটি’। 
এ জন্য প্রিয়াংকাকে শুভকামনা জানিয়ে শাহরুখ এক টুইটার বার্তায় লেখেন, ‘আশা করছি তোমার প্রথম অডিও অ্যালবাম অনেক ভালো করবে। তোমার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। অ্যালবামটি কেনার সময় আমি ছাড় পাব তো!’ এর জবাবে পালটা টুইটে শাহরুখকে ধন্যবাদ জানান প্রিয়াংকা। 
বন্ধু ও সহকর্মী হিসেবে শাহরুখ এবং প্রিয়াংকা টুইটারে শুভেচ্ছা বার্তা বিনময় করতেই পারেন। কিন্তু যে বিষয়টি সবার ভেতর খটকা তৈরি করেছে সেটা হলো, টুইটারে এই বার্তা চালাচালির কিছুক্ষণ পরই নিজেদের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বার্তাগুলো মুছে ফেলেন শাহরুখ এবং প্রিয়াংকা। এই লুকোচুরির কারণে আবারও তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা গল্প ডালপালা মেলতে শুরু করেছে বলিউডপাড়ায়।


শাহরুখ-প্রিয়াংকার লুকোচুরি! - প্রথম আলো

রিকশার টানে বাংলাদেশে


সিসিলিয়া আমি কিতাজিমা। জাপানি এই তরুণ চিত্রপরিচালক রিকশার টানে একাধিকবার এলেন বাংলাদেশে। মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের রিকশা দেখে। ঠিক করেছেন, আগামী বছর আয়োজন করবেন এক রিকশা-উৎসবের। এ ছাড়া নির্মাণ করবেন রিকশা নিয়ে তথ্যচিত্র

সিসিলিয়া আমি কিতাজিমা বাংলাদেশে প্রথম এসেছিলেন গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। জাপানের এই তরুণ চিত্রনির্মাতার পরিকল্পনা ছিল, এশিয়ার কয়েকটি দেশ নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি করবেন। নানা কারণে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। খানিকটা হতাশই হয়েছিলেন কিতাজিমা। তবে সেই হতাশা ভুলে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের রিকশা দেখে! এত কিছু থাকতে রিকশা! পুরান ঢাকায় রিকশায় করে ঘুরতে ঘুরতে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন কিতাজিমা, ‘জাপানের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব ভালো। জীবনযাপনের মান অনেক উন্নত। কিন্তু সেখানে আনন্দ খুঁজে পাই না আমি। অথচ বাংলাদেশ দারুণ আনন্দ-জাগানিয়া একটা দেশ। বিশেষ করে এখানকার রিকশাচালক আর রিকশা দেখে মনে হয়েছে, এখানে অনেক রং! অনেক দুঃখ-কষ্ট থাকলেও এখানে প্রাণ আছে!’
প্রাণের স্পন্দন পেয়েছেন বলেই বাংলাদেশের রিকশাচালক, রিকশা আর রিকশাচিত্র নিয়ে কাজ করতে চাইছেন কিতাজিমা। কী ধরনের কাজ? রিকশায় প্রবল ঝাঁকুনি, তার পরও মুখে হাসি ফুটিয়ে বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশেই রেস, মানে দীর্ঘ দৌড় প্রতিযোগিতা হয়। বিশেষ করে আমাদের দেশের টোকিও ম্যারাথনের কথা বলতে পারি। এটা খুব বিখ্যাত হয়ে গেছে। এ রকমই একটা রেসের আয়োজন করতে চাই। এই রেস হবে রিকশার। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা থেকে একজন করে রিকশাচালক তাঁদের রিকশা নিয়ে অংশ নেবেন এতে। মোট কথা, একটা রিকশা-উৎসবই করতে চাইছি আমরা।’
জানিয়ে রাখা ভালো, জাপানি এই পরিচালক প্রথমে একদম ব্যক্তিগত উদ্যোগেই বাংলাদেশের রিকশা নিয়ে কাজ করার কথা ভেবেছিলেন। তবে এখন তাঁর পাশে অনেকেই দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) চাইছে কিতাজিমার সঙ্গে থাকতে। আগামী বছর বাংলাদেশে জাইকার উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার ৪০ বছর পূর্তি হবে। এ উপলক্ষে নানা কার্যক্রমও হাতে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাই তারা কিতাজিমাকে প্রস্তাব দিয়েছে আগামী বছরের মার্চ মাসে তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও জাপানের দুই দূতাবাস এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনও যুক্ত আছে কিতাজিমার উদ্যোগের সঙ্গে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসেছিলেন কিতাজিমা। আমাদের সঙ্গে কথা হলো ২৭ সেপ্টেম্বর। জন্ম আর্জেন্টিনার বুয়েনেস এইরেসে, বেড়ে ওঠা জাপানেই। বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্রের এই নির্মাতা কাজ করছেন জাপানের টেলি ইউজ ইনস্টিটিউট নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। ২৯ সেপ্টেম্বর জাপানে ফিরে যাওয়ার আগে জানালেন, কেবল রিকশা রেসই নয়, ওই রেসের সময় সব দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করবেন তিনি। সেটা দিয়েই হবে তথ্যচিত্র। এ ছাড়া পরে পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র তৈরিরও পরিকল্পনা আছে তাঁর। ‘তথ্যচিত্র তৈরি করব ঠিক করেছি। আর ঠিক করেছি, ৬৪টি জেলার রিকশাচালকেরা তাঁদের এলাকার চেয়ারম্যানদেরও নিয়ে আসবেন সঙ্গে। ওই রেসের সময় চেয়ারম্যানরা বসে থাকবেন রিকশায়। তাঁদের হাতে থাকবে নিজ নিজ এলাকার অধিক উৎপাদিত ও বিখ্যাত সব পণ্য। যেমন ধরুন, টাঙ্গাইল থেকে যিনি আসবেন, তাঁর হাতে থাকবে টাঙ্গাইল শাড়ি। বগুড়া থেকে যিনি আসবেন, তার হাতে থাকবে দই।’
এমনটা কেন করবেন? ব্যাখ্যা করলেন কিতাজিমা, ‘এই রেসের মাধ্যমে রিকশাওয়ালা ও সমাজের উঁচু শ্রেণীর মানুষের মধ্যে যে দূরত্ব, সেটা ঘোচানোর ইঙ্গিত থাকবে। এ ছাড়া যিনি দই নিয়ে আসবেন, তিনি সবাইকে বলবেন, “দেখো, এটা আমাদের এলাকার দই, অনেক বিখ্যাত।”’ 
তার মানে এই উদ্যোগে বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণও আছে? মাথা নাড়লেন কিতাজিমা, ‘হ্যাঁ, আছে। কারণ, রেসের সময় আমরা বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অনেক জাপানিকেও আমন্ত্রণ জানাব। তাতে করে রিকশাচালকদের এলাকার পণ্যের প্রচার হবে। পাশাপাশি রিকশাও যে পর্যটনশিল্পে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, তা দেখানো যাবে।’
একইভাবে রিকশাচিত্রের ব্যাপারেও সমাজের দুই স্তুরের শিল্পীদের একসঙ্গে করতে চান কিতাজিমা। রিকশা-উৎসবে রেসের পাশাপাশি বাংলাদেশের নামজাদা চিত্রশিল্পীদের পাশে বসে ছবি আঁকবেন রিকশাচিত্রকরেরাও। এসব মিলিয়ে হবে উৎসব।
পুরান ঢাকার অলিগলি ঘুরতে ঘুরতে ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো! রিকশা থেকে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছুঁয়ে কিতাজিমা বলেন, ‘আগামী নভেম্বর মাসে আবার বাংলাদেশে আসব। তখন সবার সঙ্গে বৈঠক করে ঠিক করব, উৎসবটা কীভাবে হবে না-হবে। তবে রেস হবে জাতীয় সংসদের সামনে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিও মিলেছে। আসলে এই দেশের সবাই এত ভালো, প্রথমবার এসেই মুগ্ধ হয়ে গেছি। বিশেষ করে এই রিকশাওয়ালাদের দেখুন, বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে কত কষ্টই না করছেন! কিন্তু মুখে সারাক্ষণ হাসি লেগেই আছে।’
রিকশার টানে বাংলাদেশে - প্রথম আলো

‘অদৃশ্য শক্তিই বুদ্ধকে বাঁচিয়ে রেখেছে’



  • মিঠাছড়ির এই নবনির্মিত বুদ্ধমূর্তিটি ১০০ ফুট দীর্ঘ। সাম্প্রতিক সহিংসতায় আঘাতের পর আঘাত করা হয়ে��
    মিঠাছড়ির এই নবনির্মিত বুদ্ধমূর্তিটি ১০০ ফুট দীর্ঘ। সাম্প্রতিক সহিংসতায় আঘাতের পর আঘাত করা হয়েছে এই মূর্তিটিকে। তবুও মোটামুটি অক্ষত রয়েছে এটি
    ছবি: প্রথম আলো
  • বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দিরে ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্ত�
    বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দিরে ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে খাগড়াছড়ির কল্যাণপুর এলাকার মৈত্রী বৌদ্ধবিহারের উদ্যোগে গতকাল শহরের শাপলা চত্বরে মাববন্ধন করা হয়
    ছবি: প্রথম আলো
  • ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পর রামু সদরের ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়ার এই পরিবার আশ্রয় নেয় তাঁবুতে। গতক�
    ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পর রামু সদরের ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়ার এই পরিবার আশ্রয় নেয় তাঁবুতে। গতকাল সেই তাঁবুতেও বৃষ্টির পানি ঢোকায় বাইরে এসে দাঁড়িয়ে আছে পরিবারের সদস্যরা ষ ছবি: প্রথম আলো
    ছবি: প্রথম আলো
1 2 3
‘৪০০ থেকে ৫০০ লোক শাবল-খুঁন্তি নিয়ে আধা ঘণ্টা ধরে এই মূর্তিতে আঘাত করেছে। কিন্তু দুটি অংশে ফাটল ছাড়া ১০০ ফুট লম্বা এশিয়ার বৃহৎ এই মূর্তির কিছুই হয়নি। অদৃশ্য শক্তিই বুদ্ধকে বাঁচিয়ে রেখেছে। অদৃশ্য শক্তির কাছে অপশক্তির পরাজয় হয়েছে।’ 
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের রামু উপজেলার উত্তর মিঠাছড়ি পাহাড়চূড়ায় স্থাপিত বিমুক্তি ভাবনা কেন্দ্রে বৌদ্ধবিহার পরিদর্শনে গেলে বিহারের প্রতিষ্ঠাতা করুণাশ্রী ভিক্ষু মহাথের এ কথা বলেন। তিনি জানান, মিয়ানমারের কারিগরেরা বিশেষ এই মূর্তিটি তৈরি করেন। তৈরির টাকা জোগান দিয়েছে থাইল্যান্ড, চীন ও জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন। ২০০৬ সালে এটির নির্মাণ শুরু হয়। শেষ হয়েছে কয়েক মাস আগে। কিছুদিনের মধ্যে এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। এর আগে সোনালি রং লাগিয়ে মূর্তিটি আকর্ষণীয় করা হয়েছে। 
কক্সবাজার শহর থেকে সিংহমূর্তিটির অবস্থা দেখতে এসেছেন কয়েকজন রাখাইন নারী। এঁদের একজন মা ছিন হ্লা (৪৪) বলেন, ‘একটা লোক অন্যায় করে ফেসবুকে আপত্তিকর একটি ছবি লাগিয়েছিল। আর তার জন্য আরেকটি ধর্মের দেবতাকে শাস্তি পেতে হবে কেন?’ 
এর আগে রামুর কেন্দ্রীয় সীমাবিহারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় আট মাস আগে থাইল্যান্ড থেকে আনা প্রায় আট মণ ওজনের গৌতম বুদ্ধের সোনালি মূর্তিটির ডান চোখ নেই। আগুনের ফুলকিতে এটি উড়ে গেছে। নিচের দুই পা পুড়ে কালো হয়ে গেছে। দূরের লোকজন প্রধান ফটক দিয়ে মন্দিরে ঢোকামাত্র এই কঠিন দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। বিশাল এই মূর্তির নিচে সাজিয়ে রাখা হয়েছে আরও ছোট-বড় অর্ধশতাধিক পোড়া মূর্তি।
এই বিহারের সহকারী পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, শনিবার গভীর রাতের অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এই মন্দিরের তিন শতাধিক ছোট-বড় মূর্তি পুড়ে গেছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক পোড়া মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য আরও ১১টি মন্দিরে পুড়ে গেছে ছোট-বড় আরও তিন শতাধিক মূর্তিসহ প্রাচীন নিদর্শন। 
রামু উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুসরাত জাহান বলেন, সোমবার বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে খোলা আকাশের নিচে থাকা শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশু বেকায়দায় পড়ে। পরে সেনাসদস্যরা ৩০টি পরিবারের মধ্যে তাঁবু বিতরণ করেন।
উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মেরংলোয়া বড়ুয়াপাড়ায় শনিবার রাতের অগ্নিসংযোগে একসঙ্গে ১৫টি বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। গতকাল সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, নারী-শিশুরা তাঁবুর ভেতরে-বাইরে জটলা করছে। বৃষ্টির কারণে তাঁবুর নিচের মাটি ভিজে গেছে। বড়ুয়াপাড়ার বৃদ্ধা অনন্যা বালা বড়ুয়া (৭০) বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাঁবু দিয়ে আমাদের উপকার করেছেন। কিন্তু বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ায় তাঁবুতে থাকা যাচ্ছে না। আমাদের পুড়ে যাওয়া ঘর কখন ফিরে পাব?’


‘অদৃশ্য শক্তিই বুদ্ধকে বাঁচিয়ে রেখেছে’ - প্রথম আলো